বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
হিজাব বা পর্দার বিধান
হিজাবের আভিধানিক অর্থঃ
হিজাব শব্দটি হাজব মূলধাতু থেকে নির্গত। আল-মু‘জামুল ওয়াসীত গ্রন্থে
এর আভিধানিক অর্থ বলা হয়েছে , অর্থ: পর্দা। (আল মু‘জামুল
ওয়াসীত, ১ম খ-, ১৫৬ পৃষ্ঠা)।
হিজাবের পারিভাষিক সংজ্ঞাঃ
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার
নিরসনের লক্ষ্যে নারী-পুরুষ উভয়েরই তাদের নিজ নিজ রূপ-লাবণ্য ও সৌন্দর্যকে একে অপর
থেকে আড়ালে রাখার জন্য ইসলামে যে বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে,
তাকে হিজাব বা পর্দা বলা হয়। (আল মু‘জামুল ওয়াসীত, ১ম
খ-, ১৫৬ পৃষ্ঠা)।
ইসলামে পর্দার হুকুম
পর্দা ব্যবস্থার প্রথমত দু’টি প্রকার রয়েছে।
নিম্নে প্রকারদ্বয় ও তার হুকুম সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
(১) ঘরোয়া জীবনে পর্দাঃ
পর্দার হুকুমের প্রথম পর্যায় হচ্ছে ঘরোয়া জীবনের
পর্দা। অর্থাৎ ঘরের অভ্যন্তরে পালনীয় ও অনুসরণীয় পর্দার বিধি-বিধান। এ সম্পর্কে আল্লাহ
তা‘আলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান কর এবং পূর্বকালীন
জাহেলিয়াতের মতো তোমরা ঘুরে বেড়াবে না।” (সূরাহ আহযাব,
আয়াত : ৩৩)।
অনুমতি না নিয়ে অপর কারো ঘরে প্রবেশ না করাও
ঘরের পর্দা বিধানের অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কালামে হাকীমে ইরশাদ
ফরমান, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের ঘর ছাড়া অপর কারো ঘরে প্রবেশ করো না – যতক্ষণ
না গৃহবাসীর অনুমতি পাবে এবং সালাম বিনিময় করবে। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” (সূরাহ নূর, আয়াত : ২৭)।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,
"যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও, তবে
অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত প্রবেশ কোরো না। আর যদি তোমাদের বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে
যাবে। এটি তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র।"
(সূরাহ নূর, আয়াত: ২৮)।
সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি
বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হুজরার দরজার এক
ছিদ্র দিয়ে উঁকি মারল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চিরুনির
মত একখন্ড লোহা ছিল। এ দিয়ে তিনি নিজ মাথা চুল্কাচ্ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন তখন বললেনঃ যদি আমি নিশ্চিত হতাম যে, তুমি আমার দিকে
তাকাচ্ছ তাহলে এটা দিয়ে আমি তোমার চোখে আঘাত করতাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোখের কারণেই অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ
৬৯০১, [৫৯২৪; ৬২৪১, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৫৩১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ
২১৫৬, আহমাদ ২২৮৬৬, রিয়াদুস সালিহীন: হাদিস নম্বর ৮৭১, আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪২২, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন- ৬৪৩৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি
বলেন, একদিন আমাদের কাছে আবূ মূসা আল আশ্’আরী(রাঃ) এসে বললেনঃ ’উমার(রাঃ) আমার কাছে
জনৈক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি যথারীতি তাঁর দরজায় উপস্থিত হলাম এবং
তিনবার সালাম দিলাম; কিন্তু আমার সালামের উত্তর দেয়া হলো না বিধায় আমি ফিরে গেলাম।
অতঃপর (অন্যত্র) ’উমার(রাঃ) আমাকে বললেনঃ আমাদের কাছে আসতে তোমাকে কিসে বারণ করল? আমি
বললাম, আমি এসেছিলাম এবং আপনার দরজায় তিনবার সালাম করেছিলাম, কিন্তু আপনাদের কেউই আমার
সালামের জবাব দেননি। তখন আমি ফিরে গেলাম। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাকে বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করে, আর অনুমতি না মেলে, তবে
সে যেন ফিরে আসে। ’উমার(রাঃ) এটা শুনে বললেনঃ এ ব্যাপারে তোমাকে অবশ্যই প্রমাণ পেশ
করতে হবে। আবূ সা’ঈদ আল খুদরী(রাঃ) বলেনঃ তখন আমি আবূ মূসা আল আশ্’আরী-এর সাথে ’উমার
(রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং সাক্ষ্য দিলাম। (মিশকাতুল মাসাবীহ
(মিশকাত) ৪৬৬৭, সহিহ বুখারী ৬২৪৫, সহিহ মুসলিম (২১৫৩)-৩৩, সুনান আবূ দাঊদ ৫১৮০, আবূ
ইয়া‘লা ৯৮১, আহমাদ ১৯৬১১, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৮১৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(২) ঘরের বাইরে পর্দাঃ
পর্দার দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে, ঘরের বাইরে গেলে
বয়স্ক নারী-পুরুষকে যে পর্দাব্যবস্থা মেনে চলতে হয় তা অবলম্বন করা। নিম্নে এতদসংক্রান্ত
বিধান আলোচনা করা হলোঃ
(ক) নির্লজ্জভাবে না চলাঃ
নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হতে পারে।
তখন হায়া-পর্দা বজায় রাখতে হবে। ইসলাম তাদেরকে জাহেলিয়া যুগের নারীদের মতো নির্লজ্জভাবে
চলাফেরা করতে নিষেধ করেছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন
জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। আর তোমরা সালাত কায়েম
কর, যাকাত প্ৰদান কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত থাক। হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো
শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”।
(সূরাহ আহযাব, আয়াত: ৩৩)।
(খ) সৌন্দর্য প্রকাশ না করাঃ
সূরাহ নূরে মহিলাদেরকে তাদের রূপ-লাবণ্য ও
যৌন-দেহাঙ্গ এবং তাদের অলঙ্কারের সাজ-সজ্জাকে প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ
তা‘আলা বলেন, “তারা যেন তাদের যৌন অঙ্গের হিফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান
তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।” (সূরাহ নূর,
আয়াত ৩১)।
(গ) চেহারা, বক্ষ ও মাথাসহ সারা
দেহ ঢেকে রাখাঃ
নারীদের চেহারা, বক্ষ, চুল ও দেহসৌষ্ঠব দর্শনে
পুরুষমাত্রই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এতে তাদের মধ্যে কুচিন্তার উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক।
তাই সূরাহ নূরে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন : “এবং তারা যেন তাদের দেহ যিলবাব (হিজাব-বোরকা)
দ্বারা আচ্ছাদিত করে।” (সূরাহ নূর, আয়াত : ৩১)।
(৩) দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ ও লজ্জাস্থানের
হিফাজত করাঃ
চোখের
দৃষ্টি হচ্ছে এমন একটি শাণিত তীর, যা নারীর বা পুরুষের অন্তর ভেদ করে তাদেরকে অনেক
নাজায়িয কর্মে নিয়ে যেতে পারে। অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা ও অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করার মোক্ষম
হাতিয়ার হচ্ছে এটি। তাই আল্লাহ তা‘আলা নারী-পুরুষ উভয়কেই চোখের দৃষ্টি হিফাজতের নির্দেশ
প্রদান করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন : “হে নবী! মুমিন পুরুষগণকে বলে
দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে চলে। এটাই তাদের
জন্য পবিত্রতম পন্থা। নিশ্চয়ই তারা যা কিছুই করে, আল্লাহ তা জানেন এবং মুমিন নারীগণকে
বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং নিজেদের যৌন পবিত্রতা রক্ষা করে চলে।”
(সূরাহ নূর, আয়াত: ৩০-৩১)।
দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ ও লজ্জাস্থানের হেফাজত সংক্রান্ত হাদিস
জান্নাতের নিশ্চয়তাঃ
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দু’ চোয়ালের
মধ্যস্থিত বস্তুর এবং তার দু’ পায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর জামিন হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের
জামিন হব। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৮১২, সহিহ বুখারী
৬৪৭৪, সহীহুল জামি‘ ৬৬১৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৪১২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্
২৬৯৬, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৫৫৫, শু‘আবুল ঈমান ৪৯১৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী
১৭১১৫, আল মুসতাদরাক ৮০৫৮, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৯৮১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর
৫৮২৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/২৫২, তিরমিযী ২৪০৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৭০১, আহমাদ ২২৮২৩,
মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৬২০)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
লজ্জাস্থান হেফাজতের ফলঃ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে,
রমাযানের সিয়াম পালন করে, গুপ্তাঙ্গের হিফাযাত করে, স্বামীর একান্ত অনুগত হয়। তার জন্য
জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশের সুযোগ থাকবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩২৫৪, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৬/৩০৮, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৭৩১৩)।
