বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পর্দা
সংক্রান্ত কুরআন ও হাদিসের বিধান
পর্দার ব্যাপারে কুরআনের বিধানঃ
(১) আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন
“তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার
আড়াল থেকে চাইবে”। (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩)।
এ আয়াতের শানে নুযূলের বর্ননায় বিশেষভাবে
নবী-পত্নীগণের উল্লেখ থাকলেও এ বিধান সমগ্র উম্মতের জন্য নাযিল হয়েছে । (মা’আরিফুল কুরআন-৭/১৩১)।
উক্ত আয়াতের বিধানের সারমর্ম এই যে, বেগানা
মহিলাদের নিকট থেকে পরপুরুষদের কোনো ব্যবহারিক বস্তু, পাত্র ইত্যাদি নেয়া জরুরী হলে
পুরুষগণ সামনে এসে নিবে না; বরং আড়াল থেকে চাইবে । আরও বলা হয়েছে যে, পর্দার এই বিধান
পুরুষ ও নারী উভয়ের অন্তরকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পবিত্র রাখার উদ্দেশ্যে দেয়া
হয়েছে । (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩)।
এখানে প্রানিধানযোগ্য বিষয় এই যে, উক্ত আয়াতে
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর পুণ্যাত্মা পত্নীগণকে পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে, যাদের অন্তরকে
পাক-সাফ রাখার দায়িত্ব আল্লাহ্ তা’আলা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন, যেমন ইরশাদ হয়েছে-
“তিনি কেবল তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে
এবং তোমাদেরকে পূর্নরুপে পূত-পবিত্র রাখতে চান”। (সূরা
আহযাব-৩৩)।
অপরদিকে যেসব পুরুষকে সম্বোধন করে এই বিধান
দেয়া হয়েছে, তারা হলেন রাসূলে করীম (সঃ)এর সাহাবায়ে কেরাম, যাদের মর্যাদা নবীগণের
(আঃ) পরে সকলের উর্ধে । সকল মুসলমান, গওস, কুতুব ও আবদালের মর্তবা একজন সর্বনিম্ন মর্যাদার
সাহাবীর সমান হতে পারে না, এ কথার উপর উম্মতের ইজমা হয়ে গেছে; কিন্তু এতদসত্তেও তাঁদের
আন্তরিক পবিত্রতা রক্ষা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য পুরুষ ও নারী সাহাব
(রাঃ)গনের মধ্যে পর্দার ব্যবস্থা করা জরুরী ঘোষনা করা হয়েছে ।
(২) আরও
ইরশাদ হয়েছেঃ
“(হে মু’মিন মহিলাগন!) তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান
করবে এবং পূর্বের জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বের হবে না”। (সূরা আহযাব-৩৩)।
উক্ত আয়াতে পর্দা সম্পর্কিত আসল হুকুম এই
যে, নারীগন গৃহেই অবস্থান করবে অর্থাৎ, জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত তারা বাইরে বের হবে না।
সাথে সাথে একথাও বলা হয়েছে যে, যেভাবে ইসলামপূর্ব অজ্ঞ ও অন্ধ যুগে নারীরা প্রকাশ্যভাবে
বেপর্দায় চলাফেরা করত, তোমরা কখনো সে রকম চলাফেরা কর না। বর্নিত আয়াতে পর্দা সম্পৃক্ত
দু’টি বিষয় জানা গেল,
প্রথমতঃ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ তা’আলার নিকট
নারীদের বাড়ী থেকে বের না হওয়াই কাম্য। গৃহকর্ম তথা গৃহের আভ্যন্তরিন কর্ম সম্পন্ন
করার উদ্দেশ্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এতেই তারা পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করবে। যেমন
