Saturday, June 20, 2026

মুহাররম ও আশূরাঃ কুসংস্কার ও সুন্নাহ বিরোধী আমলসমূহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মুহাররম ও আশূরাঃ কুসংস্কার ও সুন্নাহ বিরোধী আমলসমূহ

 
লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম

আশুরাকে নিয়ে এদেশের ভন্ড পীর অলিদের ভন্ডামির শেষ নেই। বিশ্বের সূফীদের সম্রাট দাবীকৃত সূফী সম্রাট সৈয়দ মাহবুব এ খোদা দেওয়ানবাগী বলেছেন, “আশুরার দিবসে আল্লাহ বসেন আরশে”।

ভন্ড পীর অলিরা আরও বলেন, আশুরার দিবসে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশ্তাদের নিয়ে মিলাদ করেন। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা ফেরেশ্তাদের নিয়ে মিলাদ করেন সেই আনন্দে দুনিয়ার মুসলমানরা আশুরার দিবসে তাজিয়া মিছিলসহ অন্যান্য আনন্দ ফূর্তি করলে দোষের কিছু নেই। আসলে তাদের এসব বাণী কতোটুকু সত্য তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ এসব ভন্ড পীর অলিদের কারণে সহজ সরল মুসলমানগণ এদের খপ্পরে পড়ে প্রতিনিয়ত ঈমানহারা হচ্ছে।

আল্লাহ তা‘আলা বারো মাসের মধ্যে মুহাররম, রজব, যুলক্বা‘দাহ ও যুলহিজ্জাহ এই চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এই মাসগুলো ‘হারাম’ বা সম্মানিত মাস হিসাবে পরিগণিত। ঝগড়া-বিবাদ, লড়াই, খুন-খারাবী ইত্যাদি অন্যায়-অপকর্ম হ’তে দূরে থেকে এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। যেমন আল্লাহ বলেন, “এই মাসগুলিতে তোমরা পরস্পরের উপরে অত্যাচার কর না”। (সুরা আততওবা ৯/৩৬)।

বারো মাস সমূহের মধ্যে প্রথম মাস হলো মুহাররম মাস। মুহাররম মাসের সাথে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে। রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক আশূরার ছিয়াম পালন ও এর ফযীলত বর্ণনার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই এ মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হ’ল, রাসূল (ছাঃ) যে উদ্দেশ্যে আশূরার ছিয়াম পালন করেছেন, আমরা তাঁর উদ্দেশ্যের কথা ভুলে গিয়ে এমন উদ্দেশ্যে ছিয়াম পালন করছি যা কুরআন ও সুন্নাতের সম্পূর্ণ বিরোধী। সাথে সাথে এমন সব বিদ‘আতে লিপ্ত হয়েছি যা থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী।

শিয়া নামক মুসলিমরা মুহাররম মাসের আশুরাকে কেন্দ্র করে শিরক ও বিদআতিমূলক যতো প্রকার কর্মকান্ড আছে এরা সবই করে , সেই সাথে আমাদের দেশের পীর বা সুফিবাদীরাও একই কর্মসূচী পালন করে থাকে। অথচ রাসুল সা. মুহাররম ও আশূরাকে নিয়ে যতোটুকু বলেছেন এবং তাঁরা যতোটুকু আমল করেছেন এর বাহিরে আমল করা বা অতিরিক্তি প্রেম-প্রীতি দেখাতে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

মুহাররম মাসের ফযীলতঃ ইসলামী শরী‘আতের আলোকে মুহাররম মাসের অনেক ফযীলত রয়েছে।

(১) এটা হারাম মাসঃ চারটি হারাম তথা সম্মানিত মাসের মধ্যে অন্যতম হলো মুহাররম। মহান আল্লাহ বলেন,

‘নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে আল্লাহর বিধানে মাসসমূহের গণনা হ’ল বারোটি। যার মধ্যে চারটি মাস হ’ল ‘হারাম’ (মহাসম্মানিত)। এটিই হ’ল প্রতিষ্ঠিত বিধান’। (সুরা আততওবা ৯/৩৬)।

আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেন,

‘আল্লাহ যেদিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন হ’তে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা‘দাহ, যুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হ’ল রজব-ই-মুযার (আরবের মুযার সম্প্রদায় অন্যান্য সম্প্রদায় অপেক্ষা রজব মাসের সম্মান প্রদর্শনে অতি কঠোর ছিল। তাই এ মাসটিকে তাদের দিকে সম্বন্ধিত করে হাদীছে ‘রজব-ই মুযার’ বলা হয়েছে)।

যা জুমাদা ও শা‘বান মাসের মাঝে অবস্থিত’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ৩১৯৭; সুনান আবূদাঊদ ১৯৪৭, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে,

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ)...আবূ বকরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। (অর্থাৎ- তাতে যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম) এর তিন মাস হল ধারাবাহিক- ১. যুল কাদা, ২. ফুলহাজ্জাহ্ এবং ৩. মুহররাম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জামাদিউস্ সানী এবং শা’বানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক জানেন।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়ত এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ এ-কি "যুলহাজ্জাহ্" মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এ-কি (মক্কা) শহর নয়। আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ কোন দিন? আমরা বললাম আল্লাহ ও তার রসূল অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেনঃ এ-কি ইয়াওমুন্নাহার (ঈদুল আযহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল!