হঠাৎ নজরে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়াঃ
জারীর ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (কোনো নারীর প্রতি) আকস্মিক
দৃষ্টি নিক্ষেপ হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
তদুত্তরে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়ার আদেশ দিলেন। (মিশকাতুল
মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১০৪, সহিহ মুসলিম ২১৫৯, সুনান আততিরমিযী ২৭৭৬, সুনান আবূ দাঊদ ২১৪৮,
আহমাদ ১৯১৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৭১)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ
ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ)......জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আচমকা নজর পড়া ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম।
তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেনো আমি আমার দৃষ্টি দ্রুত ফিরিয়ে নেই। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৫৩৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১৫৯,
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৫৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৮১, সূনান
আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ২৭৭৬, আবূ সুনান দাউদ ২১৪৮, আহমাদ ১৮৬৭৯, ১৮৭১৫, ১৯১৬০, দারেমী
২৬৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৭১, রিয়াদুস সলেহীহ-১৬৩৩। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, হে ‘আলী! (কোনো নারীর
প্রতি) আকস্মিক একবার দৃষ্টিপাতের পর আবার দৃষ্টিপাত করো না। তোমার জন্য প্রথম দৃষ্টি
(অনিচ্ছার কারণে) জায়িয, পরবর্তী দৃষ্টি জায়িয নয়। (মিশকাতুল
মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১১০, তিরমিযী ২৭৭৭, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২১৪৯, আহমাদ ২২৯৯১,
সহীহ আল জামি ৭৯৫৩)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।
আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, একবার কুরবানীর দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল ইবনু
’আব্বাস (রাঃ)-কে আপন সওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে বসালেন। ফাযল একজন সুপুরুষ ছিলেন। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মাসআলা মাসায়িল বলে দেয়ার জন্য আসলেন। এ সময়
খাশ’আম গোত্রের এক সুন্দরী নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট
একটা মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য আসল। তখন ফাযল তার দিকে তাকাতে লাগলেন। মহিলাটির সৌন্দর্য
তাঁকে আকৃষ্ট করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল এর দিকে ফিরে দেখলেন যে,
ফাযল তার দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি নিজের হাত পেছনের দিকে নিয়ে ফাযল এর চিবুক ধরে ঐ নারীর
দিকে না তাকানোর জন্য তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন।
এরপর স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর
রাসূল! আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর যে হাজ্জ ফরজ হবার বিধান দেয়া
হয়েছে, আমার পিতার উপর তা এমন অবস্থায় এসেছে যে, বৃদ্ধ হবার কারণে সওয়ারীর উপর বসতে
তিনি অক্ষম। যদি আমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ আদায় করে নেই, তবে কি তার পক্ষ থেকে তা আদায়
হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হাঁ। (সহিহ বুখারী ৬২২৮, ১৫১৩,
আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৮২)। হাদিসের মান সহিহ।
আসলে নারী-পুরুষের ৮০% নোংরামী সৃষ্টি হয় একে
অপরের দিকে তাকানোর মাধ্যমে। তাই ইসলাম নারীদের দিকে তাকানো নিষেধ করেছে। তবে আচমকা
চোখের সামনে পড়লে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিতে হবে এবং নারীদের ফেতনা থেকে বাঁচার দোয়া পাঠ করতে
হবে।
দৃষ্টির হেফাজত ইবাদতের মাধুর্য
বাড়ায়ঃ
রাসুলুল্লাহ ﷺ
বলেছেন, "দৃষ্টি হলো ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্যে একটি তীর। যে ব্যক্তি আল্লাহর
ভয়ে তা ত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে এমন ঈমান দান করবেন যার মিষ্টতা সে তার অন্তরে অনুভব
করবে।" (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৮৭৫)।
সতর বা লজ্জাস্থান দেখার নিষেধাজ্ঞাঃ
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি
বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের
এবং কোনো নারী যেন অপর নারীর সতর (লজ্জাস্থান) না দেখে। আর কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের
সাথে এক কাপড়ের নিচে না ঘুমায় (পৌঁছে)। আর কোনো নারীও যেন অপর নারীর সাথে এক কাপড়ের
নিচে না থাকে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১০০, সহিহ মুসলিম ৩৩৮, সুনান আত তিরমিযী ২৭৯৩,
আহমাদ ১১৬০১, ইরওয়া ১৮০৮, সহীহ আল জামি‘ ৭৮০০)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
পর্দা সংক্রান্ত অন্যান্য বিধান
মাহরামের সাথে দেখা দেয়া জায়িযঃ
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা
আমার দুধ-চাচা এসে আমার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তো তোমার চাচা, তাকে অনুমতি দাও। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন,
আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! (আমি তো জানি) আমাকে নারী দুধপান করিয়েছে, পুরুষে তো পান
করায়নি। প্রত্যুত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন যে, তোমার চাচা
(আপন চাচার মতো) সে তোমার কাছে আসতেই পারে। (’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন) এ ঘটনা আমাদের ওপর
পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরে সংঘটিত হয়েছে। (মিশকাতুল
মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১৬২, সহিহ বুখারী ৫২৩৯, ৫১০৩, ২৬৪৪, সহিহ মুসলিম ১৪৪৫, সুনান আবূ
দাঊদ ২০৫৭, সুনান আননাসায়ী ৩৩১৭, সুনান আততিরমিযী ১১৪৮, সুনান ইবনু মাজাহ ১৯৪৯, আহমাদ
২৪০৮৫, দারিমী ২২৯৪, ইরওয়া ১৭৯৩, আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩২)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
সতর্কতার স্থানে পর্দা করতে হবেঃ
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত রয়েছে, আয়িশাহ (রাযি.)
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তার ভাই সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে
ওয়াসীয়াত করে যান যে, যাম‘আর বাঁদীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত; তুমি তাকে (ভ্রাতুষ্পুত্র
রূপে) তোমার অধীনে নিয়ে আসবে। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে
সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) নিয়ে নিলেন এবং বললেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে
এর সম্পর্কে ওয়াসীয়াত করে গেছেন। এদিকে যাম‘আর পুত্র ‘আব্দ দাবী করে যে, এ আমার ভাই,
আমার পিতার বাঁদীর পুত্র।। তার শয্যা সঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর উভয়ে নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গেলেন। সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার
ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওয়াসীয়াত করে গেছে এবং ‘আব্দ ইবনু যাম‘আ বললেন,
আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর পুত্র, তাঁর সঙ্গে শায়িনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তখন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘আব্দ ইবনু যাম‘আ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী
যে, বঞ্চিত সে। এরপর তিনি নবী সহধর্মিনী সাওদা বিনতে যাম‘আ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি ঐ
ছেলেটি হতে পর্দা করবে। কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পান। ফলে মৃত্যু
পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর সাওদাহ (রাঃ)-কে দেখেনি। (সহীহ বুখারী
(তাওহীদ পাবঃ)-তাওহীদ পাবলিকেশন নাম্বারঃ ২২১৮, ২৪২১, ২৫৩৩, ২৭৪৫, ৪৩০৩, ৬৭৪৯, ৬৭৬৫,
৬৮১৭, ৭১৮২, সহিহ মুসলিম ১৭/১০, হাঃ ১৪৫৭,
আহমাদ ২৪১৪১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯১০ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯২৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ
(Sahih) ।
পর্দার জন্য ঘরে অবস্থান করা কর্তব্যঃ
সহীহ মুসলিম শরীফে রয়েছে, আবূ তাহির আহমাদ
ইবনু আমর ইবনু সারহ্ (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু যুহরাহ (রহঃ) এর মুক্ত গোলাম আবূ সায়িব
(রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট তার গৃহে ঢুকলেন। তিনি বলেন,
সে সময় আমি তাকে সালাতরত অবস্থায় পেলাম এবং তার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করা