স্বামীর সেবা যত্ন, সন্তানদের দ্বীনী ও কুরআনী তা’লীম এবং নিজের ইবাদত বন্দেগীই তার
জীবনের মূল লক্ষ্য।
দিতীয়তঃ শর’য়ী প্রয়োজনের তাকীদে যদি নারীকে
বাড়ী থেকে বের হতেই হয়, তাহলে তার বের হওয়া জায়েয আছে বটে, তবে শর্ত হল যেন সৌন্দর্য
প্রদর্শন না করে বের হয় বরং চেহারাসহ গোটা শরীর আবৃত করে ফেলে এমন বোরকা অথবা চাদর
ব্যবহার করে বের হবে । (মা’আরিফুল কুরআন, ৭/১৩৩)।
(৩) কুরআন শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছ,
“হে নবী পত্নীগন! (উদ্দেশ্য উম্মতের সকল মহিলা)
তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে পরপুরুষের সাথে এমন কোমল
ও আকর্ষনীয় ভঙ্গীতে কথা বলো না, যার ফলে যে ব্যক্তির অন্তরে ব্যধি রয়েছে সে কু-বাসনা
করবে। আর তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলন”। (সূরা আহযাব, আয়াত
৩২)।
উক্ত আয়াতটিও নারীদের পর্দা সম্পর্কিত, তাঁদের
কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত। আয়াতে فَلَا
تَخْضَعْنَ
بِالْقَوْلِ
এর ব্যাখ্যা হচ্ছে যদি পরপরুষের সাথে পর্দার অন্তরাল থেকে কথা বলা প্রয়োজনীয়তা দেখা
দেয়, তাহলে বাক্যালাপের সময় নারী কন্ঠের স্বভাবসুলভ কোমলতা ও লাজুকতা কৃত্রিমভাবে
পরিহার করবে। অর্থাৎ, এমন কোমলতা বা শ্রোতার মনে অবাঞ্ছিত কামনা সঞ্চার করে, তার কোন
সুযোগ দিবে না। যেমন এর পরে এরশাদ হয়েছে فَيَطْمَعَ
الَّذِي
فِي
قَلْبِهِ
مَرَضٌ
অর্থাৎ এরুপ কোমল কন্ঠে বাক্যালাপ করো না, যা ব্যধিগ্রস্থ অন্তর বিশিষ্ট লোকের মনে
কু-লালসা ও আকর্ষন সৃষ্টি করে।
মোদ্দাকথা, নারীদেরকে পরপুরুষের থেকে নিরাপদ
দূরত্বে অবস্থান করে পর্দার এমন উন্নত স্তর অর্জন করা উচিত, যাতে কোন অপরিচিত দূর্বল
ঈমান বিশিষ্ট লোকের অন্তরে কোন কামনা ও লালসা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, তার নিকটেও
ঘেষবা না। বরং তার বিরুদ্ধে অবস্থা ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। (মা’আরিফুল কোরআন-৭/১৩২)।
স্বর্ণযুগের সোনার মানুষ পুন্যাত্মা নবী-পত্নীগনকে
যদি স্বর্ণযুগের স্বর্ণমানব সাহাবায়ে কেরামের সাথে পর্দার আড়াল করা সত্ত্বেও কথা
বলার ক্ষেত্রে এমন কড়া নির্দেশ দেয়া হয়ে থাকে যে, তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপও নিয়ন্ত্রণে
রাখতে হবে। তাহলে আধুনিক যুগের নারী-পুরুষদের কি পর্দার প্রয়োজন নেই? অথবা পর্দার
প্রয়োজন থাকলেও তাঁদের কন্ঠ ও বাক্যালাপ নিয়ন্ত্রন রাখার প্রয়োজন নেই ? অবশ্যই প্রয়োজন
রয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না; বরং বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষনের পর সে প্রয়োজন
আরো তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
পর্দার হুকুম হাদীসের আলোকেঃ
(১)
উকবা ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কোনো নারীদের নিকট গমন (নিঃসঙ্গভাবে গৃহে প্রবেশ) করো না।
(এটা শুনে) জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রসূল! দেবর সম্পর্কে আপনি কি বলেন?
