Saturday, November 29, 2025

অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি

প্রখ্যাত বক্তা ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর বিধান, আল্লাহর আইন অনুযায়ী গোটা দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, আমি নিজেও পরিচালিত হতে চাই এই আকাংখ্যা লালন না করে তাহলে তার মুসলমান হিসেবে দাবী করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই”।

এছাড়া ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষী মুসলিম ভোটারদের নিয়ে কিছু বাণী ভাসতে দেখা যাচ্ছে। যেমন,

(ক)  ইসলামি দল ছাড়া অন্য দলকে যারা ভোট দিবে তারা কাফির, মুশরিক, জালিম, ফাসিক ও জাহান্নামী। মুসলিম থেকে তারা খারিজ।

(খ)  ইসলামী দল ছাড়া অন্য দলকে ভোট দেয়া মানে আমানতের খেয়ানত করা, মিথ্যে সুপারিশ করা, মিথ্যে সাক্ষ্য দেয়া। 

(গ) আপনার পছন্দের নেতার সাথেই কিয়ামতে আপনার হাশর হবে। নেতা জাহান্নামী হলে আপনিও জাহান্নামী হবেন।

(ঘ) অনৈসলামিক দলকে কোনো মুসলিম ভোট দিলে সে মুসলিম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। তার ঈমান থাকবে না।

(ঙ) ইসলামি দল ব্যতীত যারা অন্য দলকে ভোট দিয়ে অন্যায়ের সহযোগী হয় তারা জাহান্নামী। ইত্যাদি,,,

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, কুরআন হাদিস অনুযায়ী এসবের সত্যতা কতোটুকু?

আসুন কুরআন-হাদিস অনুযায়ী এসবের সত্যতাসহ অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি সম্পর্কে জেনে নেই।

বাংলাদেশের মুসলিমগণ রাজনৈতিকভাবে ইসলামিক ও অনৈসলামিক এই দুই দলে বিভক্ত। ইসলামিক রাজনৈতিক  দলগুলোর মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা তথা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা বা কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য  কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের নাম হচ্ছে,

(ক) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

(খ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

(গ) ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ

(ঘ) ইসলামী ঐক্যজোট

(ঙ) ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট

(চ) খেলাফত মজলিস

(ছ) খেলাফতে রব্বানী পার্টি

(জ) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

(ঞ) নেজামে ইসলাম পার্টি

(ট) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

(ঠ) বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন

(ড) বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ইত্যাদি

প্রকৃত ইসলামি দল চেনার উপায়

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেছেন, “যেকোন যুগে তুমি যদি সঠিক ইসলামপন্থী দলটি খুঁজে না পাও, তাহলে চিহ্নিত ইসলাম বিদ্বেষী এবং ইসলামের পরীক্ষিত শত্রুদের দিকে তাকাও, তারা কোন্ দলটির প্রতি সবচেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত"

কারন: "সঠিক ইসলামি দল চিনে নিতে মুসলমানেরা ভুল করলেও ইসলামের চিহ্নিত শত্রুরা কখনো ভুল করেনা।

অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর মুসলিম রাজনীতিবিদগণ ইসলামকে প্রাধান্য দেয় না। তারা কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী আইন সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করে থাকে। ইসলামি মতবাদ বাদ দিয়ে তারা কুফরী মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে থাকে।

এই দলগুলোর নেতা কর্মীগণ সাধারণত  ইসলামি আইন বিদ্বেষী হয়ে থাকে। ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা কিংবা ইসলামি আইন অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করা তাদের সংবিধানে নেই। এ নিয়ে তারা কথাও বলেন না কাজও করেন না। বরঞ্চ তারা ক্ষমতায় থাকলে ইসলামপন্থী দলগুলোর উপর দমন, নিপিড়ন, নির্যাতন, জেলবন্দী, মামলা, হামলা, অপহরণ, গুম, খুন ইত্যাদি করে থাকে। অনৈসলামিক দলগুলোর মধ্যে যারা মুসলমান তারাও সালাত আদায় করে, কালিমা পাঠ করে, হজ্জ করে, সাওম রাখে, দান করে তথা ইসলামি কিছু কর্মকান্ড পালন করে থাকে। কিন্তু এরা ইসলামি আইন, জিহাদ, ইসলামি দাওয়াতীর কাজের ঘোর বিরোধী।

বাংলাদেশে অনৈসলামিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,

(ক) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

(খ) বিএনপি

(গ)  লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি - এলডিপি

(ঘ) জাতীয় পার্টি

(ঙ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

(চ) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

(ছ) বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি

(জ) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ

(ঞ) জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম

(চ) বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), সর্বশেষ বিগত ১৭/১১/২০২৫ তারিখে এই দলটিকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত করে। বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি।

অনৈসলামিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছেঃ

(ক)  কুরআনকে এরা সংবিধান হিসেবে মেনে নেয় না।

(খ) ইসলামি আইন অনুসারে এরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে না।

(গ) ইসলামি আইন অনুসারে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না।

(ঘ) তারা সমাজে সালাত প্রতিষ্ঠা করে না। দলীয় নেতা-কর্মীগণও সঠিকভাবে সালাত আদায় করে না।

(ঙ) নিজেরা যাকাত আদায় করে না এবং ক্ষমতায় থাকলে যাকাত প্রতিষ্ঠা করে না। তথা ধনীদের নিকট থেকে যাকাত আদায় করে গরিবদের মাঝে সমবন্টন করে না।

(চ)  তারা সৎকাজের আদেশ দান ও অসৎকাজে বাঁধা দেয় না। বরঞ্চ অসৎ অনেক কাজ যেমন বাউল ধর্ম, লালন ধর্ম, নারীদের পর্দাহীনতা, অবাধ মেলামেশা, সমকামিতা, লিভটুগেদার, অশ্লীল নাচ-গান ইত্যাদিকে তারা সমর্থন দিয়ে থাকে ও তাদের পক্ষে কথা বলে।

অথচ আল্লাহ বলেন,

“আমি তাদেরকে পৃথিবীতে (রাজ) ক্ষমতা দান করলে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎকার্য হতে নিষেধ করে। আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর আয়ত্তে”। (সুরা আল হজ্জ ৪১)।

(ছ) পর্দার বিধান প্রতিষ্ঠিত করে না।

(জ) রাষ্ট্রীয়ভাবে অবাধ মেলামেশা, অশ্লীলতা/বেহায়াপনা বন্ধের ব্যবস্থা করে না।

(ঝ)  মদের আমদানী, মদের উৎপাদন, মদ বিক্রি ও মদ পানের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।

(ঞ) রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাজে সুদের প্রচলন করে থাকে।

(চ) তাদের শাসনামলে রাষ্ট্রের মধ্যে অপহরন, গুম ,খুন, নির্যাতন বা অত্যাচার, ধর্ষণ, যিনা/ব্যভিচার, সমকামিতা, লিভটুগেদার, মদ, জুয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখরবাজি, অস্ত্রবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ সকল প্রকার অনৈতিক/অমানবিক ও অনৈসলামিক কর্মকান্ড ঘটে থাকে।

(জ) দলের নেতারা সরাসরি কুফুরিমূলক বাক্য বলে থাকেন। যেমন তারা ইসলামি শরিয়াহ আইন মানে না, বিশ্বাস করে না।

(ঞ) এরা সমাজে পতিতাবৃত্তি চালু রাখার পক্ষে মত দিয়ে থাকে।

(ট)  মুসলিম হয়েও নিজেকে ভাইরাল করতে ইসলামি ফরজ বিধানের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে ভাষণ দিয়ে থাকে।

(ঠ) অধিকাংশ নেতা-কর্মী ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে থাকে।

(ড) ভোট পাওয়ার জন্য নির্বাচনের আগে দলীয় নেতারা ধার্মিক সেজে ইসলামের পক্ষে কিছু কথা বলে ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় যা ক্ষমতায় গেলে কখনো বাস্তবায়ন করে না।

এরকম হাজার হাজার ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড আছে যেগুলো অনৈসলামিক দলের নেতাগণ ক্ষমতায় গেলে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে।

এখন আপনি একজন মুসলিম ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে যখন অনৈসলামিক দলের প্রতীকে সিল মারবেন আর তখনই ঘোষণা দিয়ে বলবেন যে, আমি আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এর আইন মানি না। তথা আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এর বিরুদ্ধাচরন করলেন এবং নেতাদের সকল অন্যায় মেনে নিলেন, স্বীকার করে নিলেন বা সমর্থন করলেন। তাহলে আপনি একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এর বিরুদ্ধাচরন করা ও অন্যায়ের পক্ষ নেয়ায় এযাবত যতো আমল করেছেন সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে। আসুন আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এ সম্পর্কে কী বলেন তা জেনে নেই।