পর্যন্ত তার অপেক্ষায় বসে থাকলাম। সে সময় গৃহের কোণে রেখে দেয়া খেজুর ডালের স্তুপের
মাঝে কিছু একটার নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। আমরা দেখতে পেলাম যে, এটি একটি সাপ। আমি
সেটিকে হত্যা করার জন্য লাফ দেয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। তখন তিনি (সালাতে থেকেই) ইঙ্গিত
করলেন যে, বসে থাকো। সালাত সমাপ্ত করে গৃহের একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বললেন, এ ঘরটি
কি তুমি দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি বললেন, সেখানে নববিবাহিত আমাদের এক যুবক
থাকত।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খন্দক যুদ্ধে বের হলাম। ঐ যুবক মধ্যাহ্নের সময় রসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিত এবং তার পরিবারের নিকট ফিরে
যেত। একদিন সে (যথারীতি) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি
কামনা করলে তিনি তাকে বললেন, তোমার যুদ্ধাস্ত্র তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও। কারণ, আমি তোমার
উপরে বানু কুরাইযাহ (ইয়াহুদীদের আক্রমণ) এর সংশয় করছি। ব্যক্তিটি তার অস্ত্র নিয়ে
(গৃহে) প্রত্যাবর্তন করল। সেখানে সে তার (সদ্য বিবাহিতা) স্ত্রীকে দু’দরজার মাঝে দণ্ডায়মান
অবস্থায় লক্ষ্য করল এবং (তার প্রতি সন্দিহান হয়ে) তাকে বল্লম দিয়ে আঘাত হানার উদ্দেশে
তা তার দিকে স্থির করে ধরল। আত্মসম্মানবোধ তাকে পেয়ে বসেছিল। তখন সে (স্ত্রী) বলল,
তোমার বল্লমটি নিজের নিকট সংযত রাখো এবং ঘরে প্রবেশ করো। তুমি যাতে তা দেখতে পারো,
যা আমাকে বের হতে বাধ্য করেছে।
সে গৃহে ঢুকেই দেখতে পেল যে, এক বিশালাকার
সাপ বিছানার উপরে কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে। সে এর প্রতি বল্লম স্থির করে তার মাধ্যমে
এটিকে গেঁথে ফেলল। অতঃপর বের হয়ে তা (বল্পমটি) বাড়ীর মধ্যেই পুঁতে রাখল। সে সময়
তা নড়ে চড়ে তাকে ছোবল মারলো এবং (ক্ষণিকের মধ্যে) সাপ কিংবা যুবক এ দু’জনের কে বেশি
দ্রুত মৃত্যুবরণকারী ছিল তা আঁচ করা গেল না।
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যেয়ে ঘটনাটি বিবরণ দিয়ে তাকে বললাম, আপনি
আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, তিনি যেন আমাদের মাঝে তাকে আবার তাজা করে দেন। সে সময় তিনি
বললেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। তারপর বললেন, মদীনায় কিছু
জিন রয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাই, (সাপ ইত্যাদিরূপে) তাদের কিয়দংশ তোমরা লক্ষ্য
করলে তাকে তিন দিন সাবধান সংকেত দিবে; তারপরে তোমাদের সম্মুখে (তা) প্রকাশ পেলে তাকে
হত্যা করবে। কারণ, সে একটি (অবাধ্য) শাইতান, (অর্থাৎ, সে মুসলিম নয়)। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৭৩২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২২৩৬,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৬৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৬৭৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
এতে বুঝা যাচ্ছে – পর্দার জন্য মহিলাদের ঘরে
অবস্থান করতে হবে। বিনা কারণে ঘর থেকে বের হওয়া তাদের জন্য উচিত নয়।
চোখকে বেগানা থেকে হিফাজত করতে হবেঃ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা বানী আদমের জন্য
যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখেছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের যিনা হলো দেখা,
জিহবার যিনা হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খাহেশ সৃষ্টি করা এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য
অথবা মিথ্যা প্রমাণ করে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ৬২৪৩,
৬৬১২, সহিহ মুসলিম ৪৬/৫, হাঃ ২৬৫৭, আহমাদ ৮২২২, আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-
৫৬৯৬)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
তেমনি তাবরানী শরীফে রয়েছেÑহযরত আবদুল্লাহ
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “কুদৃষ্টি
হলো ইবলিসের বিষাক্ত তীর।” (মু‘জামুল কাবীর, তাবরানী,
হাদীস নং ১০৩৬২)।
তেমনিভাবে আল মারগীনানী কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো গাইরে মাহরাম নারীর প্রতি কুদৃষ্টি নিক্ষেপ
করবে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত শিশা ঢেলে দেয়া হবে।” (আল-মারগীনানী, ৪র্থ খ-, ৩৬৮ পৃষ্ঠা)।
বেগানা মহিলাদের প্রতি পুরুষদের এবং বেগানা
পুরুষদের প্রতি মহিলাদের দৃষ্টিপাত করা ইসলাম হারাম করে দিয়েছে। সুতরাং কোনো পুরুষ
বা মহিলার জন্য তার মাহরাম ব্যতীত অন্য কারো দিকে দৃষ্টিপাত করা বৈধ নয়।
মেয়েদের জন্যও পুরুষদেরকে দেখা জায়িয
নয়ঃ
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদিন তিনি ও মায়মূনাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট
উপস্থিত ছিলেন, এমন সময় ’আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতূম সেখানে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে পর্দার আড়ালে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি (উম্মু সালামাহ্
(রাঃ)) বললাম, সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছে না! এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি অন্ধ যে, তাকে দেখতে পাচ্ছ না? (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
৩১১৬, সুনান আবূ দাঊদ ৪১১২, সুনান আততিরমিযী ২৭৭৮, আহমাদ ২৬৫৩৭, ইরওয়া ১৮০৬,
য‘ঈফাহ্ ৫৯৫৮, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৬৩৪)।
নির্জনে বেগানা নারী-পুরুষের একত্রিত
হওয়া নিষেধঃ
নারী-পুরুষের কোনো নির্জন স্থানে একাকী বাস,
কিছুক্ষণের জন্যও লোক-চক্ষুর অন্তরালে, ঘরের ভিতরে, পর্দার আড়ালে একান্তে অবস্থান শরীয়তে
হারাম। যেহেতু তা ব্যভিচার না হলেও ব্যভিচারের নিকটবর্তী করে, ব্যভিচারের ভূমিকা অবতারণায়
সহায়িকা হয়।
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো পুরুষ অপর (মাহরাম নয় তথা বিবাহ বৈধ এমন) নারীর সাথে
নিঃসঙ্গে দেখা হলেই শয়তান সেখানে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১১৮, সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
১১৭১, ২১৬৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
এ ব্যাপারে সমাজে অধিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয়
দেওর-ভাবী ও শালী-বুনাই-এর ক্ষেত্রে। অথচ এদের মাঝেই বিপর্যয় ঘটে অধিক। কারণ ‘পর চোরকে
পার আছে, ঘর চোরকে পার নাই।’ তাই তো আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের
পক্ষে তাদের দেওরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন।”
উক্বা ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, ‘‘তোমরা (বেগানা) নারীদের নিকট (একাকী) যাওয়া থেকে বিরত থাক।’’ (এ কথা শুনে)
জনৈক আনসারী নিবেদন করল, ‘স্বামীর আত্মীয় সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?’ তিনি বললেন,
‘‘স্বামীর আত্মীয় তো মুত্যুসম (বিপজ্জনক)।’’ (সহীহ বুখারী
(তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫২৩২, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৫৬৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ
২১৭২, সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ১১৭১, আহমাদ ১৬৮৯৬, ১৬৯৪৫, দারেমী ২৬৪২, রিয়াদুস
সলেহীহ-১৬৩৬, আধুনিক প্রকাশনী ৪৮৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৫২)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
সহীহ ইবনে হিব্বানে রয়েছে, হযরত সুলাইমান আত-তাইমী
(রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবু সালিহ (রা.) থেকে শুনেছি, আমর ইবনুল আস
(রা.) একবার হযরত আলী (রা.)-এর বাড়ীতে এসে অনেক ডাকাডাকি করলেন। পরে জানতে পারলেন,
হযরত আলী (রা.) বাড়ীতে নেই। তাই চলে গেলেন। দ্বিতীয়বার এসে তার সাক্ষাৎ পেলেন। তখন
তার উপস্থিতিতে হযরত ফাতিমা (রা.)কে ডেকে এনে কতিপয় মাসআলা নিয়ে আলোচনা করলেন। হযরত
আলী (রা.) বললেন, মনে হচ্ছেÑআপনি এখানে আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন নি, এসেছেন এ মহিলার
(অর্থাৎ আমার স্ত্রীর) সাথে মাসআলা সংক্রান্ত কথাবার্তা বলতে। তাহলে তখন আমি নেই বলে
ফিরে গেলেন কেন? তিনি তা স্বীকার করে বললেন, আপনি না থাকা অবস্থায় আমি এ জন্য ফিরে
গিয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরকম মহিলার কাছে যেতে নিষেধ করেছেন, যার স্বামী বাড়ীতে
নেই। একথা শুনে হযরত আলী (রা.) বললেন, “হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরকম মহিলার কাছে
যেতে নিষেধ করেছেন, যার স্বামী বাড়ীতে নেই।” (সহীহ ইবনে
হিব্বান, হাদীস নং ৫৫৮৪)।
সহীহ ইবনে হিব্বানে আরো রয়েছে – একবার এক ব্যক্তি
হযরত উমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন: “আমার ভাই যুদ্ধে গেছেন। আমাকে তার পরিবার-পরিজনের