তিনি বললেন। তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেন। এগুলো তেমন মর্যাদাপূর্ণ যেমন তোমাদের কাছে আজকার দিবস, এ নগর এবং এ মাসও পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ে না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌছে দিবে। সম্ভবতঃ উপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌছে দিবে, তারা কেউ কেউ হয়ত এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। এরপর তিনি বললেনঃ ওহে! শুনো, আমি কি আল্লাহর নির্দেশ পৌছে দেইনি? (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪২৭৫, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৬, ইসলামিক সেন্টার ৪২৩৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(২)  এই মাসের ছিয়াম রামাযানের পরে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণঃ  কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ)....আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযানের সিয়ামের পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের সওম এবং ফারয (ফরয) সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হচ্ছে রাতের সালাত। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)  ১১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৬২২, ইসলামীক সেন্টার ২৬২১, সুনান আবূদাঊদ ২৪২৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আশূরা কী?

আরবী ‘আশারা (عشر) শব্দ থেকে এসেছে ‘আশূরা (عاشوراء)। ‘আশারা অর্থ দশ আর ‘আশূরা অর্থ দশম, মাসের দশম দিন। হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখকে আশূরা বা আশূরায়ে মুহাররম বলা হয়।

আশূরার করণীয়ঃ

আমাদের সমাজে কথিত ভন্ড পীর অলি, সুফি সাধকগণ আশূরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আমলের প্রচলন ঘটিয়েছে। সবচেয়ে বেশী ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড পালন করে থাকে শিয়া নামক মুসলিমরা। যেগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের আলোকে আশূরায় মূল করণীয় হলো নিম্নরুপ। এর বাহিরে কোনো আমল নেই। যেমনঃ

(১) হারাম মাস হিসাবে এ মাসকে সম্মান করাঃ মুহাররম মাস বছরের চারটি হারাম মাসের অন্যতম। অন্যান্য হারাম মাসের ন্যায় এ মাসে বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে এ মাসকে সম্মান করতে হবে।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল ক্বায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এরা কোন্ গোত্রের লোক (বা কোন্ প্রতিনিধি দল)? লোকেরা জবাব দিল, এরা রবী’আহ্ গোত্রের লোক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, গোত্র বা প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! অপমান ও অনুতাপবিহীন অবস্থায় আগত প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! প্রতিনিধি দল আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ও আমাদের মধ্যে কাফির যুদ্ধবাজ মুযার বংশ অন্তরায়স্বরূপ থাকায় হারাম মাস ব্যতীত অন্য মাসে আপনার নিকট আসতে পারি না। তাই আপনি হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী এমন কিছু পরিষ্কার নির্দেশ দিন যা আমরা মেনে চলব এবং যাদেরকে দেশে রেখে এসেছি তাদেরকে গিয়ে বলতে পারব। যা দ্বারা আমরা (সহজে) জান্নাতে যেতে পারি। এর সাথে তারা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) পানীয় বস্তু (পান পাত্র) সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন।

প্রত্যুত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে চারটি কাজের আদেশ দিলেন আর চারটি কাজ হতে নিষেধ করলেন। (প্রথমে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ করলেন এবং বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ কি, তা কি তোমরা জান? তারা জবাবে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল ই অধিক ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,

(১) আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল - এ সাক্ষ্য দেয়া।

(২) সালাত ক্বায়িম করা।

(৩) যাকাত আদায় করা। এবং (৪) রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। এরপর (চারটি কাজ ছাড়াও) গনীমাতের (জিহাদলব্ধ মালের) ’খুমুস’ এক-পঞ্চমাংশ দেয়ার হুকুম দিলেন।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারটি (মদের) পানপাত্র ব্যবহার নিষেধ করলেন। এগুলো হলোঃ হানতাম (নিকেল করা সবুজ পাত্র), দুব্বা (কদুর খোল দ্বারা প্রস্তুতকৃত পাত্রবিশেষ), নাকীর (গাছের বা কাঠের পাত্রবিশেষ), মুযাফফাত (তৈলাক্ত পাত্রবিশেষ, এ জাতীয় পাত্রে তৎকালীন সময়ে মদ ব্যবহার করা হত)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, এ সকল কথা ভালোভাবে স্মরণ রাখবে। যাদের দেশে ছেড়ে এসেছো তাদেরকেও বলবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৭,  সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ)  ৫৩, ৮৭, ৫২৩, ১৩৯৮, ৩০৯৫, ৩৫১০, ৪৩৬৮, ৪২৬৯, ৬১৭৬, ৭২৬৬, ৭৫৫৬, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭২, আহমাদ ২০২০, সহীহ আল জামি‘ ১০, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(২) ছিয়াম পালন করাঃ  এ মাসের অন্যতম কাজ হলো এ মাসের দশ তারিখে ছিয়াম পালন করা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মক্কাতে অবস্থান কালে এ ছিয়াম পালন করতেন। মক্কার কুরায়শরাও এই দিনকে সম্মান করত ও ছিয়াম পালন করত। (ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৬১-৭৫১ হিঃ), যাদুল মা‘আদ ২/৬৭)।

আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ‘আশূরার সওম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও এ সওম পালন করতেন। যখন তিনি মাদ্বীনায় আগমন করেন তখনও এ সওম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমাযানের সওম ফরজ করা হল তখন ‘আশূরার সওম ছেড়ে দেয়া হলো, যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০২, ১৫৯২, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫২৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১২৫, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৩, সুনান আবূদাঊদ ২৪৪২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

মদীনায় হিজরতের পর তিনি এ ছিয়াম পালন করতেন ও ছাহাবায়ে কেরামকে ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

‘নবী করীম (ছাঃ) মদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইহুদীরা আশূরার দিনে ছিয়াম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে ছিয়াম পালন কর কেন?) তারা বলল, এটি অতি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হ’তে নাজাত দান করেছেন। ফলে এ দিনে মূসা (আঃ) ছিয়াম পালন করতেন। রাসূল (ছাঃ) বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে ছিয়াম পালন করেন এবং (লোকদেরকে) ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) বুখারী ২০০৪, ৩৩৯৭, ৩৯৪৩, ৪৬৮০, ৪৭৩৭, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৪৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩০, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৫, সুনান ইবনে মাজাহ ১৭৩৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