(ক) আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা হবে চরম লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত”। (সুরা আল মুজাদালা ২০)।

(খ) আল্লাহ বলেন, “আর যে ব্যক্তি তার নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং বিশ্বাসীদের পথ ভিন্ন (ইসলামি দল ব্যতীত) অন্য পথ (অনৈসলামিক দল) অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা কত মন্দ আবাস!”। (সুরা নিসা ১১৫)।

(গ) আল্লাহ বলেন, “তোমরা সীমালংঘনকারী অপরাধী পাপিষ্ঠদের (নেতৃত্বের) আনুগত্য করো না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সংস্কার সংশোধন করে না।” (সূরা আশ শুয়ারা ১৫১-১৫২)।

(ঘ) আল্লাহ আরও বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের আর সেই সব লোকের , তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত (আমীর) হয়েছে।” (সূরা আন নিসা ৫৯)।

(ঙ) আল্লাহ বলেন, “যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সাক্ষ্য (সৎ লোক) বর্তমান রয়েছে তা যদি সে গোপন করে (অসৎ লোককে ভোট দেয়) তবে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? জেনে রেখ, তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই বেখবর নন।” (সূরা আল বাকারাহ ১৪০)।

(চ) আল্লাহ বলেন, “কল্যাণকর কাজ এবং তাকওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা কর, আর গুনাহ ও সীমালংঘনের ব্যাপারে সাহায্য-সহযোগিতা করো না।” (সূরা আল মায়িদাহ ২)।

(ছ) আল্লাহ বলেন, “মুমিনগণ যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কোন কাফিরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না।” (সূরা আলে ইমরান ২৮)।

(জ) আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর জন্য সত্যের সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করো।” (সূরা আত তালাক ২)।

(ঝ) আল্লাহ আরও বলেন, “তোমরা কখনই সাক্ষ্য গোপন করবে না, যে সাক্ষ্য গোপন করে তার মন পাপের কালিমাযুক্ত।” (সূরা আল বাকারাহ ২৮৩)।

(ঞ) আল্লাহ বলেন, “হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাক, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীনই হোক, আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতর অভিভাবক। সুতরাং তোমরা ন্যায়-বিচার করতে খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কেটে চল, তাহলে (জেনে রাখ) যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন”। (সুরা নিসা ১৩৫)।

(ট) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্যতা করল, সে আল্লাহ তা’আলার অবাধ্যতা করল। আর যে আমীরের (নেতার) আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল। যে আমীরের অবাধ্যতা করল, সে আমারই অবাধ্যতা করল। প্রকৃতপক্ষে ইমাম (নেতা) হলেন ঢাল স্বরূপ। তার পিছন থেকে যুদ্ধ করা হয়, তার দ্বারা (শত্রুদের কবল থেকে) নিরাপত্তা পাওয়া যায়। সুতরাং শাসক যদি আল্লাহর প্রতি ভয়প্রদর্শন পূর্বক প্রশাসন চালায় এবং ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে এর বিনিময়ে সে সাওয়াব (প্রতিদান) পাবে। কিন্তু সে যদি এর বিপরীত কর্ম সম্পাদন করে, তাহলে তার গুনাহও তার ওপর কার্যকর হবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৬৬১, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ২৯৫৭, ৭১৩৭, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৬৪১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৩৫, আহমাদ ৮১৩৪, সহীহ আল জামি ৬০৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৫৯৫, ইসলামিক সেন্টার ৪৫৯৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(ঠ) উম্মুল হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো বিকলাঙ্গ কুৎসিত গোলামকেও তোমাদের শাসক (নেতা) নিযুক্ত করা হয়। আর সে আল্লাহ তা’আলার কিতাব অনুযায়ী তোমাদেরকে পরিচালিত করে, তাহলে অবশ্যই তোমরা তার কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৬৬২, ৩৬৬৩, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ১২৯৮, সহীহ আল জামি ১৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০০৪, ইসলামীক সেন্টার ৩০০১)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(ড) ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের (তার শাসনকর্তার নির্দেশ) শোনা এবং আনুগত্য করা অপরিহার্য; তার মনঃপূত হোক বা না হোক, যতক্ষণ না তাকে গুনাহের দিকে নির্দেশ করে। কিন্তু যদি তাকে গুনাহের কাজের নির্দেশ দেয়া হয়, তখন তা শোনা ও আনুগত্য করা কর্তব্য নয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৬৬৪, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৭১৪৪, ২৯৫৫,  সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৬৫৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৩৯, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২৬২৬, সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ১৭০৭, সহীহ আল জামি‘ ৩৬৯৩, আহমাদ ৬২৭৮, আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(ণ) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অচিরেই আমার পরে এমন সব লোক তোমাদের নেতা হবে, যারা সুন্নাতকে বিলুপ্ত করবে, বিদআতের অনুসরণ করবে এবং নামায নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে পড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি তাদের (যুগ) পাই, তবে কী করবো? তিনি বলেনঃ হে উম্মু আবদ-এর পুত্র! তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করছো যে, তুমি কী করবে? যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে, তার আনুগত্য করা যাবে না। (সুনান ইবনু মাজাহ ২৮৬৫, আহমাদ ৩৭৮০, সহীহাহ ২/১৩৯, সহীহ আবু দাউদ ৪৫৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahi।

উল্লিখিত আলোচনায় এটাই প্রতীয়মান যে, আল্লাহ ও রাসুল সাঃ যা করতে বলেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। আধুনিকতার দোহাই দিয়ে ইসলাম বিচ্যূত হওয়া যাবে না। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনাকে অবশ্যই ইসলামি দলকে ভোট প্রদান করতে হবে। যদি তা না করে, অন্য দল বা পথ মতকে সমর্থন করেন তাহলে আপনার সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে।

আল্লাহ বলেন,

“আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন আইন/ধর্ম/পথ/মত গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত তথা জাহান্নামী”। (সুরা ইমরান ৮৫০)।

আপনি একদিকে মুসলমান হিসেবে ধর্মকর্ম পালন করবেন আবার ভোটের সময় অন্য দলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সমাজে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজি, সমকামিতা, মদ, সুদ, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, আল্লাহদ্রোহীদের পক্ষ নিতে ও বাউল ধর্ম/লালন ধর্ম প্রতিষ্ঠার কাজে সহযোগীতা করবেন, আপনি কেমন মুসলমান?

আল্লাহ বলেন,

”আর তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তি দাতা।” (সূরা মায়িদা: ২)।

আপনি নিজেকে যখন মুসলমান হিসেবে দাবী করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে ইসলামের আদেশ নিষেধগুলো মেনে চলতে হবে। নিষেধমূলক কাজের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে সহযোগীতা করা যাবে না।

আল্লাহ বলেন,

“হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না”। (সুরা আলে ইমরান ১০২)।

এখানে আল্লাহ তায়ালা একজন মুমিন ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ  মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করতে নিষেধ করলেন কেনো? তার মানে আপনি উপরোক্ত কর্মকান্ডের জন্যে পুরোপুরি মুসলমান না। এরকম আরো আছে।

আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত বিধান দিয়ে রাষ্ট্র চালানো বা বিচার-ফয়সালা করা তাওহীদে রুবূবীয়্যাতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাতে আল্লাহর রুবূবিয়্যাত, পরিপূর্ণ রাজত্ব এবং পরিচালনা ক্ষমতার দাবী অনুযায়ী তাঁর হুকুম কার্যকর করার নামান্তর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের আলিম ও ধর্ম-যাজকদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাদের প্রতি শুধু এ আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র এক মা‘বূদের ইবাদাত করবে, যিনি ব্যতীত মা‘বূদ হওয়ার যোগ্য কেউ নয়। তিনি তাদের অংশী স্থাপন করা হতে পবিত্র।” (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩১)।

এখানে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদী-নাসারাদের ধর্ম-যাজকদেরকে রব হিসেবে নামকরণ করেছেন। কারণ, তারাও আল্লাহর বিধানের মতো বিধান রচনা করতো। তাদের রচিত বিধানের অনুসারীদেরকে গোলাম বা বান্দা হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা আল্লাহর বিধানের বিরোধীতা করে ঐ সব পাদ্রি ও আলিমদের কাছে নতি স্বীকার করতো এবং তাদের অনুসরণ করতো। আদী ইবন হাতেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, তারা তো তাদের ইবাদাত করে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা হালালকে হারাম করে এবং হারামকে হালাল করে। আর সাধারণ লোকেরা তাদের অনুসরণ করে থাকে। এটার নামই ইবাদাত।