খোঁজ-খবর নিতে বলেছেন। আমি কি তাদের নিকট যেতে পারব? একথা শুনে উমর (রা.) চাবুক দিয়ে
সতর্ক করে বললেন, অবশ্যই আপনি ভেতরে যেতে পারবেন না। দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করবেন,
তাদের কোনো কিছু প্রয়োজন আছে কি না।” (সহীহ ইবনে হিব্বান,
হাদীস নং ৫৫৮৫)।
বেপর্দা ও বিধর্মী মহিলাদের থেকে মুসলিম মহিলাদের পর্দা করতে হবে। বেপর্দা ও অমুসলিম মহিলা থেকে মুসলিম মহিলাদের পর্দা করার জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। এ সম্পর্কে মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক শরীফে রয়েছে – হযরত কাইস ইবনুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত, হযরত উমর (রা.) হযরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)কে লিখেছিলেন, “আমি শুনতে পেলামÑমুসলিম মহিলারা আহলে কিতাব মহিলাদের সাথে গোসলখানায় গিয়ে একত্রে গোসল করে। মুসলিম মহিলাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করবেন এবং তাদেরকে বিরত রাখবেন।” (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস নং ১১৩৬)।
ইসলামের এ পর্দা বিধান পালন করা ফরজ। তা লঙ্ঘন
করা কবীরা গুনাহ ও হারাম। পর্দা পালন না করলে, পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
যার স্বামী বিদেশ থাকে তার নিকট
গমন নিষিদ্ধঃ
ব্যভিচারের কাছে যাওয়ার আর এক পদক্ষেপ কোনো
এমন মহিলার নিকট কোনো গম্য আত্মীয় বা অন্য পুরুষের গমন যার স্বামী বর্তমানে বাড়িতে
নেই, বিদেশে আছে। কারণ এমন স্ত্রীর মনে সাধারণত: যৌন ক্ষুধা একটু তুঙ্গে থাকে, তাই
বিপদ ঘটাই স্বাভাবিক। স্ত্রী বা ঐ পুরুষ যতই পরহেজগার হোক, তবুও না। এ বিষয়ে নীতি-বিজ্ঞানী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
(ক) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাদের স্বামী উপস্থিত নেই, সে সকল মহিলাদের
নিকট তোমরা যেও না। কেননা, তোমাদের সকলের মাঝেই শাইতান (প্রবাহিত) রক্তের ন্যায় বিচরণ
করে। আমরা বললাম, আপনার মধ্যেও কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমার মধ্যেও। কিন্তু আমাকে আল্লাহ
তা'আলা সাহায্য করেছেন, তাই আমি নিরাপদ। (সূনান আত তিরমিজী
(তাহকীককৃত) ১১৭২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(খ) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেনো কোনো
মহিলার সাথে নির্জন-বাস না করে।’’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ
পাবলিকেশন) ১৮৬২, ৩০০৬, ৩০৬১, ৫২৩৩, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৩১৬৩, আন্তর্জাতিক
নাম্বারঃ ১৩৪১, সুনান ইবনু মাজাহ ২৯০০, আহমাদ ১৯৩৫, ৩২২১)। হাদিসের মানঃ সহিহ
(Sahih)।
(গ) উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো পুরুষ অপর (মাহরাম নয় তথা বিবাহ বৈধ এমন)
নারীর সাথে নিঃসঙ্গে দেখা হলেই শয়তান সেখানে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১১৮, সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
১১৭১, ২১৬৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
নারীর হাত স্পর্শ করা/হ্যান্ড শেক
করা/করমর্দন করা হারামঃ
আজকের সমাজে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অবারিতভাবে
চলছে। ফলে অনেক নারী-পুরুষই নিজেকে আধুনিক হিসাবে যাহির করার জন্য শরী‘আতের সীমালংঘন
করে পরস্পরে মুসাফাহা করছে। তাদের ভাষায় এটা হ্যান্ডশেক বা করমর্দন। আল্লাহর নিষেধকে
থোড়াই কেয়ার করে বিকৃত রূচি ও নগ্ন সভ্যতার অন্ধ অনুকরণে তারা এ কাজ করছে এবং নিজেদেরকে
প্রগতিবাদী বলে যাহির করছে। আপনি তাদেরকে যতই বুঝান না কেন বা দলীল-প্রমাণ যতই দেখান
না কেন তারা তা কখনই মানবে না। উল্টো আপনাকে প্রতিক্রিয়াশীল, সন্দেহবাদী, মোহাচ্ছন্ন,
আত্মীয়তাছিন্নকারী ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করবে।
চাচাত বোন, ফুফাত বোন, মামাত বোন, খালাত বোন,
ভাবী, চাচী, মামী প্রমুখ আত্মীয়ের সঙ্গে মুসাফাহা করা তো এসব লোকদের নিকট পানি পানের
চেয়েও সহজ কাজ। শরী‘আতের দৃষ্টিতে কাজটি কত ভয়াবহ তা যদি তারা দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখত
তাহলে কখনই তারা এ কাজ করত না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন,
“নিশ্চয় তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে
দেওয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক শ্রেয়, যে তার জন্য হালাল নয়”। (ত্বাবরাণী; সিলসিলা সহীহাহ, হাদীস নং ২২৬)।
নিঃসন্দেহে এটা হাতের যিনা। করতল চেপে ধরা
এবং সুড়সুড়ি দেওয়াও হলো তার ইঙ্গিত! কোনো গম্য নারীর দেহ স্পর্শ, বাসে-ট্রেনে, হাটে-বাজারে,
স্কুলে-কলেজে প্রভৃতি ক্ষেত্রে গায়ে গা লাগিয়ে চলা বা বসা, নারী-পুরুষের ম্যাচ খেলা
ও দেখা প্রভৃতি ইসলামে হারাম। কারণ, এ সবগুলিও অবৈধ যৌনাচারের সহায়ক। এগুলো মানুষের
হাত, পা ও চোখের ব্যভিচার।
ইসহাক
ইবনু ইব্রাহীম ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ)....আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) যা বলেছেন ‘লামাম (আকর্ষণীয় বড় গুনাহ) বিষয়ে তার
চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ কোন বিষয় আমি দেখিনি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানের উপর ব্যভিচারের যে ভাগ লিখেছেন,
নিঃসন্দেহে তা সে পাবে। দু’চোখের ব্যভিচার দেখা, যবানের ব্যভিচার, পরস্পর কথোপকথনের
ব্যভিচার, মনের ব্যভিচার কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা সত্যায়িত করে অথবা মিথ্যা
সাব্যস্ত করে। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৬৬৪৬, আন্তর্জাতিক
নাম্বারঃ ২৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫১২, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৬৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ
(Sahih)।
হযরত মা'কিল ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, “কোন ব্যক্তির মাথায় লৌহ সুচ দ্বারা খোঁচা যাওয়া
ভালো, তবুও যে নারী তার জন্য অবৈধ তাকে স্পর্শ করা ভালো নয়”। (সিলসিলাতু আল-আহাদিস আস-সহিহাহ-হাদিস নং ২২৬, আল-মুজাম আল-কাবীর
তবারানি-হাদিস ৪৮৬, সহিহ আল-জামিউস সাগির (হাদিস ৫০৪৫)। হাদিসের মান সহিহ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে অধিক পবিত্র মনের মানুষ আর কে আছে? অথচ তিনি বলেছেন, “আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা
করি না”। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২৭৫৩; সহীহুল হাদীস,
হাদীস নং ২৫০৯)।
তিনি আরও বলেছেন, “আমি নারীদের হাত স্পর্শ
করি না”। (ত্বাবরাণী; কাবীর, ২৪/৩৪২; সহীহুল জামে‘, হাদীস
নং ৭০৫৪)।
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু 'আমর ইবনু সারহ (রহঃ)....নবী
সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন মহিলাগণ যখন হিজরাত করে রসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (মদীনায়) আসতেন তখন আল্লাহ তা'আলার বাণী অনুযায়ী
পরীক্ষা করা হতো। (সে বাণী হচ্ছে) "হে নবী। যখন মুমিন মহিলাগণ আপনার কাছে এ মর্মে
বাই’আত হতে আসে যে তারা আল্লাহর সাথে অপর কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার
করবে না.." (সূরাহ মুমতাহিনাহ্ ৬০: ১২) আয়াতের শেষ
পর্যন্ত।
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, মু'মিন মহিলাদের যে
কেউ এসব অঙ্গীকারাবদ্ধ হতো এতেই তারা বাই’আতের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হতো।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন তারা মৌখিকভাবে এসব অঙ্গীকার
করতো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলতেন, তোমরা চলে যাও, তোমাদের
বাই’আত গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর হাত কোন দিন কোন (অপরিচিত) মহিলার হাতকে স্পর্শ করেনি। তবে তিনি মৌখিকভাবে বাই’আত
গ্রহণ করতেন।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম আল্লাহর
নির্দেশিত পথ ছাড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিন মহিলাদের ওয়াদা
গ্রহণ করেননি এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত কোন দিন কোন (অপরিচিত)
মহিলার হাত স্পর্শ করেনি। তাদের ওয়াদাবদ্ধ হওয়ার পরই তিনি মৌখিকভাবে বলে দিতেন, তোমাদের
বাই’আত গ্রহণ করলাম। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৭২৮-৪৭২৯,
আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৬৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৮১, ইসলামিক সেন্টার ৪৬৮৩)। হাদিসের
মানঃ সহিহ (Sahih)।
সুতরাং আধুনিক সাজতে গিয়ে যারা নিজেদের বন্ধুদের
সাথে মুসাফাহা না করলে স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার হুমকি দেয় তারা যেন হুঁশিয়ার হয়। জানা
আবশ্যক যে, মুসাফাহা কোনো আবরণের সাহায্যে হোক বা আবরণ ছাড়া হোক উভয় অবস্থাতেই হারাম।
বোরখার নামে টাইট ফ্যাশন ড্রেস পরিধান
করে বাহিরে বের হওয়াঃ
কেমন হবে মুমিন নারীর পোশাক?