(উত্তরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দেবর তো মরণসম বা মরণের ন্যায়।
(মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩১০২,
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবঃ) ৫২৩২, সহীহ মুসলিম
(হাদীস একাডেমী)হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৫৫৬৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১৭২, আহমদ ১৭৩৫২,
আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৫২)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
উল্লেখিত হাদীসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয়
হলো, রাসুলুল্লাহ (সঃ) স্ত্রীর শ্বশুরালয়ে আত্মীয়দেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করেছেন
। মৃত্যুকে মানুষ যেভাবে ভয় পায়, বেপর্দার গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এ সমস্ত আত্মীয়দেরকে
তেমন ভয় করতে বলা হয়েছে । তাই মহিলাদের জন্য দেবর, ভাশুর, বেয়াই প্রমুখ শ্বশুরালয়ের
সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে কঠোরভাবে পর্দা করা একান্ত অপরিহার্য ।
পর্দা তো সকল পরপুরুষের সাথেই করা অপরিহার্য,
কিন্তু শ্বশুরালয়ের আত্মীয়দেরকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করা হয়েছে এই কারনে যে, এ সকল
আত্মীয়কে আপন মনে করে গৃহের ভিতর প্রশ্রয় দেয়া হয় এবং নিঃসঙ্কোচে খোলামেলাভাবে
দেখা-সাক্ষাৎ ও হাসি-তামাশা করা হয় । যার পরিনাম হয় ভয়াবহ।
বলাবাহুল্য, একজন অপরিচিত পুরুষের পক্ষে কোন
বেগানা স্ত্রীলোকের উপর লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করা ততটুকু সহজ হয় না, যতটুকু সহজ হয়
এ সকল আত্মীয়ের পক্ষে ।
তাই সকল স্ত্রী লোকদের জন্য জরুরী সর্বপ্রকার
পরপুরুষের সাথে পর্দা করার পাশাপাশি এ ধরনের গায়রে মাহরাম পুরুষ আত্মীয়দের থেকে নিজেকে
সম্পূর্নরুপে আড়াল করে রাখা । আর এ সমস্ত পুরুষেরও কর্তব্য নিকট আত্মীয়ের বিবিদের
থেকে কঠোরভাবে পর্দা করা ।
(২) উম্মুল মু’মিনীন হযরত সালামা (রাঃ) বর্ননা
করেন, আমি এবং মাইমূনা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম । ইতিমধ্যে অন্ধ
সাহাবী হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) সেখানে আসতে লাগলেন । তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে
বললেন, তোমরা তার থেকে পর্দা কর, আড়ালে চলে যাও । আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! তিনি
তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন না । রাসূল (সঃ) ইরশাদ করলেন, তোমরাও কি অন্ধ ? তোমরা
কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না ? (সুনান আবূ দাউদ (আলবানী একাডেমী),
আল্লামা আলবানী একাডেমী নাম্বারঃ ৪১১২,, সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হুসাইন আল-মাদানী
নাম্বারঃ ২৭৭৮, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩১১৬)।
উক্ত হাদীস দ্বারা এটাই প্রমানিত হয় যে, পর্দা
নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই। কোনো পুরুষ যেমন কোনো পর নারীর প্রতি তাকাতে পারবে না, কোনো
নারীও তেমনি কোনো পর পুরুষের দিকে তাকাতে পারবে না । এখানে সু-দৃষ্টি আর কু-দৃষ্টিরও
কোনো পার্থক্য নেই। কারন, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম যেমন একজন
পূত পবিত্র স্বভাবের অধিকারী, পূন্যবান মহান বুযুর্গ সাহাবী; অপরদিকে হযরত উম্মে সালামা
(রাঃ) (রাঃ) ও মাইমূনা (রাঃ) উভয়ই হলেন উম্মত-জননী এবং প্রিয়তম নবী (সঃ) এর জীবন
সঙ্গিনী। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে কু-দৃষ্টির কথা চিন্তাই করা যায় না। তারপরও পর্দা করতে
আদেশ করা হয়েছে । কাজেই সহজেই অনুমেয় যে, পর্দা কত গুরুত্বপূর্ন বিষয় এবং তা পালন