একইভাবে আমাদের দেশের মুসলিম রাজনীতিবিদগণ তারা নিজেস্বভাবে বিভিন্ন আইনকানুন ও মতবাদ তৈরি করে ধর্মপালন করে থাকে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি, যারা দাবী করে যে, আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তারা সে সমস্ত বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে। তারা বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য শয়তানের কাছে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়। আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, তোমরা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং তাঁর রাসূলের দিকে এসো তখন আপনি মুনাফিকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তখন কেমন হবে? অতঃপর তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে ফিরে আসবে যে, কল্যাণ ও সমঝোতা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অবগত।

অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোনো কথা বলুন, যা তাদের জন্য কল্যাণকর। বস্তুতঃ আমি একমাত্র এ উদ্দেশ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাদের (রাসূলগণের) আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও যদি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবান রূপে পেত। অতএব, তোমার রবের কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্ট চিত্তে কবূল করে নিবে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬০-৬৫)।

অতএব সকল মুসলিম ভোটার ভাইদের বলছি, যেসব আসনে ইসলামপন্থী ও ইসলাম পরিপন্থী তথা বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি অনুরূপ দলের প্রার্থী থাকবে সেখানে ইসলামপন্থী প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়া হারাম। মুসলিম হিসেবে ইসলাম ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে তার ঈমান থাকবে না। সে হবে জাহান্নামী।

অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি

(১) ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, খুনী, ধর্ষক তথা অসৎ প্রার্থীকে ভোট দিলে কিয়ামত পর্যন্ত সেই পাপের অংশ ভোটারগণ পেতে থাকবেঃ

ভোট আপনার একটি আমানত। আপনি যাকে ভোট দিবেন, সিল মারার সাথে সাথে আপনি বলে দিচ্ছেন যে, ঐ লোকটি ভালো, সৎ, যোগ্য ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। অর্থাৎ ভোট দেয়ার মাধ্যমে আপনি সত্য সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তার জন্য সুপারিশ করলেন। কিন্তু আপনি ভোট দিয়ে যাকে নির্বাচন করলেন তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার পর যদি ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ঐ এমপি যতো পাপ করবে ততো পাপের ভাগ আপনিও বসে বসে পাবেন।

আল্লাহ তাঁয়ালা এরশাদ করেন, ‘যে লোক সৎকাজের জন্য কারো পক্ষে কোনো সাক্ষ্য দেবে (বা তাকে সুপারিশ করবে যে লোকটি ভালো, সৎ ও যোগ্য), তাহলে সেই লোকটি যতোদিন ভালো কাজ করবে ততোদিন তা থেকে সেও একটি সওয়াবের অংশ পাবে। আর যে লোক মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে (তথা আপনি জানেন যে এই লোকটিকে ভোট দিলে বা সমর্থন দিলে সে ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিভিন্ন পাপ কাজের সাথে জড়িত হবে), তাহলে সে তার পাপের একটি অংশ পাবে তথা তার আমলনামায় ঐ পাপ কিয়ামত পর্যন্ত যোগ হতে থাকবে)।’ (সুরা নিসা, আয়াত-৮৫)।

(২) জেনে শুনে ভোট দেয়ার মাধ্যমে মিথ্যে স্বাক্ষ্য দেয়ার পরিনতিঃ

আপনার পছন্দের প্রার্থীকে প্রথমে ভোট দেয়ার মাধ্যমে সত্য সাক্ষ্য দিলেন যে, “ফুল ‍মিয়া ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র”, কিন্তু পরবর্তীতে যখন প্রমানিত হবে যে সেই এমপি একজন চাঁদাবাজ, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ তথা অনেক অপকর্মের হোতা তখন আপনার সেই প্রথম সাক্ষ্য মিথ্যে সাক্ষ্যতে পরিণত হবে। আর মিথ্যে সাক্ষ্য দেয়া কবিরাহ গুনাহ। এজন্যে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে।

কবীরা গুনাহের অন্যতম হলো মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-কে কবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া’। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ২৬৫৩, ৫৯৭৭, ৬৮৭১, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ১৬১-১৬২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৮৮, আহমাদ ১২৩৩৮, আধুনিক প্রকাশনী ২৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৪৭৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahi)।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।’ (সূরা নিসা, আয়াত ১৩৫)।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত।’ (সূরা: মায়েদা, আয়াত ৮)।

অনৈসলামিক দলের এমপিরা যেহেতু তাদের সততা ধরে রাখতে পারে না এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে তাই তাদেরকে ভোট দেয়া যাবে না।

মনে রাখবেন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ফরজ। ভোট দেয়ার মাধ্যমেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়। আর এধরণের প্রতিবাদ করাও এক প্রকার জিহাদ।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদে অংশগ্রহণ করেনি এবং জিহাদের নিয়্যাত না করে মৃত্যুবরণ করে, সে প্রকৃতপক্ষে মুনাফিক হয়েই মৃত্যুবরণ করল। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৮১৩, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৮২৫, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৯১০, সুনান আবূ দাঊদ ২৫০২, সুনান আননাসায়ী ৩০৯৭, মুসনাদ আহমাদ ৮৮৬৫, সহীহ আল জামি ৬৫৪৮, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৭৮, ইসলামিক সেন্টার ৪৭৭৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(৩) অনৈসলামিক দলের শাসকগোষ্ঠী যেহেতু ইসলামি আইন অনুসারে বিচার করে না সেইহেতু তারা কাফির, জালিম ও ফাসিকঃ

বাংলাদেশে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম নেই। মানবরচিত আইন দিয়ে এই দেশটি শাসিত হয়ে আসছে। অথচ এই দেশটি যারা শাসন করে আসছে তারা সকলেই মুসলিম নেতা বা শাসক। এইসব মুসলিম শাসক যেহেতু ইসলামি আইন দিয়ে রাষ্ট্র শাসন করে না সেইহেতু এরা কাফির, জালিম ও ফাসিক এর মধ্যে গণ্য হবে। মূলত মুসলিম ভোটারদের কারণেই অনৈসলামিক দলের শাসকগোষ্ঠী ইসলামি আইন দিয়ে বিচারিক কাজ করছে না। কারণ অনৈসলামিক দলের সংবিধানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার কোনো কথা লেখা নেই। আর মুসলিম ভোটারগণ অনৈসলামিক দলের শাসকগোষ্ঠীকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে ইসলাম বিরোধী কাজে সহযোগিতা করায় তারাও কাফির, ফাসিক ও জালিম হয়ে জাহান্নামে অবস্থান করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা কাফির।” (সূরা আলমায়েদা, আয়াত: ৪৪)।

“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা যালেম।” (সূরা আলমায়েদা, আয়াত: ৪৫)।

“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা ফাসিক।” (সূরা আলমায়েদা, আয়াত: ৪৭)।

(৪) দায়িত্বশীল মুসলিম ভোটার ও নেতাদের কিয়ামতে জিজ্ঞাসা করা হবেঃ

পরিবারের অভিভাবক হিসেবে আপনি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। আপনার কাজ হবে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের ইসলামের সঠিক পথে চলতে গাইডলাইন দেয়া, নির্বাচনের সময় ইসলামি দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা ও ইসলামের পক্ষে থাকার পরামর্শ দেয়া । তানাহলে কিয়ামতে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে  যে, নির্বাচনের সময় আপনি ও আপনার পরিবারের লোকজন কাকে ভোট দিয়েছে? উত্তরে যদি বলেন, অনৈসলামিক দলের প্রার্থীকে তখন আপনাকে পাকড়াও করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে।

(ক) আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের দায়িত্বশীলা, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ২৫৫৮, ৮৯৩, ২৪০৯, ২৫৫৪, ২৭৫১, ৫১৮৮, ৫২০০, ৭১৩৮,  সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৬১৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮২৯, সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ১৭০৫, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২৯২৮,  আহমদ ৪৪৮১, ৫১৪৮, ৫৮৩৫, ৫৮৬৭, ৫৯৯০, আল লুলু ওয়াল মারজান-১১৯৯। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।

(খ) তারপর সেই দিনের কথা মনে করো যেদিন আমি মানুষের প্রত্যেক দলকে তাদের নেতা সহকারে ডাকব। সেদিন যাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে দেওয়া হবে তারা নিজেদের কার্যকলাপ পাঠ করবে এবং তাদের ওপর সামান্যতম জুলুমও করা হবে না। (সুরাঃ ১৭/ আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) ৭১)।