পোশাক আল্লাহর বিশেষ দান ও অনুগ্রহ। আল্লাহ
তাআলা মানবজাতিকে পোশাকের মাধ্যমে সম্মানিত ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা
পবিত্র কোরআনে পোশাককে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে
মানব সন্তান, আমি তোমাদের পোশাক দান করেছি, যেন তোমরা তোমাদের আব্রু ঢাকতে পারো এবং
তা (তোমাদের জন্য) সৌন্দর্য। আর খোদাভীতির পোশাকই উত্তম। এটা (পোশাক) আল্লাহর নিদর্শন,
যদি তারা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৬)।
তাফসিরবিদগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ
এই আয়াতে পোশাককে যেমন তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তেমনি মুমিন নারী ও পুরুষের
পোশাক কেমন হবে সে নির্দেশনাও দিয়েছেন। তা হলো, তাদের পোশাক হবে শালীন ও সুন্দর। তাদের
পোশাকে আল্লাহর ভয় প্রকাশ পাবে। ‘খোদাভীতির পোশাক’-এর ব্যাখ্যায় তাঁরা এমন পোশাকের
কথা বলেন, যাতে শালীনতা, বিনয়, সংযম, পরকালমুখিতা প্রকাশ পায় এবং যা কোনোভাবেই অপব্যয়,
অপচয়, অহংকার ও লজ্জাহীনতার পরিচায়ক হবে না।
শালীন ও সুন্দর পোশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহ নারী
ও পুরুষে কোনো তারতম্য করেননি; বরং উভয়কে তা মান্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা লজ্জা
ও শালীনতার এই সীমা অমান্য করবে, আল্লাহ তাদের শয়তানের প্ররোচনার শিকার হিসেবে উল্লেখ
করেছেন। পরের আয়াতেই আল্লাহ মানবজাতিকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘হে মানব সন্তান, শয়তান যেন
তোমাদের প্রলুব্ধ না করে, যেমন সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (আদম ও হাওয়া আ.) করেছিল। তাঁদের
বিবস্ত্র করেছিল যেন পরস্পরের সামনে তাঁদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস থেকেও পোশাকের
ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়, যাতে পোশাককে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার উদ্দেশ্য
লজ্জা নিবারণ ও সৌন্দর্য গ্রহণ বলা হয়েছে। উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নতুন পোশাক বানায়, তা তৈরি হওয়ার
পর তা পরিধান করে, তখন সে বলবে, সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন পোশাক
দান করেছেন, যার মাধ্যমে আমি লজ্জাস্থান আবৃত করতে পারি এবং জীবনে সৌন্দর্য গ্রহণ করতে
পারি।’ (সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ৩৫৬০, সুনান ইবনু
মাজাহ ৩৫৫৭, তিরমিযী ৩৫৬০, মিশকাত ৪৩৭৪, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১০০, যইফাহ ৪৬৪৯, যইফ আল-জামি
৫৮২৭।)। হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)।
মৌলিকভাবে নারী ও পুরুষ উভয়কে লজ্জা ও শালীনতা
রক্ষাকারী পোশাক পরিধান করার নির্দেশ দিলেও পোশাকের ক্ষেত্রে উভয়কে স্বাতন্ত্র্য বজায়
রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যেন নারী ও পুরুষ দুজনই আপন সীমানায় থেকে লজ্জা ও শালীনতা রক্ষা
করতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে ও প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে চলে আসা মানব আচরণ থেকেও এটা স্পষ্ট
যে নারী ও পুরুষের ‘আব্রু’র ব্যাখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের তুলনায় নারী অনেক বেশি মোহনীয়
ও কমনীয়। তাই পুরুষের তুলনায় নারীর ‘আব্রু’ রক্ষায় ইসলাম বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
নারীর প্রতি ইসলামের মমত্ব ও দায়বোধ থেকেই ইসলাম নারীকে পোশাকে বেশি সংযত হওয়ার আদেশ
দিয়েছে। যেন পৃথিবীতে তার পথচলা মসৃণ হয়, সে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে, পুরুষের লালসার
শিকার না হয়। চিন্তাশীল আলেমরা মনে করেন, বর্তমান সমাজে ক্রমবর্ধমান নারী নিগ্রহের
ঘটনা ইসলামের পোশাকনীতিকে যৌক্তিক ও অপরিহার্য প্রমাণ করে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামবেত্তাগণ
মুমিন নারীর পোশাকের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলোঃ-
(১) শরীর ও সৌন্দর্যকে আড়াল করবে:
মুমিন
নারীর পোশাকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তা তার শরীর ও সৌন্দর্যকে আড়াল করবে। যেন তা পুরুষের
কামুক দৃষ্টির শিকার না হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ
করবে না, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়।’ (সুরা নুর,
আয়াত : ৩১)।
(২) খুব বেশি পাতলা বা মোটা হবে
না: মুমিন
নারী এমন পাতলা পোশাক পরিধান করবে না, যা পরিধানের পরও শরীর দেখা যায়। আব্রু প্রকাশ
পায়। আবার এমন মোটা পোশাক পরিধান করবে না, যাতে গরমে তার কষ্ট হয়; বরং অস্বচ্ছ মধ্যম
পোশাক পরিধান করবে। একাধিক হাদিসে অতিরিক্ত পাতলা পোশাক পরিধানকে কেয়ামতের নিদর্শন
বলা হয়েছে।
(৩) ঢিলেঢালা হবে: ইসলাম
নারী ও পুরুষ উভয়কে ঢিলেঢালা পোশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে। শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়—এমন
আঁটসাঁট পোশাক মুমিন পুরুষও পরিধান করবে না। আর নারী তো নয়ই। কেননা এমন পোশাক অন্যকে
প্রলুব্ধ করতে পারে। অনেক সময় তা বোরকা, হিজাব ও পর্দার উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করে।
(৪) পুরো শরীর ঢেকে রাখবে: ইসলাম
নারীকে এমন পোশাক পরিধান করতে বলেছে, যা তার পুরো শরীরকে ঢেকে রাখবে। শরীর বের হয়ে
থাকে—এমন পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী, আপনি
আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীদের বলে দিন, যেন তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে
দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’
(সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৯)।
আলোচ্য আয়াতে ইসলাম নারীকে যে শালীন ও সংযত
পোশাক পরিধান করতে বলেছে, তার কারণ বিবৃত হয়েছে। তা হলো, পুরুষের কামুক দৃষ্টি, অশালীন
মন্তব্য ও যৌন সহিংসতা থেকে নারীকে রক্ষা করা।
(৫) পুরুষের পোশাকের মতো হবে না:
ইসলাম
নারীকে নারীসুলভ এবং পুরুষকে পুরুষসুলভ পোশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে। শরিয়তের বিধানমতে,
নারী যেমন পুরুষের পোশাক পরিধান করবে না, তেমন পুরুষও নারীর মতো পোশাক পরিধান করবে
না। উভয় পোশাক ও সাজসজ্জা হবে ভিন্ন ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিন নারী-পুরুষকে সতর্ক
করেছেন।
(ক) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর লা‘নাত সে পুরুষদের
ওপর যারা নারী সাদৃশ্য ধারণ করে এবং সে সকল নারীদের ওপর যারা পুরুষ সাদৃশ্য ধারণ করে।
(মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৪২৯, সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫৮৮৫, সহীহুল জামি
৫১০০, আল জামি‘উস্ সগীর ৯২৩১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২০৬৮, মুসান্নাফ ইবনু আবূ
শায়বাহ্ ২৬৪৯৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১৪৮১, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ১৪৩৫,
আধুনিক প্রকাশনী ৫৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৫৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(খ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য
গ্রহণকারিণী নারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেনঃ তাদেরকে তোমাদের ঘর হতে বের
করে দাও। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৪২৮, সহীহ বুখারী
(তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫৮৮৬, দারিমী ২৬৪৯, সুনান আবূ দাঊদ ৪৯২৯, সুনান ইবনু মাজাহ ১৯০২,
ইরওয়া ১৭৯৭, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৫৩১৫, মুসনাদে আহমাদ ১৯৮২,
আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৫৯০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১৫৮০, আস্ সুনানুল কুবরা