করা কত জরুরী ।
(৩) বনু মাস্’ঊদ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমণী মাত্রই আবরণীয় (বিষয়), যখন সে বের
হয় তখন শায়ত্বন তাকে সুশোভিত করে তোলে বা শায়ত্বন হাত আড় করে তার প্রতি তাকায়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩১০৯, সুনান
আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হুসাইন আল-মাদানী নাম্বারঃ ১১৭৩, ইরওয়া ২৭৩, তা’লীক আলা ইবনি খুযাইমা ১৬৮৫)। হাদিসের
মানঃ সহিহ (Sahih)।
অর্থাৎ, পরপুরুষদের নজরে তাকে আকর্ষনীয় করে
উপস্থাপন করে । উক্ত হাদিসের ষ্পষ্ট ভাষ্য হলোঃ পর্দার ভিতর থাকাটাই নারীর জন্য শোভনীয়
। যদি কোণ নারী ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তান পুরুষদের মনে কু-মন্ত্রনা দেয় এবং মহিলার
দ্বারা পুরুষদেরকে ফিতনায় ফেলতে চেষ্টা করে । যেমন এক হাদিসে বর্নিত হয়েছে যে, “মহিলারা
শয়তানের জাল ।” (রাযীন)
(৪) আরো ইরশাদ হয়েছে
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন আসমা বিনতু
আবূ বকর (রাঃ) পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
নিকট গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং
বললেনঃ হে আসমা! মহিলা যখন বালেগা হয়, তখন তার শরীরের কোন অঙ্গ দৃষ্ট হওয়া উচিত নয়,
তবে কেবলমাত্র এটা এবং এটা এ বলে তিনি তাঁর মুখ এবং তাঁর দু’ হাতের তালুর দিকে ইঙ্গিত
করলেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ
৪৩৭২, সুনান আবূ দাউদ (আলবানী একাডেমী), আল্লামা আলবানী একাডেমী নাম্বারঃ ৪১০৪)। হাদিসের
মানঃ সহিহ (Sahih)।
এখানে বেগানা পরপুরুষের কথা উল্লেখ নাই। সুতরাং
গৃহে অবস্থানকালে যদি পরপুরুষ না থাকে তাহলে সেখানে মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখায়
সমস্যা নেই।
কিন্তু অন্য বর্ননায় বেগানা পরপুরুষের সামনে
মেয়েদের মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে । (ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া - ৪/১০৬, কিফায়াতুল মুফতী - ৫/৩৮৮)।
যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে-
আব্দুল খাবীর ইবনু সাবিত ইবনু কায়িস শাম্মাস
(রাঃ) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (তার দাদা) বলেন, একদা উম্মু খাল্লাদ
নামক এক মহিলা মুখমণ্ডল আবৃত অবস্থায় তার নিহত পুত্রের কথা জিজ্ঞেস করতে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবী
মহিলাকে বললেন, তুমি মুখমণ্ডল আবৃত অবস্থায় তোমার ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতে এসেছো। তিনি
বললেন, যদিও আমার ছেলেকে হারিয়েছি, কিন্তু আমার লজ্জা-শরম তো হারাইনি। তখন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ছেলের জন্য দু’জন শহীদের সমান সাওয়াব
রয়েছে। উম্মু খাল্লাদ বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! তা কিসের জন্য? তিনি বললেনঃ কারণ তাকে
আহলে কিতাব হত্যা করেছে। (সুনান আবূ দাউদ (আলবানী একাডেমী),
আল্লামা আলবানী একাডেমী নাম্বারঃ ২৪৮৮)।
উপরোক্ত হাদীস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে,
মেয়েদের পর্দা তথা মোটা ও ঢিলাঢালা কাপড় দ্বারা চেহারাসহ সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা জরুরী।
পরপুরুষকে শরীরের কোন অংশ তারা দেখাতে পারবে না।
(৫) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,
একদম কট্টরপন্থী ইসলামি আদর্শে গড়া মুসলমান
ব্যতীত এমন কোনো নারী পুরুষ দেখা যায় না যে, একে অপরের দিকে না তাকায়। দুষ্ট প্রকৃতির
পুরুষ বা ছেলেরা, মেয়েদের সাধারনত তিনটি অঙ্গের দিকে তাকায়। প্রথমত মুখের দিকে তাকায়,
দ্বিতীয়ত বুকের দিকে এবং সামনে থেকে পিছনে যাওয়ার পর হিপ এর দিকে তাকায়। এই তিনটি অঙ্গের