রামাযানের ছিয়াম ফরয হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুহাররম মাসের দশ তারিখে ছিয়াম পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ছাহাবীগণও আশূরার ছিয়াম পালনের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতেন। রুবাইয়ি‘ বিনতু মু‘আবিবয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

‘আশূরার সকালে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আনছারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি ছিয়াম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকী অংশ না খেয়ে থাকে। আর যার ছিয়াম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন ছিয়াম পূর্ণ করে। তিনি (রুবাইয়ি‘) (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন ছিয়াম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের ছিয়াম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ১৯৬০, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫৯, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩৬, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৩৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যখন শিশুরা আমাদের কাছে খাবার চাইত, আমরা তাদের খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম যতক্ষণ না তারা তাদের ছিয়াম পূর্ণ করত’।

আবূ বকর ইবনু নাফি আল আবদী (রহঃ)....রুবায়’ই বিনতু মু’আববিয ইবনু আফরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন ভোরে এক ব্যক্তিকে মদীনার পার্শ্ববর্তী আনসারী সাহাবীগণের জনপদে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন এ ঘোষণা করে দেয় যে, সিয়াম (রোজা/রোযা)রত অবস্থায় যার ভোর হয়েছে, সে যেন তার সওমকে পূর্ণ করে। আর যার ইফত্বার অবস্থায় ভোর হয়েছে, সে যেন তার দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত অবস্থায় পূর্ণ করে। এরপর আমরা এ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের ছোট ছোট সন্তানদেরকেও আল্লাহ চাহে তো সওম পালনে অভ্যস্ত করে তুলতাম। আমরা তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম এবং তাদের জন্য পশমের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাওয়ার জন্য কাঁদত, তখন আমরা তাদেরকে সে খেলনা প্রদান করতাম। এমনি করে ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫৯, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৩৬, ইসলামীক সেন্টার ২৫৩৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে ‘আশূরার দিনের ছিয়ামের উপরে অন্য কোন দিনের ছিয়ামকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রামাযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি)। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০৬; সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩২, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ্ (রহঃ)...হাকাম ইবনু আ’রাজ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে পৌঁছলাম। এ সময় তিনি যমযমের কাছে চাঁদর বিছানো অবস্থায় বসা ছিলেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমাকে আশুরা দিবসের সিয়াম পালন সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে তিনি বললেন, মুহররম মাসের চাঁদ দেখার পর তুমি এর তারিখগুলো গুণে রাখবে। এরপর নবম তারিখে সওম অবস্থায় তোমার যেন ভোর হয়। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সেদিন সিয়াম পালন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছেন। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)  ২৫৫৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৩১, ইসলামীক সেন্টার ২৫৩০, সুনান আততিরমিযী ৭৫৪; আহমাদ ২২১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আশূরার ছিয়ামের হুকুমঃ

আশূরার ছিয়াম পালন করা সুন্নাত। (ছালেহ আল-উছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৬/৪৬৭)।

হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, যে বছর মু‘আবিয়া (রাঃ) হজ্জ করেন, সে বছর আশূরার দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, ‘হে মদীনাবাসীগণ! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আজকে আশূরার দিন, আল্লাহ তা‘আলা এর ছিয়াম তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে, তবে আমি ছিয়াম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে ছিয়াম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০৩; সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৪৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১২৯, ইবনু হিববান ৩৬২৬, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আশূরার ছিয়ামের ফযীলতঃ

(১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ দিনের ছিয়ামকে বেশী প্রাধান্য দিতেন।

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

‘আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে আশূরার দিনের ছিয়ামের উপরে অন্য কোন দিনের ছিয়ামকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রামাযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি)’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০৬, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩২, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করীম (ছাঃ) রামাযানের ছিয়ামের পর আশূরার দিন ছাড়া কোন দিনকে অন্য দিন অপেক্ষা মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করতেন না’। (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/২৭২০; ছহীহ তারগীব হা/১০০৬)।

(২) এক বছরের গুনাহের কাফফারাঃ 

আশূরার ছিয়াম পূর্ববর্তী এক বছরের ছগীরা গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আর আশূরার ছিয়াম, আমি আশা করি (এর বিনিময়) বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে’। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৬৩৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৬২, সুনান আবূদাঊদ ২৪২৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আশূরার ছিয়াম কতদিন?

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মক্কায় ও মদীনায় প্রথম দিকে মুহাররম মাসে এক দিন ছিয়াম পালন করতেন। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০৪ ২০০২;  সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫২৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১২৫; সুনান আবূদাঊদ ২৪৪২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

পরবর্তীতে ইহুদীদের বিরোধিতা করার জন্য ৯ তারিখসহ দুই দিন ছিয়াম পালনের আশা প্রকাশ করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) যখন নিজে আশূরার দিন ছিয়াম রাখলেন এবং আমাদেরকেও এ ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন, তখন লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! ইহুদী ও খৃষ্টানরা এ দিনটিকে সম্মান করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন,

‘আগামী বছর আসলে আমরা নবম দিনেও ছিয়াম পালন করব। কিন্তু আগামী বছর না আসতেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করেন’। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩৪, সুনান আবূদাঊদ ২৪৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৩৩, ইসলামীক সেন্টার ২৫৩২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘তোমরা ৯ ও ১০ তারীখে ছিয়াম রাখ এবং ইহুদীদের বৈপরীত্য কর’। (সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ৭৫৫; বায়হাক্বী ৮৬৬৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