(৫) কিয়ামতে নেতাদের সাথে মুসলিম ভোটারদের হাশর হবেঃ

কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা বা মিটিং মিছিলে উপস্থিত হওয়া কিংবা সেই দলের কাউকে ভোট দেয়া- যার অর্থ হচ্ছে আপনি সেই দলকে বা সেই দলের নেতা কর্মীদের আপনি ভালবাসেন, পছন্দ করেন, তাদেরকে আপনি বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। আপনি কি জানেন, দুনিয়ার এই ভালবাসা বা বন্ধুত্ব কিয়ামতেও থাকবে। তথা আপনি যেই নেতাকে ভালবাসেন সেই নেতা জান্নাতে গেলে আপনিও জান্নাতে যাবেন আর সেই নেতা জাহান্নামে গেলে তার সাথে আপনিও জাহান্নামে যাবেন। তাই আপনাকে দুনিয়ায় থাকতেই এমন নেতা নির্বাচন করে নিয়ে তার সাথে চলাফেরা করতে হবে যিনি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাসুল সা. বলেন,

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে। সুতরাং তার বন্ধু নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, সে কাকে বন্ধু নির্বাচন করছে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫০১৯, সুনান আততিরমিযী ২৩৭৮, সুনান আবূ দাঊদ ৪৮৩৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৯২৭, সহীহুল জামি‘ ৩৫৪৫, আহমাদ ৮৪১৭, শু‘আবুল ঈমান ৯৪৩৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/১৬৫, আল মুসতাদরাক ৭৩১৯)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

কিন্তু দেখা যায়, আপনি এমন একটি অনৈসলামিক দলের নেতাকে ভালবাসেন বা সমর্থন করেন যিনি ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, মদ, জুয়া, যিনা/ব্যভিচার, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্মের সাথে জড়িত। সেই নেতা শুধু নামে মুসলমান কিন্তু ইসলামের কিছুই নেই তার ভিতরে, এমন নেতাকে বা এমন নেতার দলকে সমর্থন করা কিংবা সেই দলকে ভোট দেয়া ইসলামে নিষেধ।

কিয়ামতে আপনার সেই নেতার সাথেই হাশর হবে যাকে আপনি ভালবাসেন, যাকে ভোট দেন, যাকে সমর্থন করেন এপ্রসঙ্গে রাসুল সাঃ বলেন,

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ এক ব্যক্তি একদলকে ভালবাসে, কিন্তু (’আমলে) তাদের সমপর্যায়ের হতে পারেনি। তিনি বললেনঃ মানুষ যাকে ভালবাসে, সে তারই সাথী হবে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬১৭০, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬১৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৪১,  হাদীস সম্ভার ৩৪১৩, আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

তিনি আরো বলেন,

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল : হে আল্লাহর রসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমার জন্য পরিতাপ। কিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুত করেছ? সে জবাবে বলল, আমি কিছুই করিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসী। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তার সাথেই হবে যাকে তুমি ভালোবাসো। (রাবী) আনাস (রাঃ) বলেনঃ ইসলাম আবির্ভাবের পর মুসলিমদেরকে আমি কোন কথায় এতটা খুশি হতে দেখিনি, যতটা তারা খুশি হয়েছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বাণীতে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫০০৯, (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬১৬৭, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬০৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৩৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩০৩২, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ২৭০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৪৯৭, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০৩১৭, আহমাদ ১২০১৩, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৩৫৫৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৮, দারাকুত্বনী ৩, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৭/৩০৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪১০, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ২৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৭০, ইসলামিক সেন্টার ৬৫২১, হাদীস সম্ভার ৩৪১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

তিনি আরো বলেন,

আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার কি অভিমত? যে কোন কওম বা দলকে ভালোবাসে; কিন্তু তাদের সাথে (কখনো) সাক্ষাৎ হয়নি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে ব্যক্তি তার সাথেই আছে, যাকে সে ভালোবাসে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫০০৮, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)  ৬১৬৮, ৬১৬৯, ৬১৭০; সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬১১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৪০, সুনান আততিরমিযী ২৩৮৭, সুনান আবূ দাঊদ ৫১২৭, সহীহুল জামি‘ ৬৬৮৯, সহীহ আত্ তারগীব ৩০৩৩, বাযযার ৩০১৪, আহমাদ ১৩৩৮৮, আবূ ইয়া‘লা ৫১৬৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৭, শু‘আবুল ঈমান ৪৯৭, সুনানুর নাসায়ী আল কুবরা ১১১৭৮, দারাকুত্বনী ২, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৭২০৮, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ৭৯৫, হাদীস সম্ভার ৩৪১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৭৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৫২৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে। (হাদীস সম্ভার ৩৪১২, আহমাদ ৮০২৮, সুনান আবূ দাঊদ ৪৮৩৫, সুনান আততিরমিযী ২৩৭৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

অসৎ লোককে সমর্থন করা, ভোট দেয়া, তাকে ভালবাসা বা তার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক রাখার  শেষ পরিনতি কিয়ামতে ভোগ করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“অপরাধী সেদিন স্বীয় হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে (ভাল না বাসতাম, সমর্থন না করতাম, ভোট না দিতাম) বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! সে তো আমাকে উপদেশ বাণী থেকে (ইসলামী দল থেকে/ইসলামের পথ থেকে)  বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে তা আসার পর, শয়ত্বান মানুষের প্রতি বিশ্বাসঘাতক”। (সুরা আল ফুরকান ২৭-২৯)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৎলোকের সাহচর্য ও অসৎলোকের সাহচর্য যথাক্রমে কস্তুরী বিক্রেতা (আতরওয়ালা) ও কর্মকারের হাপরে ফুঁক দেয়ার মতো। কস্তুরী বিক্রেতা হয়তো তোমাকে এমনিতেই কিছু দান করবে অথবা তুমি তার নিকট থেকে কিছু কস্তুরী ক্রয় করবে। আর অন্ততপক্ষ কিছু না হলেও তার সুঘ্রাণ তোমার অন্তর ও মস্তিষ্ককে সঞ্জীবিত করবে। পক্ষান্তরে হাপরে ফুঁকদানকারী তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে। আর কিছু না হলেও তার দুর্গন্ধ তুমি পাবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫০১০, (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)  ২১০১, ৫৬৩৪; সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৫৮৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬২৮, সুনান আবূ দাঊদ ৪৮৩১, সহীহুল জামি‘ ২৩৬৮, সহীহ আত্ তারগীব ৩০৬৪, বাযযার ৩১৯০, আহমাদ ১৯৬৬০, আবূ ইয়া‘লা ৪২৯৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬১, আল মুসতাদরাক ৭৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৪৫৩, ইসলামিক সেন্টার ৬৫০৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এক সময় মূর্খতা ও অকল্যাণের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (দীন-ইসলাম) দান করেন। তবে কি এ কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা আসবে, তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কি ধরনের? তিনি (সা.) বললেন, লোকেরা আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরীকাহ্ গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আগমন করবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কতক আহ্বানকারী লোকেদেরকে সেই দিকে ডাকবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে তাদের পরিচয় অবহিত করুন। তিনি (সা.) বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, আমি সে অবস্থায় উপনীত হলে তখন আমাকে কি কি অদেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি মুসলিমদের দল ও মুসলিমদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোন মুসলিম জামা’আত ও মুসলিম ইমাম না থাকে (তখন আমাকে কি করেতে হবে)? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি সেই সমস্ত বিচ্ছিন্ন দলকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয় নিতে হয় এবং তুমি এই নির্জন অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয় (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত বাতিল থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে, এতে যে কোন দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারে তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে)। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার (ওফাতের) পরে এমন কতিপয় ইমাম ও বাদশাহর আগমন ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত ও তরীকানুযায়ী আমল করবে না। আবার তাদের মধ্যেও এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে যারা শরীরে গঠনে এবং চেহারা আকৃতিতে মানুষই হবে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি সেই অবস্থায় পতিত হই তখন আমার কর্তব্য কি হবে? তিনি (সা.) বললেন, তোমার আমির (শাসক) যা বলে তা মানবে এবং তার অনুসরণ করবে, যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবুও তার নির্দেশ মেনে চলবে এবং তার আনুগত্য করবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫৩৮২, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩৬০৬, ৩৬০৭, ৭০৮৪, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৬৭৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৪৭, সুনান আবূ দাউদ ৪২৪৪, সিলসিলাতুস সহীহাহ্ ১৭৯১, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৭১১, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৭১১৩, মুসনাদে বাযযার ২৯৬০, মুসনাদে আহমাদ ২৩৪৭৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৯৬৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৮০৩৩, হিলয়াতুল ১/২৭২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭০৫৩, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি হাউযে কাউসারের নিকট তোমাদের আগেই হাজির থাকব। তোমাদের থেকে কিছু লোককে আমার নিকট পেশ করা হবে। কিন্তু আমি যখন তাদের পান করাতে উদ্যত হব, তখন তাদেরকে আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নেয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সাথী। তখন তিনি বলবেন, আপনার পর তারা নতুন কী ঘটিয়েছে তা আপনি জানেন না। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৭০৪৯, ৬৫৭৫, আধুনিক প্রকাশনী ৬৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৭৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।