দিকে তাকিয়ে পুরুষ মেয়েটির পুরো দেহটা মনের মধ্যে অংকন করে স্বপ্নে ভাসতে থাকে। খোলা
মেলা ড্রেসের নারী বা শর্ট, টাইট কিংবা পাতলা কাপড় পরিহিত নারী হলে তার প্রতিচ্ছবি
দ্রুত মনের মধ্যে অংকিত হয়। আর পর্দানশীলা নারী হলে এইসব অঙ্গ দেখতেও পায় না আর মনের
মধ্যে প্রতিচ্ছবিও আনতে পারে না। দুষ্ট প্রকৃতির একজন নারী ইচ্ছে করলে একই রাতে হাজার
হাজার যুবকের স্বপ্ন দোষ ঘটাতে পারে। আর পুরুষের মনে একজন নারীর প্রতিচ্ছতি একবার গেঁথে
গেলে তার স্মৃতি ভ্রম হতে কয়েক যুগ লেগে যায়। এজন্যেই ইসলাম নারী পুরুষ উভয়কেই পর্দা
করতে হুকুম দিয়েছে।
(ক)
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘‘তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।’’ লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! ওখানে আমাদের
বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা (ওখানে) বসে বাক্যালাপ করি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার
হক আদায় কর।’’ তারা নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! রাস্তার হক কী?’ তিনি বললেন, ‘‘দৃষ্টি
অবনত রাখা, (অপরকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ
দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।’’ (সহীহ বুখারী (তাওহীদ
পাবলিকেশন) ২৪৬৫, ৬২২৯, সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) ৪৮১৫, আহমাদ ১০৯১৬, ১১০৪৪, ১১১৯২,
রিয়াদুস সলেহীহ-১৬৩১, আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৮৩)। হাদিসের মানঃ
সহিহ হাদিস।
(খ) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ).....ইসহাক
ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহার আব্বা আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা
(গৃহের সম্মুখের উন্মুক্ত) উঠানে বসে গল্প-গুজব করতেছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে বললেন, রাস্তা-ঘাটে বসে বৈঠকে
করা তোমাদের কি আচরণ? রাস্তাঘাটে মাজলিস করা তোমরা ছেড়ে দাও। আমরা বললাম, আমরা তো
কাউকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশে বসিনি। আমরা বসে শলা-পরামর্শ ও আলোচনা করছি। তিনি বললেন,
যদি তা না করলেই নয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে- আর তা হলো চোখ নিচু রাখা, সালামের
উত্তর দেয়া এবং ভাল কথা বলা। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৫৫৪০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৬২, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৮৪)
(মুসলিম ২১৬১, আহমাদ ১৫৯৩২) রিয়াদুস সলেহীহ-১৬৩২। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
(গ) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ
শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ)......জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি
বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আচমকা নজর পড়া ব্যাপারে প্রশ্ন
করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেনো আমি আমার দৃষ্টি দ্রুত ফিরিয়ে নেই। (সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৫৫৩৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২১৫৯,
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৪৫৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৪৮১, সূনান
আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ২৭৭৬, আবূ সুনান দাউদ ২১৪৮, আহমাদ ১৮৬৭৯, ১৮৭১৫, ১৯১৬০, দারেমী
২৬৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৭১, রিয়াদুস সলেহীহ-১৬৩৩। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস।
(ঘ) বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে বললেন, হে ‘আলী!