সুতরাং মুহাররমের দু’টি ছিয়াম পালন করা উত্তম। এক্ষেত্রে দশ তারিখের আগের দিন বা পরের দিন ছিয়াম রাখা যেতে পারে। ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘তোমরা আশূরার ছিয়াম পালন কর এবং ইহুদীদের বিরোধিতা করো। তোমরা আশূরার আগের দিন অথবা পরের দিন ছিয়াম পালন কর’। (আহমাদ হা/২১৫৪; ইবনে খুযায়মা হা/২০৯৫; জামে‘উছ ছগীর হা/৫০৫০)।

আশূরার ইতিহাসঃ

আল্লাহ কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের অন্যতম হলো ফেরাঊনের জাতি। আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াতের জন্য মূসা (আঃ) ও তাঁর ভাই হারূন (আঃ)-কে নবী হিসাবে প্রেরণ করেন। আর আসমানী কিতাব তাওরাত নাযিল করেন। মূসা (আঃ)-এর জন্মের পূর্ব থেকেই বণী ইসরাঈলের উপর ফেরাউন অত্যাচার করত। ফেরাউন নিজেকে ইলাহ দাবী করল এবং মূসা (আঃ)-এর কওমের উপর অত্যাচার আরো বৃদ্ধি করে দিল। ফলে মূসা (আঃ) আল্লাহর আদেশে একরাতে (সুরা ত্বা-হা ২০/৭৭, সুরা শু‘আরা ২৬/৫২) তাঁর অনুসারীদের নিয়ে চলে যাওয়ার সময় সমুদ্র বাধা হয়ে দাঁড়াল। আল্লাহ মূসাকে লাঠি দ্বারা সাগরে আঘাত করার আদেশ দিলে সাগর ভাগ হ’ল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতের মত হয়ে গেল’। (সুরা শু‘আরা ২৬/৬৩)।

সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ফেরাঊন তাদের পিছনে ধাওয়া করল। আল্লাহ মূসা ও তাঁর জাতিকে আল্লাহ রক্ষা করলেন আর ফেরাঊন ও তার জাতিকে পানিতে নিমজ্জিত করে ধ্বংস করলেন। (সুরা আল বাক্বারাহ ২/৫০)।

আল্লাহ বলেন,

‘আর আমরা বনু ইস্রাঈলকে সাগর পার করে দিলাম। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল ফেরাঊন ও তার সেনাবাহিনী হঠকারিতা ও বাড়াবাড়ি বশে। অতঃপর যখন সে ডুবতে লাগল তখন বলে উঠল, আমি ঈমান আনলাম এই মর্মে যে, কোন উপাস্য নেই তিনি ব্যতীত যার উপরে বনু ইস্রাঈলগণ ঈমান এনেছে। আর আমি তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (আল্লাহ বললেন) এখন? অথচ ইতিপূর্বে তুমি অবাধ্যতা করেছিলে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে’। (সুরা ইউনুস ১০/৯০-৯১)।

এই মহান দিনটি ছিল মুহাররম মাসের দশ তারিখ তথা আশূরার দিন। ইহুদীরা এই দিনকে সম্মান করত ও গুরুত্ব দিত। আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আশূরার দিনকে ইহুদীগণ ঈদ (উৎসবের দিন) মনে করত। নবী করীম (ছাঃ) (ছাহাবীগণকে) বললেন, তোমরাও এ দিনের ছিয়াম পালন কর’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ২০০৫; ৩৯৪২, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২৫৫০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩১, আহমাদ ১৯৬৮৯, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৭৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘খায়বারের ইহুদীরা আশূরার দিন ছিয়াম পালন করত। তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোষাকে সুসজ্জিত করত। এরপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমরাও এ দিনে ছিয়াম পালন কর’। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)  ২৫৫১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১১৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫২৮, ইসলামীক সেন্টার ২৫২৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আশূরা সম্পর্কিত দুর্বল ও মিথ্যা বর্ণনাঃ

(১) আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আশূরার দিন নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য উদার হস্তে খরচ করবে আল্লাহ তা‘আলা সারা বছর উদারহস্তে তাকে দান করবেন। সুফিয়ান ছাওরী বলেন, আমরা এর পরীক্ষা করেছি এবং কথার সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি’। (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩৭৯৫; মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৯২৬, যঈফাহ হা/৬৮২৪; যঈফুল জামে‘ হা/৫৮৭৩)। হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)।

(২) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি আশূরার দিবসে ইছমিদ নামক পাথরের সুরমা ব্যবহার করবে, সে কখনও ঝাপসা দেখবে না’। (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩৭৯৭। ছহীহাহ হা/৬২৪, মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (মৃত. ১০১৪) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। আসরারুল মারফু‘আত হা/৩২০। হাদীছটি জাল।

(৩) আরেকটি বর্ণনা, ‘যে ব্যক্তি আশূরার দিন গোসল করবে সে এই বছর রোগাক্রান্ত হবে না। আর যে ব্যক্তি আশূরার দিন চোখে সুরমা লাগাবে তার এই বছর চোখের কোন রোগ হবে না’। (শায়খ বিন বায (মৃত. ১৪১৯ হিঃ) হাদীছটিকে জাল বলেছেন। মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ২৬/২৪৯, ইবনে বায, আত-তুহফাতুল কারীমা পৃ: ৯০)। হাদীছটি জাল।