সাহ্ল ইব্নু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – কে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউজের ধারে তোমাদের আগে হাজির থাকব। যে সেখানে হাজির হবে, সে সেখান থেকে পান করার সুযোগ পাবে। আর যে একবার সে হাউজ থেকে পান করবে সে কখনই পিপাসিত হবে না। অবশ্যই এমন কিছু দল আমার কাছে হাজির হবে যাদের আমি (আমার উম্মাত বলে) চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। কিন্তু এরপরই তাদের ও আমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা দাড় করে দেয়া হবে।

আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন,

আমি হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এমন সময় নু’মান ইব্নু আবূ আয়াস আমার নিকট হতে এ হাদীসটি শুনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি সাহ্ল থেকে হাদীসটি এরূপ শুনেছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাঃ) - কে এ হাদীসে অতিরিক্ত বলতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বলবেনঃ এরা তো আমারই অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি নিশ্চয় জানেন না যে, আপনার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কি পরিবর্তন করেছে (নতুন নতুন ধর্মীয় নিয়ম, যা আপনি করতে বলেননি) । এ শুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে, তারা (বিদআতী পির-অলি ও আলেম) দূর হোক, দূর হোক। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৭০৫০-৭০৫১, আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।

কিয়ামতে বন্ধুরাই পরস্পর শত্রু হবে। এপ্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“বন্ধুরা সেদিন হয়ে পড়বে একে অন্যের শত্রু, মুত্তাকীরা ছাড়া”। (সূরা আয্-যুখরুফ- ৬৭ )।

(৬) জেনে শুনে নেতার অন্যায়মূলক কাজে সহযোগিতা করলে তার স্থান হবে জাহান্নামেঃ

যারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামি শরিয়াহ আইন মোতাবেক রাষ্ট্র শাসন করবে না এমন দলকে ভোট দেয়া বা তাদের কোনো কাজে সাহায্য সহযোগিতা করা বা তাদেরকে ভোট দেয়া বা সমর্থন করা জায়েজ নেই। অনৈসলামিক দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীই বিভিন্ন অন্যায় বা অসৎ কাজের সাথে জড়িত। আপনি মুসলিম হিসেবে তাদেরকে ভোট দিলে, তাদের মিটিং মিছিলে যোগদান করলে বা তাদেরকে অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করলে আপনাকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“সৎ কাজ ও আত্মসংযমে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অতি কঠোর”। (সুরা আল মায়েদা-২)।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা জালেমদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না, জালেমদের সহযোগী হবে না, তাহলে আগুন (জাহান্নামের) তোমাদেরও স্পর্শ করবে।’ (সূরা হূদ: ১১৩)।

ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কারো যুলুমমূলক মামলায় সহযোগিতা করে অথবা যুলুমে সহায়তা করে, তা থেকে নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বদাই সে আল্লাহর গযবে নিপতিত থাকে। (সুনান ইবনু মাজাহ ২৩২০, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ৩৫৯৭, ইরওয়া ৭/৩৫০, সহীহাহ ৪৩৮, ১০২১)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih।

(৭) অনৈসলামিক দলের আলেম ওলামা ভোটারদের করুন পরিনতিঃ

যেসব আলেম, ওলামা, পীর আউলিয়া, গাউস কুতুব, মাওলানা, হুজুর, মুফতি, শায়েখ, মুহাদ্দিস, ওস্তাদ, বাংলাদেশ ওলামালীগ, জাতীয়তাবাদি ওলামা দল ও সাধারণ মুসলিম ভোটার ইসলামি দল ব্যতীত কোনো অনৈসলামিক দলকে ভোট দিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্রবাজি, ঘুষ দুর্নীতি, অপহরণ, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, মারামারি, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনসহ সকল অন্যায়ের সহযোগী হবে তারা জাহান্নামী। এইসব আলেমগণ নিজেরা কুরআন হাদিসের কথা বলে অন্যকে উপদেশ দেয় অথচ নিজেরা কোনো কুফরি দলকে ভোট দিয়ে বা সমর্থন করে সেই দলের নেতা কর্মীদের অন্যায় বা অসৎ কাজ করতে সহযোগিতা করে থাকে।

কিয়ামতে ঐসব আলেম ভোটারদের পেটের নাড়িভুঁড়ি ঘুরপাক খেতে থাকবে যারা নিজেরা ন্যায় অন্যায়ের কথা বলতো কিন্তু নিজেরাই অন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে অন্যায়ের সহযোগী হতো।

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন একজন লোককে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, সাথে সাথেই তার পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে পড়বে। সে নাড়িভুঁড়িকে কেন্দ্র করে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেভাবে আটার চাক্কিকে কেন্দ্র করে গাধা ঘুরতে থাকে। এটা দেখে জাহান্নামবাসীরা তার পাশে জমায়েত হয়ে তাকে বলবে : হে অমুক! তোমার ব্যাপার কি? তুমি না আমাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করতে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করতে? লোকটি বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎ কাজের জন্য আদেশ করতাম; কিন্তু নিজে সেটা করতাম না। আর তোমাদেরকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতাম; কিন্তু নিজে সেটা থেকে বিরত থাকতাম না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫১৩৯, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩২৬৭, ৭০৯৮, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৭৩৭৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৯৮৯, সহীহুল জামি‘ ৮০২২, সহীহ আত্ তারগীব ১২৪, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৯২, আহমাদ ২১৭৮৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৫৬৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৭০৪, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৩৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih।

আর ঐসব আলেমদের দিয়ে জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে যারা দুনিয়ার খ্যাতি অর্জনের জন্য আলেম হয়েছে কিন্তু ন্যায় অন্যায় মেনে চলতো না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২০৫, মুসলিম ১৯০৫, সুনান আততিরমীজী ২৩৮২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যখন আমাকে মে‘রাজের রাতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমি কতিপয় লোককে দেখলাম, যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দ্বারা কেটে দেওয়া হচ্ছে। আমি বললাম, হে জিব্রীল! এরা কারা? তিনি বললেন, তারা আপনার উম্মতের বক্তাগণ, যারা মানুষকে ভাল কাজের জন্য আদেশ করত এবং নিজেদেরকে ভুলে যেত তারা কুরআন তেলাওয়াত করত। কিন্তু তারা চর্চা করত না। (তারগীব ওয়াত তারহীব হা/২৩২৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৯১)।

 (৮) অনৈসলামিক দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী ডাকাতী, রাহাজানী ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিশৃংখলার সাথে জড়িত হওয়ায় তাদেরকে এই দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবেঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায় তাদের শাস্তি কেবল এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে বা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে বা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে বা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্ছনা ও আখেরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে”। (সুরা আল মায়েদা ৩৩)।

আর এইসব নেতা-কর্মীদেরকে যারা সমর্থন করে, ভোট দেয় বা ভালোবাসে তাদেরকে অন্যায়ের সহযোগী হিসেবে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

(৯) অনৈসলামিক দলের নেতা-কর্মীরা মাঝে মধ্যেই আল্লাহ ও রাসুল সা. এর আদেশ নিষেধের বিরুদ্ধাচারণ করে থাকে, তাই তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব পাকড়াও করবেঃ

রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেখা যায় প্রায়ই তারা আল্লাহ ও রাসুল সা. আদেশ নিষেধের বিরুদ্ধে ভাষণ দেয়। যেমন বিএনপির এক নেত্রী পুরুষদের চারটি বিয়ে করা নিয়ে  ব্যঙ্গ করেছে। অথচ চারটি বিয়ে করা আল্লাহর তায়ালা ও রাসুল সা. এর  নির্দেশ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা যে-সব নারীর সঙ্গে বিবাহ করতে চাও, তাদের মধ্যে যাকে তোমরা পছন্দ করো দুই, তিন অথবা চার জন। তবে যদি তুমি মনে করো যে, সবার সঙ্গে সমতা বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে একটাই স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে করো”। (সুরা নিসা: ৩)।

কায়েস ইবনুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তখন আমার আটজন স্ত্রী ছিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি বলেনঃ তাদের মধ্যে তোমার পছন্দমত চারজনকে রেখে দাও। (সুনান ইবনু মাজাহ ১৯৫২, সুনান আবূ দাউদ ২২৪১, ইরওয়াহ ১৮৮৫, সহীহ আবী, দাউদ ১৯৩৯)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

এখন যারা জেনেশুনে আল্লাহ ও রাসুল সা. এর আদেশ নিষেধের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব পাকড়াও করবে।

(ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যারা তাঁর (রাসুলসঃ)  হুকুমের বিরুদ্ধাচারন করে  এ বিষয় তাদের সতর্ক থাকা একান্ত কর্তব্য যে, তারা মহাবিপদ গ্রস্ত হবে অথবা যন্ত্রনা দায়ক আযাব তাদেরকে পাকড়াও করবে”।  (সুরা নূর-৬৩)।

(খ) আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“আর কারো নিকট সৎ পথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে আমরা ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস!” (সুরা আন নিসা ৪:১১৫)।

যেসব নেতা আল্লাহ ও রাসুল সা. এর বিরুদ্ধাচারণ করে তথা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে যারা ভোট দেয়, সমর্থন করে তাদেরকেও কঠিন আযাব পাকড়াও করবে।

(১০) জাহান্নামে নেতাদের সাথে মুসলিম ভোটারগণ তর্কেবিতর্কে লিপ্ত হবেঃ

আপনি যাকে ভালবাসেন, যাকে সমর্থন করেন, যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে কুরআর সুন্নাহ বিরোধী আইন পাশ করাতে এবং তা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করেছেন সেইসব নেতাসহ জাহান্নামে গিয়ে আপনাদের মাঝে যেসব কথোপকথন হবে তা নিম্নরুপঃ

অসৎ ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করায় দুনিয়াতে ছোট হোক বা বড় হোক সকল অনুসৃত ব্যক্তি এবং তার অনুসারীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা এবং আযাবের ভয়াবহতা দেখে জাহান্নামে প্রবেশের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করবে। অনুসারীরা অনুসৃত ব্যক্তির কাছে জাহান্নামের আগুনের আযাব থেকে পরিত্রাণ চাইবে। কিন্তু তাদের সেদিন কোন কিছুই করার ক্ষমতা থাকবে না। এমতাবস্থায় তাদের মাঝে চরম তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হবে। যা আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন এভাবে-

“এ এক বাহিনী, তোমাদের সাথে (জাহান্নামে) প্রবেশকারী। তাদের জন্য নেই কোন অভিনন্দন। বরং তারা জাহান্নামে জ্বলবে। (তখন অনুসারীরা) বলবে, বরং তোমরাও তো (জাহান্নামী), তোমাদের জন্যও কোন অভিনন্দন নেই। তোমরাই তো পূর্বে আমাদের জন্য ব্যবস্থা করেছ। কত নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! এটা যে আমাদের সম্মুখীন করেছে, জাহান্নামে তার শাস্তি দ্বিগুণ বর্ধিত করুন”। (সুরা ছোয়াদ ৩৮/৫৯-৬১)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

“যখন তারা জাহান্নামে পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হবে, তখন দুর্বলেরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম। এখন কি তোমরা আমাদের থেকে জাহান্নামের (আযাবের) কিছু নিবারণ করবে? অহংকারীরা বলবে, আমরা তো সবাই জাহান্নামে আছি। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের বিচার করে ফেলেছেন”। (সুরা মুমিন ৪৭/৪৮)।

পৃথিবীতে যারা মূর্খ ও পথভ্রষ্ট আলেম এবং তাদের যারা অনুসারী ছিল জাহান্নামে তারা পরস্পরে তর্ক-বিতর্ক করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হ’য়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের ডান দিক থেকে আসতে। তারা বলবে, বরং তোমরাতো বিশ্বাসী ছিলে না এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্বও ছিল না। বস্তুত তোমরাই ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিপালকের কথা সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করতে হবে। আমরা তোমাদের বিভ্রান্ত করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাই বিভ্রান্ত ছিলাম। সুতরাং তারা সকলেই সেইদিন শাস্তিতে শরীক হবে”। (সুরা ছা-ফফাত ৩৭/২৭-৩৩)।

(১১) অনৈসলামিক দলের নেতাকে ভোট দিলে বা সমর্থন করলে সেই মুসলিম ভোটারদের সব আমল বরবাদ হয়ে যাবেঃ

অনৈসলামিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়, এদের মধ্যে শিরক, কুফর ও বিদআত বিদ্যমান। এরা পীর পূজারী ও মাজার পূজারী হয়ে থাকে। এরা কুরআন অবমাননাকারী, আল্লাহ ও রাসুল সা. কে কটূক্তিকারীদের পক্ষ নেয় এবং তাদেরকে সমর্থন করে থাকে। এইসব নেতা-কর্মীরা নামেমাত্র মুসলমান। এরা ইহকালে ভ্রান্ত পথে চলে এবং এদেরকে ইসলামের সঠিক পথের সন্ধান দিলেও তা শুনেতে চায় না, মানতে চায় না। এরা ইসলামি শরিয়াহ আইন সংক্রান্ত কুরআনের আয়াত ও হাদিস মানে না। তাই এদের সব আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে নবি বলো, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেব না  কোন্ কোন্ লোক নিজেদের আমলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ? এরা হচ্ছে ঐ সমস্ত লোক যারা ইহকালের জীবনে ভ্রান্ত পথে চলে এবং মনে করে যে তারা ঠিক পথ ধরেই চলেছে। এরা তারাই, যারা তাদের প্রতিপালক প্রভুর আয়াতগুলোকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং তার দরবারে প্রত্যাবর্তনের প্রতি অবিশ্বাস পোষন করে। এ জন্যে তাদের সকল আমল নষ্ট হয়ে গেছে এবং কিয়ামতের দিন তাদের কোনই গুরত্ব থাকবে না। তারা যে কুফরী করেছিলো আর আমার আয়াত  ও রাসুলগণের প্রতি ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো তার প্রতি দানে তারা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে”। (সুরা কাহাফঃ ১০৩-১০৫)।

(১২) যারা কুরআনের কিছু আয়াত মানে আর কিছু আয়াত মানে না তারা জাহান্নামীঃ

অনৈসলামিক দলের নেতা কর্মীরা ইসলামকে শুধু নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, তাসবিহ, পায়জামা পাঞ্জাবী আর টুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। ইসলামে যে আরো ফরজ কাজ আছে যেমন, ইসলামের পথে আহবান করা বা দাওয়াত দেয়া প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য ফরজ, খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা ফরজ, ইসলামি আইন অনুসারে বিচার করা ফরজ, জিহাদ করা ফরজ ইত্যাদি আর এসব সংক্রান্ত অসংখ্য কুরআনের আয়াত রয়েছে। যিনি নিজেকে মুসলিম দাবী করবেন তাকে অবশ্যই কুরআনের সকল আয়াতই বিশ্বাস করতে হবে, মানতে হবে। যদি কেউ কুরআনের কোনো কোনো আয়াত মানে আর কোনো কোনো আয়াত না মানে তাহলে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতেও তাকে প্রকাশ্য লাঞ্চণা ভোগ করাবেন আর কিয়ামতের দিনে ভীষণ শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত করবেন তথা জাহান্নামে ছুড়ে মারবেন। বিএনপির মহাসচিব জনাব ফখরুল সাহেব বলেছেন, তারা ইসলামি শরিয়াহ আইন বিশ্বাস করে না, মানে না। এই কথা বলা মানে কুরআনের আয়াত না মানা। যারা তার কথার সাথে একমত, যারা তাকে বা তার দলকে ভোট দিবে তারা সকলেই কিয়ামতে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। কারণ এইসব কর্মী বা ভোটারগণ এইসব নেতাদের ভালোবাসে, তাদেরকে সমর্থন করে, তাদের সাথেই উঠা-বসা আর এই ভালোবাসার কারণে কিয়ামতে তাদের সাথে হাশর হবে। তথা নেতা জাহান্নামে গেলে কর্মী বা ভোটারগণও জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা কি কুরআনের কোন কোন অংশ (আয়াত) মানো আর কোন কোন অংশ মানো না? অত:পর যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্য থেকে এরুপ কাজ  করবে – পার্থিব জীবনে প্রকাশ্য লাঞ্চণা ভোগ করা আর কিয়ামতের দিনে ভীষণ শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়া ছাড়া তার আর কী সাজা হতে পারে! আর আল্লাহ তো তোমাদের কার্য কলাপ সম্বন্ধেবে- খবর নন”। (সুরা আল বাকারা-৮৫)।