(কোনো নারীর প্রতি) আকস্মিক একবার দৃষ্টিপাতের পর আবার দৃষ্টিপাত করো না। তোমার জন্য
প্রথম দৃষ্টি (অনিচ্ছার কারণে) জায়িয, পরবর্তী দৃষ্টি জায়িয নয়। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৩১১০, তিরমিযী ২৭৭৭, সুনান আবূ দাউদ
(তাহকিককৃত) ২১৪৯, আহমাদ ২২৯৯১, সহীহ আল জামি ৭৯৫৩)। হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।
(ঙ) আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, একবার কুরবানীর দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল ইবনু
’আব্বাস (রাঃ)-কে আপন সওয়ারীর পিঠে নিজের পেছনে বসালেন। ফাযল একজন সুপুরুষ ছিলেন। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মাসআলা মাসায়িল বলে দেয়ার জন্য আসলেন। এ সময়
খাশ’আম গোত্রের এক সুন্দরী নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট
একটা মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য আসল। তখন ফাযল তার দিকে তাকাতে লাগলেন। মহিলাটির সৌন্দর্য
তাঁকে আকৃষ্ট করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাযল এর দিকে ফিরে দেখলেন যে,
ফাযল তার দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি নিজের হাত পেছনের দিকে নিয়ে ফাযল এর চিবুক ধরে ঐ নারীর
দিকে না তাকানোর জন্য তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন।
এরপর স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর
রাসূল! আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর যে হাজ্জ ফরজ হবার বিধান দেয়া
হয়েছে, আমার পিতার উপর তা এমন অবস্থায় এসেছে যে, বৃদ্ধ হবার কারণে সওয়ারীর উপর বসতে
তিনি অক্ষম। যদি আমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ আদায় করে নেই, তবে কি তার পক্ষ থেকে তা আদায়
হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হাঁ। (সহিহ বুখারী ৬২২৮, ১৫১৩,
আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬৮২)। হাদিসের মান সহিহ।
আসলে নারী-পুরুষের ৮০% নোংরামী সৃষ্টি হয় একে
অপরের দিকে তাকানোর মাধ্যমে। তাই ইসলাম নারীদের দিকে তাকানো নিষেধ করেছে। তবে আচমকা
চোখের সামনে পড়লে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিতে হবে এবং নারীদের ফেতনা থেকে বাঁচার দোয়া পাঠ করতে
হবে।
(৬)
আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল।
তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম।
তারা আমাদের সামনা-সামনি আসলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মুখমণ্ডল
ঢেকে ফেলতেন। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম। (সুনান আবূ দাউদ (আলবানী একাডেমী), আল্লামা আলবানী একাডেমী নাম্বারঃ
১৮৩৩)।
পর্দা সঙ্ক্রান্ত জরুরী মাসায়েল
মেয়েরা যখন কারীবুল বুলুগ বা বালেগা হওয়ার
কাছাকাছি পর্যায়ে পৌছে; অর্থাৎ তারা নিজেরা কামভাব অনুধাবন করতে পারে এবং তাঁদের দিকে
তাকালে অন্য পুরুষের মনে কামভাব সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই তাঁদের জন পর্দা করা জরুরী হয়ে
পড়ে । (আহসানুল ফাতাওয়া, ৮/৩৭)।
হাকীমুল উম্মাত মুজাদ্দিলুল মিল্লাত হযরত মাওলানা
আশরাফ আলী থানভী (রঃ) বলেন যে, গায়ের মাহরাম অনাত্মীয় হলে তাঁদের থেকে সাত বছরের
আগে থেকেই পর্দা করা উচিত এবং গায়ের মাহরাম আত্মীয় হলে সাত বৎসর থেকেই পর্দা করা
উচিত । কারন অনেক ক্ষেত্রে সাবালিকা মহিলা সামনে আসা-যাওয়া করাতে এ পরিমান ফিতনার
আশঙ্কা নেই, যে পরিমান আশঙ্কা থাকে কারীবুল বুলুগ মেয়েদের সামনে আসা যাওয়া করাতে
। (ইসলাহে খাওয়াতীন-৩৭২)।
(সমাপ্ত)
রিলেটেড অন্যান্য বিষয় জানতে এদের উপর ক্লিক
করুন,
(২) একটি আদর্শ পরিবার গঠনে অভিভাবকের ভূমিকা।
(৩) নারীদের মুখমন্ডল কি পর্দা করতে হবে?