ইবনু তায়মিয়া (রঃ) বলেন, আমাদের কোন আলেম আশূরার দিন গোসল করাকে পসন্দ করতেন না এবং চোখেও সুরমা লাগাতেন না।... আর রাসূল (ছাঃ)ও এরূপ করেননি। এরূপ করেননি আবু বকর, ওমর, ওছমান ও আলী (রাঃ)ও। (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ৪/৫১৩-৫১৪)।

(৪) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, ‘আশূরা হ’ল তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের ঈদের দিন। সুতরাং তোমরা এই দিন ছিয়াম পালন কর’। (সুয়ূতী, জামেউছ ছাগীর হা/৫৩৪৭; বায্যার হা/৯৮১৩; দায়লামী, আল-ফেরদৌস হা/৮৯৮৯। আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। যঈফাহ হা/৩৮৫১; যঈফুল জামে‘ হা/৩৬৭০। মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ৩/১৮৮। হায়ছামী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন।

(৫) আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত,

‘যে আশূরার দিন ছিয়াম পালন করবে আল্লাহ তার জন্য সত্তর বছরের ছিয়াম ও ক্বিয়ামের নেকী লিখে দিবেন। যে আশূরার দিন ছিয়াম পালন করবে তার জন্য দশ হাযার ফেরেশতার সমান ছওয়াব দেওয়া হবে। আর যে আশূরার দিন ছিয়াম পালন করবে তাকে হজ্জ ও ওমরার ছওয়াব দেওয়া হবে’। (ইবনুল ক্বাইয়িম এটাকে জাল বলেছেন। মাওযূ‘আত ইবনে জাওযী ২/৫৭০। বায়হাক্বী এটাকে মুনকার বলেছেন। ফাযায়েলুল আওক্বাত পৃঃ ১০৫। মীযানুল ই‘তিদাল ১/৪৫১)। যাহাবী এটাকে মিথ্যা হাদীছ বলেছেন।

আমাদের দেশের কথিত পীর অলি, সুফি-সাধক ও বিভিন্ন আলেম দরবারে বা ওয়ায-মাহফিলে, জুম‘আর খুৎবায় আশূরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করেন, যার সবই মিথ্যে, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

মনে রাখবেন, আশুরা উপলক্ষে দুই দিন ছিয়াম পালন ছাড়া মুসলমানদের আর কোনো আমল বা অনুষ্ঠান নেই।

প্রচলিত আশূরাঃ

প্রচলিত আশূরার প্রধান বিষয় হলো শাহাদাতে কারবালা, যা শাহাদাতে হুসায়েনের শোক দিবস হিসাবে পালিত হয়। যেখানে আছে কেবল অপচয় ও হাযার রকমের শিরকী ও বিদ‘আতী কর্মকান্ড। যেমন তা‘যিয়ার নামে হোসায়েনের ভুয়া কবর বানানো, তার কাছে গিয়ে প্রার্থনা করা, তার ধুলা গায়ে মাখা, তার দিকে সিজদা করা, তার সম্মানে মাথা নীচু করে দাঁড়ান, ‘হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ বলে মাতম করা, বুক চাপড়ানো, তা‘যিয়া দেওয়ার মানত করা, তা‘যিয়ার সম্মানে রাস্তায় জুতা খুলে চলা, হোসেনের নামে মোরগ উড়িয়ে দেওয়া। অতঃপর ছেলে ও মেয়েরা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ঐ ‘বরকতের মোরগ’ ধরা ও তা যবেহ করে খাওয়া। ঐ নামে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হয়ে চেরাগ জ্বালানো, ঐ নামে কেক-পাউরুটি বানিয়ে ‘বরকতের পিঠা’ বলে ধোঁকা দেওয়া ও তা বেশী দামে বিক্রি করা এবং বরকতের আশায় তা খরিদ করা, সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল নিয়ে কারবালা যুদ্ধের মহড়া দেওয়া, শোক বা তা‘যিয়া মিছিল করা, তাবার্রুক বিতরণ করা, শোকের কারণে এ মাসে বিবাহ-শাদী না করা ইত্যাদি। এমনকি এদিন উস্কানীমূলক এমন কিছু কাজ করা হয়, যেকারণে প্রতি বছর আশূরা উপলক্ষে শী‘আ-সুন্নী পরস্পরে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আশূরা কেন্দ্রিক শরী‘আত বিরোধী কিছু কাজঃ

(১) হুসাইন (রাঃ)-এর মৃত্যুবার্ষিকী পালনঃ

কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে তার মৃত্যুর খবরে ‘ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজে‘ঊন’ পাঠ করে (সুরা বাক্বারাহ ২/১৫৬) তার জন্য দো‘আ করা, তার জানাযাহ ও দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা অন্য মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিনের ওপর অপর মু’মিনের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথা- ১. যখন কোন মু’মিনের রোগ-ব্যাধি হয়, তখন তার সেবা-শুশ্রূষা করা, ২. কেউ মৃত্যুবরণ করলে, তার জানাযাহ্ ও দাফন-কাফনে উপস্থিত হওয়া, ৩. কেউ দা’ওয়াত করলে তা গ্রহণ করা অথবা কারো ডাকে সাড়া দেয়া, ৪. সাক্ষাতে সালাম প্রদান করা, ৫. হাঁচি দিলে জবাব দেয়া এবং ৬. উপস্থিত-অনুপস্থিত সকল অবস্থায় মু’মিনের কল্যাণ কামনা করা। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)  ৪৬৩০, সুনান আননাসায়ী ১৯৩৮, সুনান আততিরমিযী ২৭৩৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৩২, আল জামি‘উস্ সগীব ৯৩১৯, সহীহুল জামি‘ ৫১৮৮, আহমাদ ৮২৭১, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৫৩, ‘নাসায়ী’র কুবরা ২০৬৫, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৭১৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৯৩৪১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৫৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আর তার মৃত্যুতে সর্বোচ্চ তিন দিন শোক পালন করা যাবে। যদিও তারা পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে হয়। তবে স্ত্রী স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবেন এবং বিবাহ, সাজগোজ থেকে বিরত থাকবেন’। (সুরা বাক্বারাহ ২/২৩৪)।