(১৩) ইসলামি দল ব্যতীত অন্য দলকে ভোট দিলে সে জাহান্নামীঃ

ইসলামের রাজনীতি করা বা ইসলামি দল করা প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য ফরজ। মুসলিম হিসেবে ইসলামি আইন, পথ, মত বাদ দিয়ে মানুষের তৈরী কোনো আইন, পথ বা মতকে কোনোক্রমেই সমর্থন বা স্বীকার করা যাবে না। যেসব রাজনৈতিক দল ইসলামি আইন বাদ দিয়ে মানুষের তৈরী আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে তাদেরকে ভোট দেয়া যাবে না। কারণ তারা ইসলামি দল গঠন করেনি, তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো ধারা উল্লেখ নেই। ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের কোনো লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই। এরপরও জেনেশুনে যারা ইসলামি দল ব্যতীত অন্য দলকে ভোট দিবে বা সমর্থন করবে তাদের স্থান হবে জাহান্নামে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

 “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া তথা ইসলামি দল ছাড়া বা ইসলামি আইন ছাড়া বা ইসলামি শাসনব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন বা আইন বা অনৈসলামিক দল বা ভিন্ন পথ, মত  অবলম্বন করতে চাইবে, তার থেকে সে দ্বীন কবুল করা হবে না তথা তার সেই কাজ কবুল করা হবে না বা তাকে কোনো সওয়াব দেয়া হবে না বা তার আমলনামা শূন্য হবে। আখেরাতে যারা মহা ক্ষতিগ্রস্ত তথা যারা জাহান্নামি, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে তথা জাহান্নামি হবে”। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৮৫)।

(১৪) নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়া ও নারী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কুফলঃ

নারীগণ পরিবার, সমাজ , কর্মস্থল, হাটবাজার, হজ্জে গমন, রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র কীভাবে চলাফেরা করবে, তাদের কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা কতোটুকু তা ইসলাম পরিস্কার গাইডলাইন দিয়েছে। ইসলাম সমর্থন করে না নারীদের উলঙ্গ বেহায়াপনা, পর্দাহীনতা, লিভটুগেদার, সমকামিতা, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি। অনৈসলামিক দলে দেখা যায় তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় তথা রাষ্ট্রীয় শাসন কাজে কর্তৃত্ব প্রদান করে থাকে। কিন্তু ইসলাম নারীদের এই কর্তৃত্ব বা নেতৃত্ব সমর্থন করে না। ইসলাম যেখানে সমর্থন করে না সেখানে মুসলিম হিসেবে কোনো যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করা যাবে না। অনৈসলামিক দলের নারী নেতৃগণকে দেখা যায়, তারা কেউই ইসলামি বিধান মোতাবেক চলাফেরা করে না। সমাজ ও রাষ্ট্রে তারা ফেতনা তৈরি করে, যারফলে পুরো রাষ্ট্রে নেমে আসে আল্লাহর গযব। তাই কোনো নারীকে নেতৃত্ব প্রদান করতে কাউকে ভোট প্রদান করা যাবে না।

আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ আসলো যে, পারস্যের (ইরানের) অধিবাসীরা কিস্রার কন্যাকে তাদের সম্রাজ্ঞী নিযুক্ত করেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে জাতি কক্ষনো সফলকাম হতে পারে না, যারা দেশের শাসনভার কোনো মহিলার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে। (মিসকাতুল মিসকাত ৩৬৯৩, সহীহ : বুখারী ৪৪২৫, নাসায়ী ৫৩৮৮, তিরমিযী ২২৬২, সহীহাহ্ ২৬১৩, ইরওয়া ২৪৫৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(১৫) অনৈসলামিক দলের নেতা কর্মীরা কোনো পাপাচার যেমন যিনা/ব্যভিচার, মদ পান, জুয়া খেলা, সমকামিতা, নারীদের পর্দাহীনতা, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করা, গান-বাজনা, নৃত্য ইত্যাদি হতে দেখলে বাঁধা না দেয়ায় তাদের কারণে আল্লাহ তায়ালা  এই পৃথিবীতে ব্যাপক আযাব প্রেরণ করে থাকেনঃ

জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্বেও তাদের পাপাচারীদের বাধা দেয় না, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান। (সুনান ইবনু মাজাহ ৪০০৯, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ৪৩৩৯, আহমাদ ১৮৭৩১, ১৮৭৬৮, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৭০, ইবনে হিব্বান, সহীহ আবূ দাউদ ৩৬৪৬)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই উম্মাতের শেষ পর্যায়ে ভূমিধস, শারীরিক অবয়ব বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের শাস্তি নিপতিত হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের মাঝে সৎলোক বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন ঘৃণ্য পাপাচারের প্রকাশ ও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। (সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ২১৮৫, সহীহাহ ৯৮৭, রাওযুল নামীর ২/৩৯৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(১৬) অনৈসলামিক দলের নেতাদের, জনগণকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়া, জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করা ও তাদেরকে যারা ভোট দিয়ে অন্যায়মূলক কাজে সহযোগিতা করে তাদের পরিনামঃ

নির্বাচন এলে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ভোট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা করে থাকে। যেমন, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী পলাতক শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে বলেছিলো, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলবে, দশ টাকায় চাল দিবে, ঘরে ঘরে চাকরি দিবে ইত্যাদি। কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর আমরা কি তার কোনো বাস্তবতা দেখেছি? তারা যেসব ওয়াদা করেছিলো তার একটাও পূরণ করেনি। তেমনি বিএনপিও নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, তারা মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাবে, কুরআন বিরোধী কোনো আইন করবে না, প্রথম দেড় বছরেই এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে, ব্যাংকের উন্নয়ন করবে ইত্যাদি। এখানে একটা বিষয় পরিস্কার যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রে ইসলাম বিষয়ক কোনো কথা লেখা নেই। তাদের গঠনতন্ত্রের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে “মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাবে, কুরআন বিরোধী কোনো আইন করবে না” এসব লেখা নেই। তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠা করা।

এক নেতা মাথায় টুপি দিয়ে আলেমদের নিকট গিয়ে বলে ধর্মের কথা, আরেক নেতা সরাসরি বলে আমরা ইসলামি শরিয়াহ আইন বিশ্বাস করি না, মানি না। আরেক নেতা বলে, আমি হিন্দুও না মুসলমানও না। আবার আরেক নেত্রী ইসলামে চার বিয়ে নিয়ে কটূক্তি করে। আরেক নেতা হিন্দুদের পূজাকে শয়তানের সাথে তুলনা করে। আসলে এসবই হচ্ছে জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি। এইসব নেতাদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়া, জনগণের সাথে ধোকবাজি করা ও তাদেরকে ভোট দিয়ে যারা সহযোগিতা করে তাদের কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরিণামঃ

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

অর্থাৎ “আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)।

তিনি অন্যত্র বলেছেন,

অর্থাৎ “তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” (সূরা নাহল ৯১ আয়াত)।

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” (সূরা মাইদাহ ১ আয়াত)।

তিনি আরো বলেছেন,

অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা বল কেন? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক।” (সূরা স্বাফফ ২-৩ আয়াত)।

নেতাগণ জনগণের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে বা অঙ্গিকার করে বা ওয়াদা দিয়ে তা পূরণ না করলে তাদের মৃত্যু হবে মুনাফিকীর মৃত্যু।

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।

(ক)  আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে;

(খ)  কথা বললে মিথ্যা বলে;

(গ)  প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং

(ঘ) বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি দেয়। শু‘বা আ‘মাশ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফইয়ান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩৪, ২৪৫৯, ৩১৭৮; সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ১১৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫৮,  মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৫৬, সুনান আততিরমিযী ২৬৩২, সুনান আননাসায়ী ৫০২০, সুনান আবূ দাউদ ৪৬৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫, ৬৮৪০, আহমাদ ৬৭৮২, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৫৪, সহীহ আত্ তারগীব ২৯৩৭, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহ ও ঈমানদারগণের সাথে প্রতারণা করে। অথচ এর মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সাথেই প্রতারণা করে। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনা’। (সুরা বাক্বারাহ ২/৯)।

আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিক পুরুষ ও নারী পরস্পরে সমান। তারা অসৎ কাজের আদেশ দেয় ও সৎকাজে নিষেধ করে এবং তাদের হাত সমূহ বন্ধ রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাদের ভুলে গেছেন। নিশ্চয় মুনাফিকরাই হলো পাপাচারী’। (সুরা তওবা-মাদানী ৯/৬৭)।

হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন, ‘এক শ্রেণীর যিনদীক্ব রয়েছে যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম ও রাসূলগণের অনুসরণের কথা প্রকাশ করে এবং মনের মাঝে কুফর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি শত্রুতা লুকিয়ে রাখে। এরাই মূলত মুনাফিক এবং এদেরই আবাসস্থল হবে জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে’। (সুরা নিসা ৪/১৪৫)।