কুরআন ও সহিহ হাদিস ভিত্তিক লেখকের অন্যান্য সকল বই এক সাথে দেখতে চাইলে
PMMRC এর উপর ক্লিক করুন।
Author and compiler:
Md.
Izabul Alam-M.A., C.In. Ed. (Islamic Studies-Rangpur Carmichael University
College, Rangpur), prominent Islamic thinker, researcher, writer and Blogger.
(1)
GENERAL DIRECTOR-MEDINA SAHIH HADITH RESEARCH CENTER (MSHRC)
(2)
GENERAL DIRECTOR- PURE MUSLIM MAKING RESEARCH CENTER (PMMRC),
(3)
DIRECTOR-Bangladesh BCS Coaching (BBC)
(4)
PRINCIPAL -PGDHRM TRAINING INSTITUTE (PTI)
(5)
GENERAL DIRECTOR AND CONSULTAT-PRIVATE INVESTIGATION SERVICES (PIS)
(6)
EDITOR-BDC CRIME NEWS24
(7)
GENERAL SECRETARY- BPEWS
আপনিও
হোন ইসলামের প্রচারক
বইয়ের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য
করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Addressসহ অন্য যেকোনো সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।
এজন্যে আপনি বসে বসে সওয়াব পেতে থাকবেন।
(ক) আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত,
মানুষের (কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে
এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)।
(খ) তিনি আরো বলেন, “তার চেয়ে ভাল কথা আর
কি হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ
মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)।
(গ)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ
সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে
না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু
গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ১৫৮, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৬৬৯৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫৬০, ইসলামিক সেন্টার ৬৬১৪)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(ঘ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে
কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই
তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। (সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৩৪৬১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১২, হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৫৪৮, রিয়াদুস
সলেহিন, হাদিস নং ১৩৮৮)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(ঙ) জারীর ইবনু ’আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ)
হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইসলামে যে ব্যক্তি কোন নেক কাজ চালু করলো সে এ চালু করার
সাওয়াব তো পাবেই, তার পরের লোকেরা যারা এ নেক কাজের উপর ’আমল করবে তাদেরও সমপরিমাণ
সাওয়াব সে পাবে। অথচ এদের সাওয়াব কিছু কমবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন মন্দ রীতির
প্রচলন করলো, তার জন্য তো এ কাজের গুনাহ আছেই। এরপর যারা এ মন্দ রীতির উপর ’আমল করবে
তাদের জন্য গুনাহও তার ভাগে আসবে, অথচ এতে ’আমলকারীদের গুনাহ কম করবে না। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২১০, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
২২৪১, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১০১৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
(চ) আবূ মাস্’ঊদ আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে কোন কল্যাণের দিকে পথপ্রদর্শন করে, সে উক্ত কার্য সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ২০৯, সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী) ৪৭৯৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার ৪৭৪৭)। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)।
Please Share On

No comments:
Post a Comment