যায়নাব বিনতু আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হ’তে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যুর খবর পেঁŠছল, তার তৃতীয় দিবসে উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি আনয়ন করলেন এবং তাঁর উভয় গন্ড ও বাহুতে মাখলেন। অতঃপর বললেন, অবশ্য আমার এর কোন প্রয়োজন ছিল না, যদি আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, ‘যে স্ত্রীলোক আল্লাহ এবং ক্বিয়ামাত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার পক্ষে স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। অবশ্য স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ১২৮০, ১২৮১, ৫৩৩৪, ৫৩৩৯, ৫৩৪৫, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৩৬১৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৪৮৬, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২০৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ বা শাহাদতবরণ করলে তার জন্য মৃত্যুবার্ষিকী পালনের বিধান ইসলামে নেই। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম কখনো কারো জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেননি। হোসাইন (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের মর্মান্তিক ঘটনাটিও আশূরার দিনে অর্থাৎ ১০ই মুহাররম ঘটেছিল। যা মুসলমানদের জন্য নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কিন্তু এর জন্য সেদিন শোক দিবস হিসাবে পালন করা শরী‘আত সম্মত নয়।

আববাসীয় খলীফা মুত্বী‘ বিন মুকতাদিরের সময়ে (৩৩৪-৩৬৩ হিঃ/৯৪৬-৯৭৪ খৃ.) তার শক্তিশালী শী‘আ আমীর মু‘ইযযুদ্দৌলা হুসায়েন (রাঃ)-এর শাহাদতের স্মরণে ৩৫২ হিজরীর ১০ই মুহাররমকে ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেন এবং সকল দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন। তিনি মহিলাদের শোকে চুল ছিঁড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন। শহরে ও গ্রামে সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে নির্দেশ দেন। শী‘আরা খুশী মনে এই নির্দেশ পালন করে। কিন্তু সুন্নীরা চুপ হয়ে যান। পরে সুন্নীদের উপরে এই ফরমান জারী হ’লে ৩৫৩ হিজরীতে উভয় দলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ফলে বাগদাদে তীব্র নাগরিক অসন্তোষ ও সামাজিক বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়ে। (মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আশূরায়ে মহাররম ও আমাদের করণীয়, পৃ: ১৬-১৭)।

উল্লেখ্য যে, জাহেলী যুগের রীতি ছিল, যার মৃত্যুতে যত বেশী মহিলা কান্নাকাটি করবে, তিনি তত বেশী মর্যাদাবান বলে খ্যাত হবেন। সেকারণ মৃত ব্যক্তির সম্মান বাড়ানোর জন্য তার লোকেরা কান্নায় পারদর্শী মেয়েদের ভাড়া করে আনত’। (ফাৎহুল বারী হা/১২৯১-এর অনুচ্ছেদের আলোচনা দ্রঃ)।

দুর্ভাগ্য, আজকের মুসলিম তরুণ-তরুণীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বশেষ ডিগ্রী নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একত্রে রাস্তায় ধুলোয় বসে মাইক লাগিয়ে বিদায়ী ‘গণকান্না’ জুড়ে দেয়। একি জাহেলী আরবের ফেলে আসা নষ্ট সংস্কৃতির আধুনিক বঙ্গ সংস্করণ নয়? অনেকে তিন দিন পর কুলখানী, দশ দিন পর দাসওয়াঁ, চল্লিশ দিন পর চেহলাম এবং কেউ প্রতি বছর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। কেউ প্রতি বছর তিন দিন, সাত দিন, চল্লিশ দিন বা মাস ব্যাপী শোক পালন করেন। এছাড়া শোক সভা, শোক র্যালী, শোক বই খোলা, কালো টুপি ও কালো পোষাক পরা, কালো ব্যাজ ধারণ করা, কালো পতাকা উত্তোলন বা কালো ব্যানার টাঙানো, মৃতের সম্মানে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা, শোকের নিদর্শন হিসাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ইত্যাদি ইসলামী সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী।

(২) মাতম করাঃ 

আশূরার দিনকে কেন্দ্র করে অনেকে ‘হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ বলে বিলাপ করেন, বুক চাপড়ান ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে শোক প্রকাশ করেন, যা সম্পূর্ণভাবে হারাম ও কবীরা গুনাহ। (ইমাম যাহাবী, আল-কাবায়ের, কবীরা গুনাহ নং ৪৭ পৃ: ৩৫৮)।

সকল আলেম একমত যে, আওয়াজ করে মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করা জায়েয নয়। (সাইয়িদ সাবেক, ফিকহুস সুন্নাহ (বৈরূত : ৩য় প্রকাশ ১৯৯৮ খ্রি.) ১/৩৭১)।

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ)  ১২৯৭, ১২৯৪, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে দু’টো আচরণ এমন পাওয়া যায়, যা তাদের ক্ষেত্রে কুফরীমূলক কর্ম; বংশে খোঁটা দেওয়া ও মৃতের জন্য মাতম করে কান্না করা’। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ১৩০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬৭; সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ১০০১; আহমাদ ৭৮৪৮)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