মুনাফিকদের সখ্যতা ও সম্প্রীতি মুমিনদের সাথে নয় বরং কাফেরদের সাথে। কাফেরদের সাথে তাদের এই দহরম মহরমের জন্য আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মুনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’। ‘যারা মুমিনদের ছেড়ে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের কাছে সম্মান কামনা করে? অথচ সকল সম্মান কেবল আল্লাহরই জন্য’। (সুরা নিসা ৪/১৩৮-১৩৯)।

জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করার পরিণামঃ

নেতাগণ জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ না করে ধোঁকা দিয়ে থাকে। নেতাদের ধোঁকাবাজির কারণে তাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। ধোঁকাবাজিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

ইবনু ’উমার ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

আর ইমাম মুসলিম (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, আর যে ব্যক্তি  আমাদের সাথে প্রতারণা করে বা ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৫২০, বুখারী ৭০৭, মুসলিম ১০১, সুনান আননাসায়ী ৪১০০, সুনান আততিরমিযী ১৪৫৯, সুনান ইবনু মাজাহ ২৫৭৫, আহমাদ ৯৩৯৬, সহীহ আল জামি‘ ৬২১৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৬৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

কেউ কাউকে ধোঁকা দিলে সেই ধোঁকাবাজের আমলনামায় একটি করে পাপ লেখা হয়।

আব্দুল্লাহ ইবনু আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে বসা অবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বললেন, এই যে, এসো! তোমাকে দিবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেনঃ তাকে কি দেয়ার ইচ্ছা করছে? তিনি বললেন, খেজুর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তাহলে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হতো। (সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ৪৯৯১, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৮৮২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৭৪৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৯৪৩, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৬০৯)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকদের জন্য একটি করে পতাকা উত্তোলিত (খাড়া) করা হবে, আর বলা হবে- এটা অমুকের পুত্র, অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার দৃষ্টান্ত। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৭২৫, ৩৭২৬, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬১৭৮, ৩১৮৮,  সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)   ৪৪২১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৭৩৫, সুনান আবূ দাঊদ ২৭৫৬, সুনান আততিরমিযী ১৫৮১, আহমাদ ৪৬৪৮, সহীহ আল জামি‘ ১৬৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ৩০০১, আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৩২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকদের নিতম্বের সাথে তার জন্য (অপরাধ অনুপাতে) একটা করে পতাকা রাখা হবে।

অপর বর্ণনাতে আছে, কিয়ামত দিবসে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকদের জন্য তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুপাতে পতাকা উত্তোলিত হবে। সাবধান! রাষ্ট্র প্রধানের বিশ্বাসঘাতকতাই হবে সর্ববৃহৎ (অপরাধ)। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩৭২৭, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৪৩০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৭৩৮, সুনান আততিরমিযী ২১৯১, আহমাদ ১১৩০৩, সহীহাহ্ ১৬৯০, সহীহ আল জামি‘ ৫১৬৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

জনগণের সাথে যারা ধোঁকাবাজি করে তারা জান্নাতে যাবে না।

জান্নাত হচ্ছে মুমিনের জন্য। ঈমানদারের জন্য। সচ্চরিত্র মানুষের জন্য। জান্নাতে চিরস্থায়ী সুখময় জীবন উপহার দেওয়া হবে মুমিনকে। ধোঁকাবাজ জান্নাতে যেতে পারবে না। তার জন্য জান্নাতের দরজা বন্ধ। ধোঁকার হৃদয় জান্নাতে প্রবেশের ন্যূনতম যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো কৃপণ, ছদ্মবেশধারী ধোঁকাবাজ, খিয়ানতকারী ও অসচ্চরিত্র ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথম যারা জান্নাতের দরজার কড়া নাড়বে, তারা হবে দাস-দাসী, যদি তারা আল্লাহ ও তাদের মনিবের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৩২)।

অনৈসলামিক দলকে ভোট দিয়ে বা নেতাদের অন্যায়মূলক কাজে  সহযোগিতা করলে তার স্থান হবে জাহান্নামেঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“সৎ কাজ ও আত্মসংযমে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অতি কঠোর”। (সুরা আল মায়েদা-২)।

পরিশেষে এটাই বলছি যে, আপনি একজন মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, সবসময় তাসবিহ পাঠ করেন, হজ্জ করেন, দান করেন তথা নিজেকে একজন পাক্কা ঈমানদার মুত্তাকী বা পীর আউলিয়া, গাউস কুতুব সেজেছেন বা একজন প্রখ্যাত আলেম সেজেছেন বা নামকরা বড় হুজুর সেজেছেন কিন্তু আপনি আল্লাহর আইন আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে বাঁধা সৃষ্টি করেন, আপনি চান না ইসলামি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা হোক আর সেই লক্ষ্যে এমন একটি রাজনৈতিক দলকে আপনি ভালোবাসেন, পছন্দ করেন, সমর্থন করেন ও নির্বাচনের সময় তাদেরকে ভোট দেন তাহলে আপনার সমস্ত আমল বিফলে যাবে। তাই নিজের ঈমান আমল ঠিক রাখতে চাইলে, জান্নাতে যেতে চাইলে অনৈসলামিক কোনো দলকে ভোট দেয়া বা সমর্থন করা যাবে না।

বাংলাদেশে অনেক ইসলামি দল আছে। আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে ভোট দিবেন। আর কোনোটাই যদি পছন্দ না হয় তাহলে নিজে একটি ইসলামি দল গঠন করবেন তবু কোনো কুফুরি মতবাদে বিশ্বাসী অনৈসলামিক দলকে ভোট দেয়া যাবে না। ইসলামে এটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

প্রিয় মুসলিম ভোটারগণ, আবারো বলা যাচ্ছে যে, আপনি যদি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করেন এবং নিজের ঈমান আমল ঠিক রাখতে চান তাহলে চাঁদাবাজ, দখলবাজ (বাস স্ট্যান্ড, টেম্পু স্ট্যান্ড, ঘাট, ফুটপাত, রিকশা স্ট্যান্ড দখলকারী ইত্যাদি), অস্ত্রবাজ, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, অপহরকারী, খুনি, ধর্ষক, নির্যাতনকারী, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু বা ভুমিখোর, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনকারী, মদখোর বা নেশাখোর, নারীখোর, নিয়োগ বাণিজ্যকারী, অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জনকারী, কোনো কাজের কমিশন ভোগকারী, মিথ্যে ওয়াদাকারী, আমানতের খেয়ানতকারী, বেনামাজি, ইসলামের বিরোধীতাকারী, কাফির নাস্তিদের পক্ষাবলম্বনকারী, ধোঁকাবাজ ও মুনাফিক নেতাদের ভোট দেয়া যাবে না। এরপরও ইসলামি বিধানকে উপক্ষো করে যারা ইসলামি দল ব্যতীত অন্য দলকে ভোট দিবে তাদেরকে জাহান্নামে যেতে হবে।

এতদবিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে "মুসলিম হিসেবে আপনি কোন্ দলকে ভোট দিবেন? " নামক বইটি পড়ুন। PMMRC এর উপর ক্লিক করুন, (PMMRC)

(সমাপ্ত)

কুরআন ও সহিহ হাদিস ভিত্তিক লেখকের অন্যান্য সকল বই এক সাথে দেখতে চাইলে PMMRC এর উপর ক্লিক করুন।

(PMMRC)

 Author and Compiler:

Md. Izabul Alam-M.A., C.In., Ed. (Islamic Studies-Rangpur Carmichael University College, Rangpur), Prominent Islamic Thinker, Researcher, Political Analyst, Writer and Blogger.

(1) GENERAL DIRECTOR-MEDINA SAHIH HADITH RESEARCH CENTER (MSHRC)

(2) GENERAL DIRECTOR- PURE MUSLIM MAKING RESEARCH CENTER (PMMRC),

(3) DIRECTOR-Bangladesh BCS Coaching (BBC)

(4) PRINCIPAL -PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI)

(5) PRINCIPAL- BANGLADESH ONLINE UNIVERSITY (BOU)

(6) GENERAL DIRECTOR AND CONSULTAT-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES (PIS)

(7) EDITOR-BDC CRIME NEWS24

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক

বইয়ের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Addressসহ অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। এজন্যে  আপনি বসে বসে সওয়াব পেতে থাকবেন।

(ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের (কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)।

(খ) তিনি আরো বলেন, “তার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)।

(গ)  আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৫৮, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬৯৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৬০, ইসলামিক সেন্টার ৬৬১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

(ঘ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩৪৬১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১২, হাদিস  সম্ভার, হাদিস নং ১৫৪৮,  রিয়াদুস  সলেহিন,  হাদিস নং  ১৩৮৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।

Please Share On

No comments:

Post a Comment

অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলের মুসলিম ভোটারদের করুণ পরিনতি প্রখ্যাত বক্তা ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়েখ আহমাদুল্...