লিল বায়হাক্বী ১৭৪৩৯)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(গ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন পুরুষের ওপর লা‘নাত করেছেন যে নারীর
পোশাক পরিধান করে এবং এমন নারীর ওপর যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৪৬৯, সুনান আবূ দাঊদ ৪০৯৮, সুনান
ইবনু মাজাহ ১৯০৩, সহীহুল জামি‘উস্ সগীর ৫০৯৫, আহমাদ ৮৩০৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব
২০৬৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৭৫১, শু‘আবুল ইমান ৭৮০২, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৯২৫৩,
মুসতাদরাক ইবনু হাকিম ৭৪১৫)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের পোশাকগুলোই মূলত নারীর
জন্য আল্লাহভীতির পোশাক। ইসলাম মুমিন নারীকে এমন পোশাক পরিধানেরই নির্দেশ দেয়।
পরপুরুষদের সামনে কোমল কন্ঠে কথা
বলাঃ
আল্লাহ বলেন, হে নবী পত্নীগন ! (উদ্দেশ্য উম্মতের
সকল মহিলা) তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে পরপুরুষের
সাথে এমন কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গীতে কথা বলো না, যার ফলে যে ব্যক্তির অন্তরে ব্যধি রয়েছে
সে কু-বাসনা করবে । আর তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলন। (সূরা
আহযাব, আয়াত ৩২)।
উক্ত আয়াতটিও নারীদের পর্দা সম্পর্কিত, তাঁদের
কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত । আয়াতে فَلَا
تَخْضَعْنَ
بِالْقَوْلِ
এর ব্যাখ্যা হচ্ছে যদি পরপরুষের সাথে পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলা প্রয়োজনীয়তা দেখা
দেয়, তাহলে বাক্যালাপের সময় নারী কন্ঠের স্বভাবসুলভ কোমলতা ও লাজুকতা কৃত্রিমভাবে
পরিহার করবে । অর্থাৎ, এমন কোমলতা বা শ্রোতার মনে অবাঞ্ছিত কামনা সঞ্চার করে, তার কোন
সুযোগ দিবে না ।
যেমন এর পরে এরশাদ হয়েছে, অর্থাৎ এরুপ কোমল
কন্ঠে বাক্যালাপ করো না, যা ব্যধিগ্রস্থ অন্তর বিশিষ্ট লোকের মনে কু-লালসা ও আকর্ষন
সৃষ্টি করে ।
মোদ্দাকথা, নারীদেরকে পরপুরুষের থেকে নিরাপদ
দূরত্বে অবস্থান করে পর্দার এমন উন্নত স্তর অর্জন করা উচিত, যাতে কোন অপরিচিত দূর্বল
ঈমান বিশিষ্ট লোকের অন্তরে কোন কামনা ও লালসা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, তার নিকটেও
ঘেষবা না । বরং তার বিরুদ্ধে অবস্থা ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে । (মা’আরিফুল কোরআন-৭/১৩২)।
স্বর্ণযুগের সোনার মানুষ পুন্যাত্মা নবী-পত্নীগনকে
যদি স্বর্ণযুগের স্বর্ণমানব সাহাবায়ে কেরামের সাথে পর্দার আড়াল করা সত্ত্বেও কথা
বলার ক্ষেত্রে এমন কড়া নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে যে, তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপও নিয়ন্ত্রণে
রাখতে হবে । তাহলে আধুনিক যুগের নারী-পুরুষদের কি পর্দার প্রয়োজন নেই? অথবা পর্দার
প্রয়োজন থাকলেও তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন রাখার প্রয়োজন নেই? অবশ্যই প্রয়োজন
রয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না; বরং বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষনের পর সে প্রয়োজন
আরো তীব্রভাবে অনুভূত হয় ।
চলাফেরার সময় পায়ের শব্দ হওয়াঃ
ইসলাম নারীদের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার্থে কথা
বার্তা বলা ও চলা ফেরা করার খুব সুন্দর বিধান বলে দিয়েছে। আমরা মুসলমান হিসেবে আল্লাহ
ও রাসুল সাঃ এর দিক নির্দেশনা মেনে চলবো। পরপুরুষের সামনে যেমন কোমল কন্ঠে কথা বলতে
নিষেধ করা হয়েছে তেমনি নারী কিভাবে হাঁটবে বা চলাফেরা করবে তারও দিক নির্দশনা দেয়া
হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, “নারীরা যেনো তাদের গোপন সৌন্দর্য্য
প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে”। (সূরা নূর:
৩১)।
অর্থাৎ নারীরা যেন সজোরে পদক্ষেপ না করে, যার
দরুন অলঙ্কারাদির আওয়াজ ভেসে উঠে এবং তাদের বিশেষ সাজ-সজ্জা পুরুষদের কাছে উদ্ভাসিত
হয়ে উঠে। (ফাতহুল কাদীর)।
মূলত উচ্চ স্বরে কথা বলা, অট্ট হাসি দেয়া,
জোড়ে শব্দ করে হাঁটা, শর্ট জামা পড়া, জিন্সের প্যান্ট পড়া, হাই হিল পড়ে হাঁটা ইত্যাদি
এগুলো হচ্ছে ইহুদি-নাসারাদের কৃষ্টি কালচার। বিজাতীদের অনুকরন-অনুসরন করা মুসলমানদের
জন্যে নিষেধ।
রাসুল সাঃ বলেন,
ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন
করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। (সুনান আবূ দাউদ (আলবানী
একাডেমী) ৪০৩১, আহমদ, হাদিস: ৫১১৪)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।
অভিভাবকের করণীয়ঃ
যেসব মেয়ে অট্ট হাসি দেয়, উচ্চ স্বরে কথা বলে
এবং জোড়ে পা ফেলে শব্দ করে হাঁটে তাদেরকে নিষেধ করা এবং ইসলামের দিক নির্দেশাগুলো শিক্ষা
দেয়া একজন অভিভাবক হিসেবে একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সুগন্ধি ব্যবহার করাঃ
আজকাল আতর, সেন্ট ইত্যাদি নানা প্রকার সুগন্ধি
মেখে নারীরা ঘরে-বাইরে পুরুষদের মাঝে চলাফেরা করছে। অথচ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে কঠোর সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন।
আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি চক্ষুই ব্যভিচারী।
আর যে মহিলা সুগন্ধি দিয়ে পুরুষদের সভায় যায় সে এমন এমন অর্থাৎ ব্যভিচারকারিণী। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১০৬৫, আত্ তিরমিযী ২৭৮৬, আবূ দাঊদ
৪১৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ২০১৯, সুনান আল কুবরা ৯৪২২, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৬৪১, ইবনু হিব্বান
৪৪২৪)।হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।
অনেক মহিলা তো এ ব্যাপারে একেবারে উদাসীন কিংবা
তারা বিষয়টিকে লঘুভাবে গ্রহণ করছে। তারা সেজেগুজে সুগন্ধি মেখে ড্রাইভারের সাথে গাড়ীতে
উঠছে, দোকানে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে; কিন্তু শরী‘আতের নিষেধাজ্ঞার দিকে বিন্দুমাত্র
ভ্রুক্ষেপ করছে না। নারীদের বাইরে গমনকালে শরী‘আত এমন কঠোরতা আরোপ করেছে যে, তারা সুগন্ধি
মেখে থাকলে নাপাকী হেতু ফরয গোসলের ন্যায় গোসল করতে হবে। এমনকি যদি মসজিদে যায় তবুও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমি আমার মাহবুব আবুল ক্বাসিম (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে
শুনেছিঃ ঐ মহিলার সালাত কবূল হবে না যে সুগন্ধি মেখে মসজিদে যায়, যতক্ষণ সে গোসল না
করে নাপাকী থেকে গোসল করার ন্যায়। (মিশকাতুল মাসাবীহ
(মিশকাত)-হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ১০৬৪, সুনান আবূ দাঊদ ৪১৭৪, মুসনাদে আহমদ ২/৪৪৪; সহীহুল
জামে‘, হাদীস নং ২৭০৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানে, হাটে-বাজারে, যানবাহনাদিতে,
নানা ধরনের মানুষের সমাবেশে, এমনকি রমযানের রাতে মসজিদে আসার সময় তথা সর্বত্র মহিলারা
যে সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী আতর, সেন্ট, আগর, ধূনা, চন্দনকাঠ ইত্যাদি নিয়ে যাতায়াত করছে
তার বিরুদ্ধে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সকল অভিযোগ। অথচ শরী‘আত তো শুধু মহিলাদের জন্য
সে আতরের অনুমোদন দিয়েছে যার রঙ হবে প্রকাশিত পক্ষান্তরে গন্ধ হবে অপ্রকাশিত। আল্লাহর
নিকট আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের ওপর ক্রুদ্ধ না হন। অপগণ্ড নর-নারীর কাজের
জন্য সৎ লোকদের পাকড়াও না করেন এবং সবাইকে সিরাতুল মুস্তাকীমে পরিচালিত করেন।
পরচুলা ব্যবহার করাঃ
(ক) আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মেয়ে এক প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে।
ফলে তার মাথার চুল ঝরে গেছে। আর আমি তার বিয়েও দিয়েছি। এখন কি আমি তার মাথায় পরচুলা
লাগিয়ে দেব?’ তিনি বললেন, ‘‘যে পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যার লাগানো হয় উভয় মহিলাকে আল্লাহ
অভিসম্পাত করুন বা করেছেন।’’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫৯৩৫, ৫৯৩৬, ৫৯৪১, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৫৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১২২, সুনান