আবূ বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন। এমনকি তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তখন তাঁর মাথা তাঁর পরিবারভুক্ত কোন এক মহিলার কোলে ছিল। তিনি তাকে কোন জবাব দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি বললেন, সে সব লোকের সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখি না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা প্রকাশ করেছেন- যারা চিৎকার করে ক্রন্দন করে, যারা মস্তক মুন্ডন করে এবং যারা জামা কাপড় ছিন্ন করে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ১২৯৬, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৭২৬, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ১৮৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১০৪, সুনান আননাসাঈ ১৮৬৩; সুনান ইবনু মাজাহ ১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ১৯৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যারোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যারোপ করার মত নয়। যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। [মুগীরাহ (রাঃ) আরও বলেছেন,] আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ১২৯১, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ২০৪৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৯৩৩, আহমাদ ১৮২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(৩) মর্ছিয়া করাঃ

মর্ছিয়া (اَلْمَرْثِيَةُ) অর্থ মৃত ব্যক্তির প্রশংসায় বর্ণিত কবিতা। জাহেলী আরবের প্রসিদ্ধ সাব‘আ মু‘আল্লাক্বাত(سَبْعُ مُعَلَّقَات) বা কা‘বাগৃহে ‘ঝুলন্ত দীর্ঘ কবিতাসপ্তক’-কে আল-মারাছী আস-সাব‘আ (الْمَرَاثِى السَّبْعُ) ‘সাতটি শোক কাব্য’ বলা হয়। শাহাদাতে হোসায়েন উপলক্ষে বাংলা গদ্যে ‘বিষাদ সিন্ধু’ ছাড়াও বহু মর্সিয়া রচিত হয়েছে। যে বিষয়ে মন্তব্য করে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না’। বলা বাহুল্য, হোসায়েনের ত্যাগ এখন নেই। আছে কেবল শোকের নামে মুখ-বুক চাপড়ানো, রং ছিটানো, নাচ-গান ও বাদ্য-বাজনা। সেই সাথে রয়েছে অতিরঞ্জিত লেখনী ও গাল-গল্পের অনুষ্ঠান সমূহ। অথচ জাতীয় মুক্তির পথ দেখিয়ে মহাকবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ইসলাম যিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কে বা‘দ। এর অর্থ হলো, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মুমিনকে সর্বদা কারবালার ন্যায় চূড়ান্ত ঝুঁকি নিতে হয়। এর অর্থ এটা নয় যে, কারবালার ঘটনা হক ও বাতিলের লড়াই ছিল। বস্ত্ততঃ এটি ছিল হোসায়েন (রাঃ)-এর একটি রাজনৈতিক ভুলের মর্মান্তিক পরিণতি। যেটা বুঝতে পেরেই অবশেষে তিনি ইয়াযীদের প্রতি আনুগত্যের বায়‘আত গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

(৪) তা‘যিয়া করাঃ 

তা‘যিয়া (التَّعْزِيَةُ) অর্থ মৃত ব্যক্তির ওয়ারিছান বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়া ও তার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা। হোসায়েন পরিবারই ছিলেন এই সমবেদনা পাওয়ার প্রকৃত হকদার। কিন্তু এখন তাঁরা কোথায়? ৬১ হিজরীতে হোসায়েন (রাঃ) কারবালায় শহীদ হয়েছেন। অথচ সেখান থেকে ৩৫২ হিজরী পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের কোথাও এদিন শোক পালন করা হয়নি। বাগদাদে আববাসীয় খলীফার কট্টর শী‘আ আমীর মু‘ইযযুদ্দৌলা সর্বপ্রথম ৩৫২ হিজরীর ১০ই মুহাররম-কে ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেন। এদিন তিনি বাগদাদের সকল দোকান-পাট ও অফিস-আদালত বন্ধ করে দেন। মহিলাদেরকে শোকে চুল ছিঁড়তে, চেহারা কালো করতে, রাস্তায় নেমে শোকগাথা গেয়ে চলতে বাধ্য করেন, শহর ও গ্রামের সর্বত্র সকলকে শোক মিছিলে যোগদান করতে আদেশ দেন। শী‘আরা খুশী মনে এ আদেশ মেনে নিলেও সুন্নীরা বিরোধিতা করেন। ফলে ৩৫৩ হিজরীতে উভয় দলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও রক্তারক্তি হয়। (আল-বিদায়াহ ১১/২৪৩, ২৫৩)।

এই বিদ‘আতী রীতির ফলশ্রুতিতে উপমহাদেশ সহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আশূরার দিন পরস্পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ অঞ্চলের শাসক নবাবেরা শী‘আ ছিলেন। ফলে এদেশের মুসলমানদের নামে ও আচার-অনুষ্ঠানে শী‘আ প্রভাব ব্যাপকতা লাভ করে। সেই সাথে প্রসার ঘটে আশূরা ও তাযিয়ার মত শিরকী ও বিদ‘আতী কর্মকান্ড সমূহের। তাযিয়াপূজা কবরপূজার শামিল। পৌত্তলিকরা যেমন নিজ হাতে মূর্তি গড়ে তার পূজা করে, ভ্রান্ত মুসলমানরা তেমনি নিজ হাতে ‘তাযিয়া’ বানিয়ে তার কাছে মনোবাঞ্ছা নিবেদন করে। এটা পরিষ্কারভাবে শিরক। কেননা লাশ বিহীন কবর যিয়ারত মূর্তিপূজার শামিল। যা নিকৃষ্টতম শিরক। আর আল্লাহ শিরকের গোনাহ কখনো মাফ করেন না’। (সুরা নিসা ৪/৪৮)।

অতএব এই বিদ‘আতী পর্বে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করা কিংবা এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দিয়ে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার মাধ্যমে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হওয়া থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

তা‘যিয়া-মাতম বর্জন করে তাদের জন্য দো‘আ করা উচিত। (ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় সংস্করণ জুন ২০০৬), পৃ. ৩/৩৯০)।