আন নাসায়ী ৫০৯৪, ৫২৫০, সুনান ইবনু মাজাহ ১৯৮৮, আহমাদ ২৪২৮২, ২৬৩৭৮, ৩৬৩৯১, ২৬৪২০, ২৬৪৩৯,১৬৫০-রিয়াদুস
সলেহীন)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
(খ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিতঃ
উক্ত-রূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫২০৫, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৬১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১২৩, নাসায়ী ৫০৯৭,
আহমাদ ২৪২৮২, ২৪৩২৯, ২৫৩৮১, ২৫৪৩৮, ২৫৫৯৭, ২৫৬৭৪, ১৬৫১)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
(গ) হুমাইদ ইবনে আব্দুর রাহমান (রাঃ) থেকে
বর্ণিতঃ
তিনি হজ্জ করার বছরে মুআবিয়া (রাঃ)-কে মিম্বরে
দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন---ঐ সময়ে তিনি জনৈক দেহরক্ষীর হাত থেকে এক গোছা চুল নিজ হাতে
নিয়ে বললেন, ‘হে মদীনাবাসীগণ!তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ জিনিস (ব্যবহার) নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেন, ‘‘বানী ইস্রাঈল
তখনই ধ্বংস হয়েছিল, যখন তাদের মহিলারা এই জিনিস ব্যবহার করতে আরম্ভ করেছিল।’’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩৪৬৮, ৩৪৮৮, ৫৯৩৩, ৫৯৩৮, সহীহ
মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৭১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১২৭, সুনান আত তিরমিযী ২৭৮১, নাসায়ী ৫২৪৫, ৫২৪৬, সুনান আবূ দাউদ ৪১৬৭,
আহমাদ ১৬৩৮৮, ১৬৪০১, ১৬৪২৩, ১৬৪৮২, ২৭৫৭৮, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৬৫,১৬৫২)। হাদিসের মানঃ
সহিহ হাদিস।
(ঘ) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পরচুলা যে মহিলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে
উলকি উৎকীর্ণ করে ও যে উলকি উৎকীর্ণ করতে বলে তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫৯৩৭, ৫৯৪০, ৫৯৪২, ৫৯৪৭, সহীহ
মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৬৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১২৪, সুনান আত তিরমিযী ১৭৫৯, ২৭৮৩,
নাসায়ী ৩৪১৬, ১৫৯৫, ৫২৫১, সুনান আবূ দাউদ ৪১৬৮, সুনান ইবনু মাজাহ ১৯৮৭, আহমাদ ৪৭১০,১৬৫৩)।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
(ঙ) হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী, মুহাম্মাদ
ইবনু রাফি ও আবূ যুবায়র (রহঃ).....জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। যে মহিলা
তার মাথায় কোন কিছু সংমিশ্রণ করে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দিয়েছেন।
(সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৭০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ
২১২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৯২, ইসলামিক সেন্টার ৫৪১৪)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
পরচুলা সাধারণত যারা ব্যবহার করে তারা নায়িকা
বা গায়িকা কিংবা শিল্পি জগতের সাথে যারা জড়িত তারাই মূলত এসব ব্যবহার করে বেশি। আরেক
শ্রেণির নারী আছে যারা বিভিন্ন সাজসজ্জায় সজ্জিত হয়ে বাহিরে ঘুরে বেড়ায়। আবার বিবাহের
সময় পাত্রীকে আরো আকর্ষনীয় হতে পরচুলা ব্যবহার করে থাকে। তবে যে উদ্দেশ্যেই ব্যবহার
করা হোক না কেনো এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরপুরুষকে চুলের সৌন্দর্য দিয়ে আকৃষ্ট করা।
যেসব নারী অবাধ বিচরণে অভ্যস্ত তারা এসব ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কোনো পর্দানশীলা নারী
এসব ব্যবহার করে না।
ঝুনুর ঝুনুর শব্দ হয় এমন নুপুর/ঘুঙুর
পরে চলাফেরা করাঃ
নুপুর বা ঘুঙুর পায়ে দিয়ে সাধারনত গানের মঞ্চে
নাচনেওয়ালীরা নেচে থাকে। যেসব নুপুর বা ঘুঙুর পায়ে দিয়ে হাঁটলে শব্দ হয় এমন জিনিস নারীদের
পড়া ইসলামে নিষেধ।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সেই কাফেলার সঙ্গে (রহমতের) ফিরিশতা থাকেন না, যাতে কুকুর কিম্বা
ঘুঙুর থাকে।’’ (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৪৩৯, আন্তর্জাতিক
নাম্বারঃ ২১১৩, তিরমিযী ১৭০৩, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২৫৫৫, আহমাদ ৭৫১২, ৮০৩৬,
৮২৩৭, ৮৩২৩, ৮৭৭২, ৮৮৪৫, ৯০৯৮, ৯৪৪৫, ৯৮০৫, ১০৫৫৮, দারেমী ২৫৭৬, রিয়াদুস সলেহীন-১৬৯৯)।
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
উক্ত রাবী থেকে বর্ণিতঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘‘ঘণ্টা বা ঘুঙুর শয়তানের বাঁশি।’’ (সহীহ মুসলিম (হাদীস
একাডেমী) ৫৪৪১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১১৪, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ২৫৫৬, আহমাদ
৮৫৬৫, ৮৬৩৪, রিয়াদুস সলেহীন-১৭০০)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
শব্দ হয় এমন নুপুর বা ঘুঙুর পড়া যেহেতু ইসলামে
নিষেধ তাই সন্তানকে কখনো এগুলো ক্রয় করে দেয়া যাবে না। সন্তানকে নাচ-গান শিক্ষা দেয়া
হারাম। ভবিষ্যতে যাতে এসবের প্রতি আকৃষ্ট হতে না পারে সেজন্যে ইসলামি আদর্শ শিক্ষা
দেয়া অভিভাবকের একান্ত দায়িত্ব।
চুলের স্টাইল করাঃ
যুবক যুবতী এমনকি বয়স্ক নারী পুরুষরাও চুলের
বিভিন্ন স্টাইল করে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে বাহিরে ঘুরতে বের হয়। দেশের বিভিন্ন আনাচে
কানাচে গড়ে উঠেছে বিউটি পার্লার। পুরুষদের জন্যে রয়েছে নরসুন্দর। এসব জায়গায় গিয়ে উচ্ছন্নে যাওয়া নারী পুরুষরা স্টাইল
করে চুল কেটে নেয়। অনেক অভিভাবককে দেখা যায়,
ছোট বেলা থেকেই শিশুদের এমন স্টাইলে চুল কেটে নেয়। আমাদের সমাজে তারা কিন্তু মুসলমান।
অথচ স্টাইল করে চুল কাটা কিংবা স্টাইল করে
চুল বেঁধে বাহিরে বের হওয়া ইসলামে নিষেধ। আর এই নিষেধ জিনিসটাই আধুনিকতার দোহাই দিয়ে
করে যাচ্ছি। আসুন জেনে নেই, ইসলাম কি বলে।
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি
রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কাযা’ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। রাবী
‘উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ‘কাযা’ কী? তখন ‘আবদুল্লাহ আমাদের ইঙ্গিতে দেখিয়ে
বললেনঃ শিশুদের যখন চুল কামানো হয়, তখন এখানে ওখানে চুল রেখে দেয়। এ কথা বলার সময়
‘উবাইদুল্লাহ তাঁর কপাল ও মাথার দু’পাশে দেখালেন। ‘উবাইদুল্লাহকে আবার জিজ্ঞেস করা
হলঃ বালক ও বালিকার জন্য কি একই নির্দেশ? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের
কথা বলেছেন। ‘উবাইদুল্লাহ বলেনঃ আমি এ কথা আবার জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ পুরুষ শিশুর
মাথার সামনের ও পিছনের দিকের চুল কামানো দূষণীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) ‘কাযা’
বলা হয়- কপালের উপরে কিছু চুল রেখে বাকী মাথার কোথাও চুল না রাখা। তেমনিভাবে মাথার
চুল একপাশ থেকে অথবা অপর পাশ থেকে কাটা। (সহীহ বুখারী
(তাওহীদ পাবলিকেশন) ৫৯২০, ৫৯২১, সহীহ মুসলিম
(হাদীস একাডেমী) ৫৪৫২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১২০, নাসায়ী ৫০৫০, ৫০৫১, ৫২২৮-৫২৩১, সুনান
আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ৪১৯৩, ৪১৯৪, সুনান ইবনু মাজাহ ৩৬৩৭, ৩৬৩৮, আহমাদ ৪৪৫৯, ৪৯৫৩,
৫১৫৩, ৫৩৩৩, ৫৫২৩, ৫৫২৫, ৫৫৮৩, ৫৮১২, ৬৪২৩, রিয়াদুস সলেহীন ১৬৪৬, আধুনিক প্রকাশনী ৫৪৮৮,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৮৩)। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
অভিভাবকের করণীয়ঃ
চুলের স্টাইল করা যেহেতু ইসলামে নিষেধ তাই
সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই অন্যের দেখাদেখি যাতে স্টাইল কাটিং বা চুলের স্টাইল করতে না
পারে সেজন্যে সন্তানকে ইসলামের নিষেধাবলী শিক্ষা দেয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব।
নারী ও পুরুষের পরস্পর কাদের
সামনে যাওয়া জায়েজ?
নারীদের মাহরাম তথা যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ
তা হলো:-
১-বাপ, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু
পুরুষগণ।
২-সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
৩-শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর এবং
তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ।
৪-আপন ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে এবং তাদের
ঔরষজাত পুত্র সন্তান এবং কন্যা সন্তানদের স্বামী।
৫-স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র।
৬-ভাতিজা, ভাগিনা তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও
বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনের ছেলে ও তাদের অধঃস্থন কোন ছেলে।
৭-আপন চাচা অর্থাৎ বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয়
ও বৈমাত্রেয় ভাই।
৮-আপন মামা তথা মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও
বৈপিত্রেয় ভাই।
৯-দুধ সম্পর্কীয় ছেলে, উক্ত ছেলের ছেলে, দুধ
সম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান এবং দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের
স্বামী।
১০-দুধ সম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা, দাদা,
নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ।
১১-দুধ সম্পর্কীয় ভাই, দুধ ভাইয়ের ছেলে,
দুধ বোনের ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান।
১২-শরীয়ত অনুমোদিত বৈধ স্বামী।
১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার মাঝে মহিলাদের
প্রতি কোন আকর্ষণ নেই আবার মহিলাদেরও তার প্রতি কোন আকর্ষণ নেই।
১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্ক এমন বালক যার মাঝে এখনো
যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি।
উপরোক্ত পুরুষগণ ছাড়া কোন মহিলার জন্য অন্য
কোন পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ হারাম।
পুরুষের মাহরাম তথা যাদের সামনে
যাওয়া জায়েজ:-
১-মা।
২-দাদি।, নানী ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ।
৩-বোন [আপন হোক বা দুধ বোন বা বৈপিত্রেয় বা
বৈমাত্রেয় হোক]।
৪-আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, এবং
তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান ও ছেলে সন্তানদের স্ত্রী।
৫-বিবাহিত বৈধ স্ত্রী এবং যে স্ত্রীর সাথে
দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর কন্যা সন্তান। স্ত্রীর
মা অর্থাৎ শ্বাশুরী, দাদী শ্বাশুরী।
৬-ফুপু, তথা পিতার সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় ও
বৈপিত্রেয় বোন।
৭-খালা তথা মায়ের সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন
ও বৈপিত্রেয় বোন।
৮-ভাতিজি, তথা সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয়
ভাইয়ের মেয়ে তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
৯-ভাগ্নি তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়
বোনের মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
১০-দুধ সম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের
মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন যে কোন কন্যা সন্তান ও দুধ সম্পর্কীয় ছেলের স্ত্রী।
১১-দুধ সম্পর্কীয় মা, খালা, ফুপু, নানী, দাদী
ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ।
১২-দুধ সম্পর্কীয় বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ
ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান।
১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধা যার প্রতি পুরুষের
কোন প্রকার আকর্ষণ নেই।
১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্কা এমন মেয়ে যার প্রতি পুরুষের
এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি।
উপরোক্ত মহিলাগণ ছাড়া কোন পুরুষের জন্য অন্য
কোন মহিলার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। সম্পূর্ণ হারাম।
দলিলের উৎসঃ
সূরা আহযাব-৫৩-৫৫
সূরা নিসা-২৩
সূরা নূর-৩০-৩১
তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন-২/২৫৬-৩৬১
তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন-৬/৪০১-৪০৫
তাফসীরে মাযহারী-২/২৫৪-২৬১ ও ৬/৪৯৭-৫০২
দ্বীন শিখতে মেয়েদের গায়রে
মাহরাম শিক্ষকদের সামনে যাওয়া প্রসঙ্গে
আমার বড় বোনের বয়ষ ২২ বছর। এখন সে কোরআন
শুদ্দ করে পরা শিখতে চায় এবং এই জন্য সে বাসাতে হুজুর টিউটর রেখে পরতে চায়। এটি কতো
টা জায়েজ এবং তার পরদা কেমন হউয়া উচিত?
জবাবঃ
আপনার বড় বোনের উপর পূর্ণ শরয়ী পর্দা পালন
করা আবশ্যক। তাই তিনি বেগানা পুরুষের সামনে যেতে পারবেন না। সে হিসেবে দ্বীন শিখার
জন্যও পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। শরয়ী পর্দা মেনেই দ্বীন শিখতে হবে।
সুতরাং প্রথমেই চেষ্টা করুন কুরআন সহীহ শুদ্ধভাবে
জানেন এমন কোন মহিলা শিক্ষিকা রেখে তাকে কুরআন শিখানোর ব্যবস্থা করা।
এটা সম্ভব না হলে একজন বয়স্ক বিবাহিত [সন্তানের
জনক হলে উত্তম] শিক্ষককে পড়াতে সুযোগ দিন। যিনি আপনার বোনকে পর্দার আড়াল থেকে পড়াবেন।
এটাও সম্ভব না হলে যেকোন একজন শিক্ষককে যিনি
কুরআনে কারীম সহীহ শুদ্ধভাবে পড়াতে জানেন এমন একজনকে পড়াতে অনুমতি দিন। যিনি পর্দার
আড়াল থেকে পড়াবেন। আর পড়ানোর সময় আশপাশে অভিবাবক কেউ থাকলে উত্তম হবে।
দলিলঃ
অনুবাদ- কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-“মুমিনদেরকে
বলুন, তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের
জন্য পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন
নারীদের বলুন তারা যেন তাদের চক্ষুকে অবনত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। {সূরা নূর-৩০,৩১}।
অনুবাদ-হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের
মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে বিনম্র হয়ে কথা বলনা, যাতে
যাদের মাঝে পৌরষত্ব আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল।
এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে। {সূরা আহযাব-৩২}।
অনুবাদ-হযরত ওকবা বিন আমের রাঃ থেকে বর্ণিত।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“তোমরা মহিলাদের নিকট [একাকি] প্রবেশ করা থেকে বিরত থাক। আনসারদের
মধ্যে এক ব্যক্তি বলল-‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! দেবরের ব্যাপারে কি নির্দেশ?’ তিনি বললেন-‘দেবরতো
মৃত্যুতুল্য’”। {সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৪৯৩৪, সহীহ মুসলিম,
হাদিস নং-৫৮০৩, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৩৬, সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং-১৩২৯৬,
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১১৭১, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৬৪২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস
নং-৯২১৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৫৮৮, মুসনাদে আবি আওয়ানা, হাদীস নং-৪০৩২, মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস নং-১৭৩৯৬, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৭৯৫৪}। হাদিসের মান সহিহ।
অনুবাদ-হযরত ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ
ইরশাদ করেছেন-যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয়
ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়। (সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২১৬৫,
সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৫৮৬)।
(সমাপ্ত)
রিলেটেড অন্য বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুনঃ
(ক) একটি আদর্শ পরিবার গঠনে অভিভাবকের ভূমিকা।
কুরআন ও সহিহ হাদিস ভিত্তিক লেখকের অন্যান্য সকল বই এক সাথে দেখতে চাইলে
PMMRC এর উপর ক্লিক করুন।
Author and compiler:
Md.
Izabul Alam-M.A., C.In. Ed. (Islamic Studies-Rangpur Carmichael University
College, Rangpur), prominent Islamic thinker, researcher, writer and Blogger.
(1)
GENERAL DIRECTOR-MEDINA SAHIH HADITH RESEARCH CENTER (MSHRC)
(2)
GENERAL DIRECTOR- PURE MUSLIM MAKING RESEARCH CENTER (PMMRC),
(3)
DIRECTOR-Bangladesh BCS Coaching (BBC)
(4)
PRINCIPAL -PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI)
(5)
GENERAL DIRECTOR AND CONSULTAT-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES (PIS)
(6)
EDITOR-BDC CRIME NEWS24
(7)
GENERAL SECRETARY- BPEWS
আপনিও
হোন ইসলামের প্রচারক
বইয়ের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য
করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Addressসহ অন্য যেকোনো সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।
এজন্যে আপনি বসে বসে সওয়াব পেতে থাকবেন।
(ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত,
মানুষের (কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে
এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)।
(খ) তিনি আরো বলেন, “তার চেয়ে ভাল কথা আর
কি হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ
মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)।
(গ)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ
সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে
না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু
গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৫৮, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৬৬৯৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৬০, ইসলামিক সেন্টার ৬৬১৪)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(ঘ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে
কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই
তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৩৪৬১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১২, হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৫৪৮, রিয়াদুস
সলেহিন, হাদিস নং ১৩৮৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(ঙ) জারীর ইবনু ’আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ)
হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলামে যে ব্যক্তি কোন নেক কাজ চালু করলো সে এ চালু করার
সাওয়াব তো পাবেই, তার পরের লোকেরা যারা এ নেক কাজের উপর ’আমল করবে তাদেরও সমপরিমাণ
সাওয়াব সে পাবে। অথচ এদের সাওয়াব কিছু কমবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ রীতির
প্রচলন করলো, তার জন্য তো এ কাজের গুনাহ আছেই। এরপর যারা এ মন্দ রীতির উপর ’আমল করবে
তাদের জন্য গুনাহও তার ভাগে আসবে, অথচ এতে ’আমলকারীদের গুনাহ কম করবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২১০, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
২২৪১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১০১৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(চ) আবূ মাস্’ঊদ আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে কোন কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শন করে, সে উক্ত কার্য সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২০৯, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৭৯৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার ৪৭৪৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
Please Share On

No comments:
Post a Comment