(৫) নিজের উপর আঘাত করা ও কাপড় ছেঁড়াঃ

আশূরার দিন অনেকে হুসাইন (রাঃ)-এর মৃত্যুকে স্মরণ করে, তার শোকে বিভিন্ন ধারালো জিনিস দিয়ে নিজের দেহকে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং নিজের গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এটা ইসলাম সমর্থন করে না।

আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যারা শোকে গন্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ)  ১২৯৭, ১২৯৪, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২১৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

হুসাইন (রাঃ)-এর বড় ভাই হাসান (রাঃ) নিহত হয়েছিলেন, তার পিতা আলী ইবনে আবু তালিব শাহাদত বরণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে এরকম অনেক দুঃখজন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মুসলমানরা কারো জন্যই এ রকম শোক পালন করেন না।

(৬) ছাহাবী-তাবেঈদেরকে মন্দ বলাঃ

আশূরার দিন হাসান-হোসাইন (রাঃ)-কে মর্যাদা দিতে গিয়ে অনেকে কোনো কোনো ছাহাবী-তাবেঈ সম্পর্কে মন্দ ধারণা করে থাকেন। এমনকি গালিও দিয়ে থাকেন। আয়েশা (রাঃ)-এর নামে একটি বকরী বেঁধে রেখে লাঠিপেটা ও অস্ত্রাঘাতে রক্তাক্ত করা হয়। এছাড়াও মু‘আবিয়া (রাঃ) ও তাঁর ছেলে ইয়াযীদকে কারবালার ঘটনার জন্য দায়ী করে গালি-গালাজ করে থাকেন। অথচ ছাহাবীগণকে গালি দেওয়া বড় গুনাহের কাজ। (ইমাম যাহাবী, আল-কাবায়ের, কবীরা গুনাহ নং ৫৭ পৃ. ৪১০)।

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা আমার ছাহাবীগণকে গালমন্দ কর না। তোমাদের কেউ যদি ওহোদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ ছওয়াব লাভ করতে পারবে না’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ৩৬৭৩, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৩৮১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৫৪০, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(৭) বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করাঃ

আশূরার নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। যেমন- সরকারী ছুটির ব্যবস্থা করা, রাস্তা-ঘাট বিভিন্ন রঙে সাজানো, লাঠি, তীর, বল্লম নিয়ে যুদ্ধের মহড়া দেওয়া, হুসাইন (আঃ)-এর নামে কেক ও পাউরুটি বানিয়ে ‘বরকতের পিঠা’ বলে বিক্রি করা ইত্যাদি। এসব অনুষ্ঠান পালনে অনেক টাকার অপচয় হয়, সময় নষ্ট হয় আর ইসলামের নিষেধাজ্ঞা তো আছেই। অপরদিকে অনেকে এই মাসকে শোকের মাস ভেবে বিবাহ-শাদী করা, আশূরার দিনে পানি পান করা ও শিশুদেরকে দুধ পান করানোকেও অন্যায় মনে করেন।

পরিশেষে বলব, আশূরার সঠিক ইতিহাস এবং আশূরার শরী‘আত সম্মত করণীয় সমূহ পালন করতে হবে। আর এ সম্পর্কিত সকল বিদ‘আত পরিত্যাগ করতে হবে।

করণীয়ঃ এদিনের করণীয় হ’ল, যালেম শাসক ফেরাঊনের কবল থেকে নাজাতে মূসার শুকরিয়ার নিয়তে ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ই মুহাররম দু’টি নফল ছিয়াম রাখা। কমপক্ষে ১০ই মুহাররম একটি ছিয়াম পালন করা। এর বেশী কিছু নয়। সেই সাথে উচিৎ হবে যালেম-মাযলূম সকলকে উক্ত ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আল্লাহ আমাদেরকে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত রাখুন এবং বিশুদ্ধ ইসলামের অনুসারী হওয়ার তাওফীক দান করুন- আমীন!

Author and Compiler:

Md. Izabul Alam-M.A., C.In., Ed. (Islamic Studies-Rangpur Carmichael University College, Rangpur), Prominent Islamic Thinker, Researcher, Political Analyst, Writer and Blogger.

(1) GENERAL DIRECTOR-MEDINA SAHIH HADITH RESEARCH CENTER (MSHRC)

(2) GENERAL DIRECTOR- PURE MUSLIM MAKING RESEARCH CENTER (PMMRC),

(3) DIRECTOR-Bangladesh BCS Coaching (BBC)

(4) PRINCIPAL -PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI)

(5) PRINCIPAL- BANGLADESH ONLINE UNIVERSITY (BOU)

(6) GENERAL DIRECTOR AND CONSULTAT-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES (PIS)

(7) EDITOR-BDC CRIME NEWS24                                       

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক

বইয়ের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Addressসহ অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। এজন্যে  আপনি বসে বসে সওয়াব পেতে থাকবেন।

(ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের (কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)।

(খ) তিনি আরো বলেন, “তার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)।

(গ)  আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৫৮, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬৯৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৬০, ইসলামিক সেন্টার ৬৬১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(ঘ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩৪৬১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১২, হাদিস  সম্ভার, হাদিস নং ১৫৪৮,  রিয়াদুস  সলেহিন,  হাদিস নং  ১৩৮৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

Please Share On

No comments:

Post a Comment

মুহাররম ও আশূরাঃ কুসংস্কার ও সুন্নাহ বিরোধী আমলসমূহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম মুহাররম ও আশূরাঃ কুসংস্কার ও সুন্নাহ বিরোধী আমলসমূহ   লেখকঃ মোঃ ইজাবুল আলম আশুরাকে নিয়ে এদেশের ভন্ড পীর অল...